উন্নতমানের ৫ হাজার বাস নামানোর দাবি যাত্রী কল্যাণ সমিতির

উন্নতমানের ৫ হাজার বাস নামানোর দাবি যাত্রী কল্যাণ সমিতির

উত্তরদক্ষিণ । শনিবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৪, আপডেট ১৮:৫০

স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকারের প্রথম ধাপ হিসেবে রাজধানীর লক্কড়-ঝক্কড় বাস উচ্ছেদ করে সরকারি ব্যবস্থাপনায় একটি কোম্পানির অধীনে নতুন করে পাঁচ হাজার উন্নতমানের বাস নামানোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

শনিবার (২০ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

লিখিত বক্তব্যে মোজাম্মেল হক বলেন, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় প্রবেশ করতে যাচ্ছে। বর্তমান সরকার ২০২৬ সালের মধ্যে দেশকে উন্নত দেশের কাতারে শামিল করার কথা বলেছেন। তাই দেশের প্রবেশদ্বার রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থা উন্নত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।
বাংলাদেশের ইতিহাসে পরপর চতুর্থ মেয়াদে দীর্ঘসময় ধরে দায়িত্ব পালন করছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি একাধারে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদকও। তার হাতে দীর্ঘদিন এই মন্ত্রণালয়ের দ্বায়িত্ব থাকায় তিনি সড়কে বিশৃঙ্খলা থামিয়ে স্মার্ট গণপরিবহন ব্যবস্থা উপহার দেবেন, যাত্রী হয়রানি ও ভাড়া নৈরাজ্য বন্ধ করবেন এমন আশা দেশবাসীর।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী নগরবাসী দীর্ঘসময় ধরে অপরিচ্ছন্ন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নোংরা আবর্জনায় ভরপুর পরিবহনগুলোতে প্রতিদিন যাতায়াত করছে। যানজট-জনজটে আটকা পড়ে প্রতিদিন কর্মক্ষম মানুষের লাখো কোটি টাকার শ্রমঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য, সিটিং সার্ভিসের নৈরাজ্য, গণপরিবহনগুলোকে মুড়ির টিন বানিয়ে ইচ্ছেমত যাত্রী হয়রানি চলছে। ভয়াবহ বায়ুদূষণ ও ধুলোদূষণের শিকার হচ্ছে নগরবাসী।

যাত্রী ও নাগরিক সমাজের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের উদ্যোগে চালু হওয়া বাস রুট রেশনালাইজেশন প্রকল্পের আওতায় ঢাকা নগর পরিবহন নামে কয়েকটি রুটে বাস সার্ভিস চালু করা হলেও তা মুখ থুবড়ে পড়েছে। সদরঘাট থেকে গাবতলী আমিন বাজার পর্যন্ত চালু হওয়া ওয়াটার বাস সার্ভিসও বন্ধ হয়ে গেছে।

নগর পরিবহনে ই-টিকিটিং সার্ভিসও বন্ধ হয়ে গেছে। এহেন পরিস্থিতিতে নগরীর যাত্রী সাধারণ এখন পরিবহন মালিক শ্রমিকদের ইচ্ছের কাছে জিম্মি। সাধারণ মানুষ ইজ্জত ও মর্যাদা নিয়ে এসব পরিবহনে যাতায়াত করতে পারছে না।

সরকার বাস মালিক, শ্রমিকের স্বার্থগুলো অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণের সব ফোরামে মালিক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠনগুলো রাখা হলেও যাত্রী প্রতিনিধি রাখা হচ্ছে না।

এছাড়াও বর্তমানে সারাদেশে বাস নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়েছে। ইজিবাইক, অটোভ্যান, মোটরসাইকেল এখন দেশের প্রধান বাহন হিসেবে দাঁড়িয়েছে। ব্যয়বহুল, সড়ক নিরাপত্তায় ঝুঁকিপূর্ণ, যানজট তৈরির উৎস এসব যানবাহন স্মার্ট বাংলাদেশের সঙ্গে বেমানান।

তাই ক্ষমতাসীন নতুন সরকারের চলতি মেয়াদে সড়ক পরিবহন সেক্টরে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, সড়কে শৃঙ্খলা, লক্কড়-ঝক্কড় যানবাহন উচ্ছেদ করে উন্নত দেশের আদলে স্মার্ট, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

একই সঙ্গে নতুন সরকার দেশব্যাপী স্মার্ট, গণপরিবহন পরিকল্পনা প্রণয়ন করে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে ছোট ছোট যানবাহনের পরিবর্তে উন্নত দেশের আদলে স্মার্ট বাস সার্ভিস গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

ইডিডি/এআর

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading