পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা: পূর্বাভাসের তুলনায় রুশ অর্থনীতি কম সংকুচিত

পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা: পূর্বাভাসের তুলনায় রুশ অর্থনীতি কম সংকুচিত
????????????????????????????????????

উত্তরদক্ষিণ । শনিবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ । আপডেট ২২:০০

চলতি বছরে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন। এ সংঘাতের জের ধরে পশ্চিমা দেশগুলো একের পর এক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রাশিয়াকে ঘিরে। তেল-গ্যাস-জ্বালানি থেকে শুরু করে দেশটির ব্যাংকগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল রাশিয়াকে আন্তর্জাতিক পরিসর থেকে বিচ্ছিন্ন এবং আর্থিকভাবে দুর্বল করে দেয়া। তবে এসব নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও যতটা প্রত্যাশা করা হয়েছিল তার চেয়েও ভালো চলছে রাশিয়ার অর্থনীতি।

দেশটির পরিসংখ্যান সংস্থার প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, গত ১১ মাসে রাশিয়ার অর্থনীতি আশঙ্কার তুলনায় কম সংকুচিত হয়েছে। যদিও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নিষেধাজ্ঞার প্রভাব মূল্যায়নের যথাযথ সময় এখনো হয়নি।

রাশিয়ার অর্থমন্ত্রী অ্যান্টন সিলুয়ানভ বৃহস্পতিবার দেশটির বার্তা সংস্থার বরাত দিয়ে বলেন, রাশিয়ার জিডিপি বছরের শেষ নাগাদ ২ দশমিক ৭ শতাংশ কমতে পারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের পক্ষ থেকেও এ ধরনের পূর্বাভাস দেয়া হয়। সেখানে অবশ্য বলা হয়, ২০২২ সালে রাশিয়ার অর্থনৈতিক সংকোচন ৩ দশমিক ৪ শতাংশর নিচে থাকবে। তবে সময়ের সঙ্গে ক্রমেই দেশটিতে অর্থনৈতিক সংকোচনের মাত্রা প্রশমিত হয়েছে বা রাশিয়া সামলে উঠতে পেরেছে।

ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর অর্থনৈতিক সংকোচনের পূর্বাভাসের মাত্রা খানিকটা তীব্র ছিল। তাছাড়া একের পর এক পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার পর ধারণা করা হয়েছিল, রাশিয়ার অর্থনৈতিক সংকোচনের মাত্রা দুই অংকের সংখ্যা ছাড়িয়ে যাবে। তবে তা ঘটেনি।

রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মিশুস্টিন বুধবার বলেন, রুশ অর্থনীতি পশ্চিমা বিশ্লেষকদের নেতিবাচক পূর্বাভাসকে অস্বীকার করেছে। এ সময় তিনি ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত জিডিপির ২ শতাংশ পতনের বিষয়টি উল্লেখ করেন।

এদিকে বিশেষজ্ঞরা অবশ্য বলেছেন, আগামী মাসগুলোয় রাশিয়ার অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে উঠতে পারে। কেননা রাশিয়ার তেলের ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে মূল্য বেঁধে দেয়ার উদ্যোগের সম্পূর্ণ প্রভাব এখনো প্রতিফলিত হয়নি। প্রভাবটি যখন প্রতিফলিত হবে তখন তা রাশিয়ার অর্থনীতিকে স্বাভাবিকভাবেই প্রভাবিত করবে। এদিকে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডিসেম্বরের ওভারভিউতে রাশিয়ার শিল্পে শ্রমের ঘাটতির বিষয়টি উল্লেখ করে সতর্ক করেছে।

দেশটির খুচরা বিক্রি নভেম্বরে ৭ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে, যা ভোক্তাদের চাহিদার উল্লেখযোগ্য হ্রাস নির্দেশ করে। এদিকে প্রথম উপপ্রধানমন্ত্রী আন্দ্রে বেলোসভ এ সপ্তাহে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ভোক্তাদের চাহিদা সম্পর্কে উদ্বেগের কথা স্বীকার করেন। তিনি ভোক্তাবাজারকে প্রায় স্থবির বলে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছিলেন যে এটি পুনরুদ্ধারে সহায়তা করা এখন একটি সরকারি অগ্রাধিকার।

পরিসংখ্যান আরো দেখাচ্ছে, নভেম্বরে রাশিয়ায় বেকারত্বের হার রেকর্ড ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে, যা স্বাভাবিকভাবেই অর্থনীতির উৎপাদন প্রসারিত করার ক্ষমতাকে সীমিত করে।

ইউডি/এ

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading