ফেব্রুয়ারিতে খালি চোখে দেখা যাবে ধুমকেতু
২ ফেব্রুয়ারি এটি পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে থাকবে। পৃথিবী থেকে তখন ধুমকেতু সি/২০২২ ই-৩ (জেটটিই)-এর অবস্থান হবে দুই কোটি ৬৪ লাখ মাইল (চার কোটি ২৫ লাখ কিলোমিটার) দূরে।
উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ০২ জানুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ১২:০০
এ বছরের জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে পৃথিবীর কাছ দিয়ে অতিক্রম করবে ধুমকেতু সি/২০২২ ই৩ (জেটটিই)। তবে ভয়ের কিছু নেই, এই ধুমকেতু পৃথিবীতে আঘাত করার কোনো সম্ভাবনা নেই।
কিন্তু মহাকাশপ্রেমীদের জন্য সুখবর এই যে পৃথিবীবাসী খালি চোখেই এই ধুমকেতু দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর এমনটি হলে এটি দেখতে পাওয়া ব্যক্তিরা মহাজাগতিক এক ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছেন।
তবে ভার্জের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধুমকেতুটি পৃথিবীর কাছাকাছি আসার সঙ্গে সঙ্গে আকাশের দিকে তাকিয়েই তা দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও শুরুতে এটি শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে। তাই প্রথম দিকে এটিকে শনাক্ত করার কাজে দূরবীন ব্যবহার করার প্রয়োজন হবে। –
সি/২০২২ ই৩ (জেটটিই) নামের নতুন এই ধুমকেতুটি ২০২২ সালের মার্চে শনাক্ত হয়। সে সময় এটি বৃহস্পতির কক্ষপথে ছিল। বর্তমানে ধুমকেতুটি যে গতিপথের মধ্যে রয়েছে, তাতে ১২ জানুয়ারি সূর্যের কাছাকাছি পৌছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাসার দেওয়া তথ্যানুসারে, ২ ফেব্রুয়ারি এটি পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে থাকবে। পৃথিবী থেকে তখন ধুমকেতু সি/২০২২ ই-৩ (জেটটিই)-এর অবস্থান হবে দুই কোটি ৬৪ লাখ মাইল (চার কোটি ২৫ লাখ কিলোমিটার) দূরে।
এই সপ্তাহে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে নাসার জেট প্রোপালশন ল্যাবরেটরির প্রেস্টন ডাইচেস বলেছেন, ‘দূরে সৌরজগতের বাইরে এক বরফের দর্শকের সঙ্গে ব্যক্তিগত সংযোগ তৈরি করার এটি একটি দূর্দান্ত সুযোগ।’
নিউজউইক রিপোর্ট করেছে, উত্তর গোলার্ধের বাসিন্দারা জানুয়ারির শেষদিকে হয়তো কোনো একদিন ভোরের আকাশে এই ধূমকেতুটি দেখতে পাবেন। কিন্তু দক্ষিণ গোলার্ধের মানুষদের এটি দেখার জন্য সম্ভবত ফেব্রুয়ারির শুরু পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
তবে পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি ধুমকেতুটি টেলিস্কোপের সাহায্য ছাড়াও দেখা যায়, এর পরেও তা সবশেষ পৃথিবী থেকে খালি চোখে ২০২০ সালে দেখতে পাওয়া নিওওয়াইজের মতো উজ্জ্বল হবে না।
চাঁদের যেমন নিজস্ব আলো নেই, সেরকম ধূমকেতুরও নিজস্ব কোনো আলো নেই। ধুমকেতুর গঠন উপাদানে রয়েছে বরফ, গ্যাস, শিলা ও ধুলো। গলে যাওয়া বরফ ধূমকেতুর পেছনে ধনুকের মতো একটি লেজের আকার দেয়। আর এই গলে যাওয়া বরফই সূর্যের আলোকে প্রতিফলিত করে। তখন এটি উজ্জ্বল দেখায়।
এমনকি ধুমকেতু পৃথিবীর জন্যও বিপজ্জনকও হতে পারে। তবে সি/২০২২ ই৩ (জেটটিই)-এর পক্ষ থেকে মানবজাতির জন্য কোনো ঝুঁকি নেই।
ইউডি/এ

