ইন্ডিয়ান কাশির সিরাপ খেয়ে উজবেকিস্তানের ১৮ শিশুর মৃত্যু
উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২২ । আপডেট ১১:০০
ইন্ডিয়ায় উৎপাদিত কফ সিরাপ খেয়ে উজবেকিস্তানের ১৮ শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উজবেকিস্তানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘নিহত শিশুরা ইন্ডিয়ার নদীয়ায় উৎপাদিত ম্যারিয়ন বায়োটেকের‘‘ডক-১ ম্যাস’’ সিরাপটি সেবন করেছিল।
‘ওই সিরাপের একটি ব্যাচ ল্যাবরেটরিতে টেস্ট করে বিষাক্ত‘‘ইথিলিন গ্লাইকোল’’ এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে’, জানিয়েছে স্বাস্থ মন্ত্রণালয়।
তারা আরও জানিয়েছে, সিরাপটি কোনো চিকিৎসকের পেসক্রিপশন ছাড়াই স্থানীয় ডিসপেনসারির পরামর্শে খাওয়ানো হয়েছিল, যার পরিমান ছিল একটি শিশুর আদর্শের ডোজের চেয়েও বেশি।
আরও জানা গেছে, হাসপাতালে ভর্তি করার আগে প্রত্যেক শিশুকে প্রতিদিন অন্তত আড়াই থেকে পাঁচ মিলি করে দিনে তিন থেকে চারবার খাওয়ানো হতো। এই ডোজ প্রত্যেক শিশুকে অন্তত দুইদিন থেকে সাতদিন পর্যন্ত দেওয়া হয়েছিল।
ঠাণ্ডা-কাশি থেকে প্রতিকার পেতে শিশুদের অভিভাবকরা সিরাপটি খাইয়েছিলেন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ১৮ শিশুর মৃত্যুর পর ‘ডক-১ ম্যাস’ ট্যাবলেট ও সিরাপটি উজবেকিস্তানের সকল ফার্মেসি থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এ ছাড়া সময়পযোগী পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সংস্থার সাত কর্মীকে বহিস্কার করা হয়েছে।
জানা গেছে, ঘটনার তদন্তে সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন (সিডিএসসিও) এবং উত্তরপ্রদেশ ড্রাগস কন্ট্রোলিং এবং লাইসেন্সিং অথরিটির পক্ষ থেকে যৌথ তদন্ত করা হবে।
এঘটনায় উজবেকিস্তান থেকে একটি হতাহতের মূল্যায়ন প্রতিবেদনও চাওয়া হয়েছে।
ইন্ডিয়ান উৎপাদিত ওষুধ খেয়ে হতাহতের বিষয়টি চলতি বছরের দ্বিতীয় ঘটনা। বছরের শুরুতে আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়াতে ইন্ডিয়ান উৎপাদিত কফ সিরাপ থেয়ে ৭০ শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। ওষুধটি তৈরি করেছিল হরিয়ানাকেন্দ্রিক ওষুধ প্রস্তুতকারি প্রতিষ্ঠান মাইডেন ফার্মাসিটিক্যালস।
মান লঙ্ঘনের অভিযোগে সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন চলতি বছরের অক্টোবরে মাইডেন ফার্মাসিটিক্যালস এর শনিপথ ইউনিটটি বন্ধ করে দিয়েছিল।
বিশ্ব স্বাস্থ সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এর আগে বলেছিল, ‘মাইডেনের তৈরি কাশির সিরাপে ‘‘অগ্রহণযোগ্য’’ পরিমাণে ডাইথাইলিন গ্লাইকোল এবং ইথিলিন গ্লাইকোল রয়েছে। যা এতটাই বিষাক্ত যে, এটা কিডনি নষ্ট করতে পারে।’
যদিও ডব্লিউএইচও’র বিবৃতির প্রতিক্রিয়ায় ইন্ডিয়ান ড্রাগস কন্ট্রোলার জেনারেল ভিজি সোমানি দাবি করেছিলেন, ‘মাইডেনের ওষুধ ‘‘নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট মেনে’’ উৎপাদন করা হয়। তাদের ওষুধে বিষাক্ত কোনো পদার্থ পাওয়া যায়নি।’
এইডি/এ

