বিএনপির কর্মসূচি হচ্ছে ‘সন্ত্রাসমুখর কর্মসূচি’: হাছান মাহমুদ

বিএনপির কর্মসূচি হচ্ছে ‘সন্ত্রাসমুখর কর্মসূচি’: হাছান মাহমুদ

উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ২৬ জুন ২০২৩ । আপডেট ১৬:০০

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘বিএনপির নেতাদের দুর্বলতা হচ্ছে তারা সন্ত্রাসী আর রাজনৈতিক কর্মী গুলিয়ে ফেলেছে। তারা নিজেরা রাজনীতির নামে সন্ত্রাস করেন বিধায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আর রাজনৈতিক কার্যক্রমের মধ্যে পার্থক্য করেন না। কিন্তু এ দুই কর্মসূচির মধ্যে পার্থক্য আছে। বিএনপির কর্মসূচি হচ্ছে সন্ত্রাসমুখর কর্মসূচি।’ সোমবার (২৬ জুন) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রেস ইনস্টিটিউট প্রকাশিত ‘নব্বই এর গণ অভ্যুত্থান’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

‘সরকার নির্যাতন-নিপীড়ন করায় জাতির অর্জন অন্ধকারে নিমজ্জিত হচ্ছে’, মির্জা ফখরুলের এ মন্তব্য প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সাড়ে ১৪ বছরে জাতির অনেক অর্জন আছে এটি মির্জা ফখরুল স্বীকার করেছেন। সরকার কারও ওপর জুলুম নির্যাতন চালাচ্ছে না। যারা আগুন সন্ত্রাস চালিয়েছে, পুলিশের ওপর হামলা করেছে এবং এখনও করছে, যারা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরদের নেতৃত্বে রাস্তায় গাড়ি ভাংচুর করেছে তাদের বিরুদ্ধে তো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, আগে মানুষ বলতো ডাল ভাত, এখন মানুষ মুরগির মাংসের দাম বেড়েছে কেন সেটি নিয়ে উদ্বিগ্ন। এখন আর মোটা ভাত ও আর মোটা কাপড় নয়, এখন মোটা কাপড়ও কেউ পরে না, এটাই হলো পরিবর্তন। পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে আমরা যাচ্ছিতো সেজন্য অনেকসময় অনুধাবন করতে পারি না। তিনি বলেন, সাড়ে ১৪ বছর আগে একজন রিকশাওয়ালা সারাদিন রিকশা চালিয়ে ৪-৫ কেজি চাল কিনতে পারতেন, এখন কমপক্ষে ১০ কেজি চাল কিনতে পারেন বা আরও বেশি, ১০ থেকে ১৫ কেজি চাল কিনতে পারেন। কোন চাল কিনছেন? দেশে আগে মানুষ বলতো, মোটা ভাত, মোটা কাপড়। এখন মোটা চাল কোথাও বিক্রি হয় না। মোটা চাল বাজারে বিক্রিই হয় না, মোটা চাল এখন গরুকে খাওয়ায়, মোটা চাল এখন হাঁস-মুরগিকে খাওয়ায়।

চট্টগ্রামে অভিযান চালিয়ে নিবন্ধনহীন আইপিটিভি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, সারাদেশে এমন অভিযান চলবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, টিভি চ্যানেলগুলোকে মাসে বিটিআরসিকে ২০ লাখ টাকার বেশি ফি দিতে হয়। সরকার ৫০টির মতো টিভি চ্যানেলের প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে, এর মধ্যে ৩৬টি টিভি সম্প্রচারে আছে। কোনো অনুষ্ঠানে গেলে দেখবেন এসব টেলিভিশন চ্যানেলের মতোই বুম নিয়ে হাজির হয়। এদের কোনো অনুমোদন নেই। এরা চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, সম্প্রচার নীতিমালায় আইপিটিভি বা ইউটিউব চ্যানেলে সংবাদ প্রচার করা যায় না। তারা এ কাজটি করে। অনেকের পক্ষে সংবাদ প্রকাশ করার জন্য চাঁদা নেয়, বিপক্ষে সংবাদ করার হুমকি দিয়ে চাঁদা নেয়। এ কাজগুলো সারাদেশে বিভিন্ন জায়গায় ঘটছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকদের চিঠি দেওয়া হয়েছে অভিযান চালানোর জন্য। যাদের বৈধ লাইসেন্স নেই, যারা চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য। যাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে তারা বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়ার জন্য উল্টো টাকা নেয়। এবং মাসে মাসে তাদের কর্তৃপক্ষের কাছে টাকা পাঠাতে হয়। এ অবৈধ কাজ বন্ধ হওয়া প্রয়োজন, সে কারণে আমরা উদ্যোগ নিয়েছে।

ইউডি/এ

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading