ত্রিভুজ প্রেমের বলি স্কুলছাত্রী জেসিকা, প্রেমিক গ্রেপ্তার
উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ১৬:৪৫
মুন্সীগঞ্জের আলোচিত স্কুলছাত্রী জেসিকা মাহমুদ (১৬) ওরফে জেসি হত্যা মামলার প্রধান আসামি বিজয় রহমানকে (১৯) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। শনিবার রাতে রাজধানীর ওয়ারী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব সদরদপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র্যাব-৩-এর একটি দল।
রোববার (০৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
তিনি বলেন, ‘গ্রেপ্তার বিজয় ২০১৯ সালে একই স্কুলে পড়ুয়া আদিবা আক্তারের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ায়। আদিবা আক্তারের সঙ্গে সম্পর্ক চলাকালে বিজয় ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে নিহত জেসির সঙ্গেও প্রেমের সম্পর্কে জড়ায়।
‘উভয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক চলাকালে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে গোপনে আদিবাকে বিয়ে করে সে। পরে বিজয় ও আদিবার গোপনে বিয়ের বিষয়টি জেসি জানতে পারে। পরে জেসি বিজয়ের সঙ্গে তার বিভিন্ন কথোপকথনের স্ক্রিনশট আদিবার মেসেঞ্জারে পাঠায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘মেসেজের স্ক্রিনশট নিয়ে প্রায়ই আদিবা ও বিজয়ের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও ঝগড়া-বিবাদ হতো। এতে একপর্যায়ে তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি শুরু হয়।’
বিজয়কে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, ‘মূলত ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকে বিজয় অপর আসামি আদিবার সঙ্গে আলোচনা করে। গত ১ জানুয়ারি তারা দুজন মিলে জেসিকে বিজয়ের বাসার ছাদে ডেকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা করে। পূর্বপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঘটনার দিন বিকেলে অপর আসামি আদিবা জেসির সঙ্গে দেখা করে।
কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, জেসি বিজয়ের সঙ্গে তার বিভিন্ন সময়ের কথোপকথনের স্ক্রিনশট দেখায় এবং মীমাংসার জন্য আদিবা জেসিকে বিজয়ের বাসার ছাদে নিয়ে আসে।
‘পরে আদিবা ফোন করে বিজয়কে ছাদে আসতে বলে। পরে সেখানে তাদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা ও হাতাহাতির একপর্যায়ে বিজয় ও আদিবা জেসির গলা টিপে ধরলে সে শ্বাসরোধ হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ার নাটক সাজানোর উদ্দেশ্যে তারা জেসিকে অজ্ঞান অবস্থায় ছাদ থেকে নামিয়ে এনে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে বাসার ভেতরে চলে যায়।’
তিনি বলেন, ‘তাকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা জেসিকে মুন্সীগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে বিজয় জেসির ভাইকে তার অসুস্থতার কথা বলে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে আসতে বলে।
‘জেসির ভাই হাসপাতালে পৌঁছলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, জেসি মারা গেছে। মৃত্যুর ঘটনা শুনে বিজয় এবং মামলার অপর আসামি আদিবা কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে যায়।’
গ্রেপ্তারকৃত বিজয় সম্পর্কে র্যাব জানায়, বিজয় মুন্সীগঞ্জের একটি কলেজ থেকে ২০২২ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। সে জেসি হত্যার পর থেকে মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদীখান এলাকায় তার বন্ধুর বাড়িতে চার দিন আত্মগোপনে থাকে। সেখানে নিজেকে নিরাপদ মনে না করে পরে ফরিদপুরের একটি মাজারে ছদ্মবেশে ২২ দিন আত্মগোপনে থাকে।
এরপর সে গত ১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর ওয়ারী এলাকায় তার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর বাসায় এসে আত্মগোপনে থাকে। গত রাতে রাজধানীর ওয়ারী এলাকায় আত্মগোপনে থাকাকালে র্যাব সদরদপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র্যাব-৩-এর যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গত ৩ জানুয়ারি মুন্সীগঞ্জের কোর্টগাঁও এলাকায় বন্ধুর বাড়িতে ঘুরতে গিয়ে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর রহস্যজনকভাবে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। স্কুলছাত্রী জেসিকা হত্যার প্রতিবাদে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করে।
ইউডি/এ

