নরেন্দ্র মোদীর হাতে আবারও ইন্ডিয়া: অভ্যন্তরীণ রাজনীতি-বৈশ্বিক কূটনীতি; চ্যালেঞ্জ ও প্রভাব কতটা?
উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ১০ জুন, ২০২৪, আপডেট ১৩:৫৫
ইন্ডিয়ার ইতিহাসে দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে টানা তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হলেন নরেন্দ্র মোদী। লোকসভায় বিরোধীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ এবং জোটবদ্ধ সরকার হওয়ায় ব্যাপক চ্যালেঞ্জ রয়েছে তার সামনে। এছাড়া বৈশ্বিক কূটনীতিতে দেশটির প্রভাব কেমন হবে; তা নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা। আশিকুর রহমান’র প্রতিবেদন
এবার ভিন্ন চিত্র, কঠিন সময়: টানা তৃতীয়বারের মতো ইন্ডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী; যা দেশটির ইতিহাসে নজিরবিহীন। বিশ্বমঞ্চে ইন্ডিয়াকে আরও সামনের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য আবারও পাঁচ বছরের জন্য সুযোগ পেলেন ৭৩ বছর বয়সী এই নেতা। এর আগে দেশটির স্বাধীনতা আন্দোলনের অগ্রপথিক জওহরলাল নেহেরু ১৯৫২, ১৯৫৭ ও ১৯৬২ সালে টানা তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বপালন করেন। সরকার গঠনের জন্য লোকসভায় কোন দল বা জোটকে অন্তত ২৭২টি আসন পেতে হয়। কিন্তু মোদীর বিজেপি এককভাবে পেয়েছে ২৪০ আসন। ফলে মোদীর নেতৃত্বে সরকার গঠনের জন্য জোট শরিকদের ওপর নির্ভর করতে হয়। ২৯৩টি আসনে জয় পেয়েছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ)। ‘ইন্ডিয়া’ জোট পেয়েছে ২৩৩টি আসন। বারাণসী কেন্দ্র থেকে নরেন্দ্র মোদীর জয়ের ব্যবধানও এখনও পর্যন্ত তার রাজনৈতিক জীবনে সর্বনি¤œ। বিশ্লেষকগণ মনে করছেন, নির্বাচনী ফলাফলে মোদী হতাশ হলেও আর্শীবাদ হয়েছে ইন্ডিয়ার জন্য। তারা বলছেন, মোদী যদি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতেন, তাহলে হিন্দু এজেন্ডায় গুরুত্ব দিতেন। এতে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ইন্ডিয়ার অনেক ইস্যু চাপা পড়ে যেতো। যেহেতু গণতন্ত্র হলো ইন্ডিয়ার একটি ঐতিহ্য। এমন নির্বাচনের মাধ্যমে দেশটির মর্যাদা বাড়বে। যথাযথ গণতান্ত্রিক ধারায় ইন্ডিয়ার ফিরে আসা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশ্বের জন্য কল্যাণকর। কিন্তু সব কিছু নির্ভর করছে মোদী কীভাবে এবার দেশ পরিচালনা করবেন তার ওপর।
জলবায়ু পরিবর্তন ও উন্নয়নের মতো বিশ্ব ইস্যুতে ইন্ডিয়াকে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ে পরিণত করেছেন মোদী। একই সঙ্গে নিরাপত্তা ইস্যুতে আমেরিকার মূল অংশীদারও হয়ে উঠছে দেশটি। এখন গেøাবাল সাউথের নেতৃত্বেরও বড় অংশীর দেশটি। একই সময়ে প্রতিবেশী পারমাণবিক ক্ষমতাধর চীন ও পাকিস্তানকেও মোকাবিলা করতে হবে মোদী সরকারকে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সঠিক গণতন্ত্র হিসেবে ভারতের ফিরে আসা অনেক অর্থেই বিশ্বব্যবস্থার পক্ষে মঙ্গলজনক। তবে সবটাই নির্ভর করছে মোদী কীভাবে এই খেলা খেলবেন।
এক দশকের মধ্যে এবার ভিন্ন পরিস্থিতির মুখোমুখি মোদী ও তার দল। কারণ আগের দুই মেয়াদের মতো এককভাবে সরকার গঠন করতে পারেনি বিজেপি। এমন পরিস্থিতি মোদী ও তার দলের জন্য চ্যালেঞ্জিং বলে মনে করা হচ্ছে। ইসলামোফোবিয়া ও ধর্মীয় সংঘাত ছড়ানোর ক্ষেত্রে মোদী ও তার দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। বেশ কিছু ক্ষেত্রে রয়েছে ব্যর্থতা। এর মধ্যে অন্যতম হলো বেকারত্ব। দ্য আনফিনিস্ড কোয়েস্ট: ইন্ডিয়া সার্স ফল মেজর পাওয়ার স্ট্যাটাস ফরম নেহেরু টু মোদী গ্রন্থের লেখক টি.ভি. পল বলেন, বিভিন্ন এজেন্ডায় সরকার টিকিয়ে রাখতে মোদীকে এখন অনেক সময় দিতে হবে। অর্থাৎ অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে আরও বেশি মনোযোগী হতে হবে তাকে।

রাহুল গান্ধী
এক দশক পর বিরোধী নেতা : এক দশক পর ইন্ডিয়া লোকসভায় বিরোধীদলীয় নেতা পেতে যাচ্ছে। আর সে ক্ষেত্রে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীরই সেই নেতা হওয়ার জোর সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে রাহুল গান্ধীকে সর্বসম্মতভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। রাহুলকে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বৈঠকে বসেছিলেন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতার। বৈঠক শেষে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি ভেনুগোপাল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, লোকসভায় রাহুল গান্ধীকে বিরোধী নেতা করা-সংক্রান্ত প্রস্তাব সব অংশগ্রহণকারী সর্বসম্মতভাবে পাস করেছেন। ইন্ডিয়ার কেন্দ্রীয় সংসদের নি¤œকক্ষ লোকসভা ২০১৪ সাল থেকে বিরোধীদলীয় নেতাশূন্য ছিল। কারণ, লোকসভায় বিরোধী নেতা হওয়ার জন্য কোনো একক দলকে মোট ৫৪৩ আসনের অন্তত ১০ শতাংশ পেতে হয়। কিন্তু গত দুইটি লোকসভার নির্বাচনে কংগ্রেস বা অন্য কোনো দল তা পূরণ করতে পারেনি। এবার কংগ্রেস ৯৯টি আসন পাওয়ায় সেই খরা দূও হলো। এবার কংগ্রেস পেয়েছে ৯৯ আসন। আরও দুই স্বতন্ত্র এমপি কংগ্রেসকে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে সাকল্যে কংগ্রেসের আসন দাঁড়াচ্ছে ১০১। ৫৩ বছর বয়সী রাহুল গান্ধী ২০০৪ সালে রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু করেন। এর পর থেকে তিনি কখনো কোনো সাংবিধানিক পদ গ্রহণ করেননি।
সু-সম্পর্ক থাকবে তো বাংলাদেশের সঙ্গে?: নরেন্দ্র মোদীর পররাষ্ট্রনীতির একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ বাংলাদেশ; তাতে এই তথাকথিত ‘দুর্বলতা’র কোনও প্রভাব পড়বে কী পররাষ্ট্রনীতির বিশেষজ্ঞ ও দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সাবেক অধ্যাপক ড. বলদাস ঘোষাল অবশ্য মনে করেন, পার্লামেন্টে সংখ্যার দিক থেকে নরেন্দ্র মোদীর এখন যে সামান্য দুর্বলতা আছে সেটা তিনি খুব শিগগিরই কাটিয়ে উঠতে পারবেন। তিনি বলেন, মোদীর সরকার চালানোর যে স্টাইল তাতে পূর্ণ কর্তৃত্ব তার হাতে নিতে খুব একটা দেরি হবে বলে মনে হয় না। কয়েক মাসের মধ্যেই হয়তো তিনি আবার আগের মতো ক্ষমতা নিজের হাতে পুরোপুরি সংহত করে ফেলবেন। তবে হ্যাঁ, দেশের ভেতরে তার কর্তৃত্ব কমবেশি যাই থাকুক, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের গ্রাফ তার আমলে যেভাবে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে সেটাকে তিনি কোনোভাবেই নষ্ট হতে দেবেন না- এতে কোনও সন্দেহ নেই। ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ সম্পর্কের পর্যবেক্ষক এবং ওপি জিন্দাল গেøাবাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. শ্রীরাধা দত্ত গণমাধ্যমকে বলেন, ইন্ডিয়ার যে নেইবারহুড পলিসি (প্রতিবেশী দেশগুলো সম্পর্কে নীতি) তাতে কিন্তু একটা ‘ব্রড কনসেনসাস’ (মোটা দাগে ঐকমত্য) তৈরি হয়েই গেছে। ফলে বিজেপি বা কংগ্রেসের একক সরকারই থাকুক বা জোট সরকার, সেখানে খুব কিছু পার্থক্য হবে না। হ্যাঁ, আমেরিকা বা চীনের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে অল্পবিস্তর হতে পারে, কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা কখনোই হবে না। তবে এ ধরনের পর্যবেক্ষণের পরেও নির্দিষ্ট কয়েকটি ক্ষেত্রে ইন্ডিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতির ‘মৃদু পালাবদল’র প্রভাব বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেও পড়তে পারে-এ কথা বিশেষজ্ঞরাও মানছেন।
হিন্দু-জাতীয়তাবাদী এজেন্ডা ম্লান হচ্ছে : গত এক দশকে হিন্দু জাতীয়তাবাদ কেবল ইন্ডিয়ার অভ্যন্তরে বিভাজন ও সহিংসতা উস্কে দেওয়াই নয়, বরং তারা দেখিয়েছে কীভাবে এই অঞ্চলে বিশেষত পাকিস্তানের সাথে সংঘাত উস্কে দিতে হয়। প্রায়শই বিজেপির উত্তপ্ত বাগাড়ম্বরের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে পাকিস্তান। এখন মোদীর বিজেপিকে তার জোট মিত্রদের স্বার্থের জবাব দিতে হবে এবং পুনরুত্থিত বিরোধীদের কাছ থেকে আরও কঠোর জবাবের মুখোমুখি হতে হবে; যা তার হিন্দু-জাতীয়তাবাদী এজেন্ডাকে ¤øান করতে পারে। আর বিশ্লেষকরা জোর দিয়ে বলেছেন, বিজেপি এই নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার ভিত্তিতে নীতিগত লক্ষ্য এবং বাগাড়ম্বরের ক্রমাঙ্ক কিভাবে করে তা দেখতে সময় লাগবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনে মোদীর নড়বড়ে জয়ের পর বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে, নতুন সরকার দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশীদের সঙ্গে ইন্ডিয়ার সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলে নাকি নমনীয় অবস্থান নেয়।
আমেরিকার ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক সুশান্ত সিং বলেন, এটা যদি স্বাভাবিক রাজনীতি হয়, তাহলে মনে হবে বিভিন্ন ইস্যুতে তাদের ধাক্কা এতটা জোরালো হবে না। কিন্তু তাদের জাতীয়তাবাদী সমর্থনকে কাজে লাগাতে বিজেপি আসলে অন্য পথে হাঁটতে পারে। আমাদের দেখতে হবে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত কী নেওয়া হয়। এই ধরনের প্রতিক্রিয়া বিজেপির এই মেয়াদের আপেক্ষিক দুর্বলতর অবস্থানের কারণেও চালিত হতে পারে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, পাকিস্তানের সাথে উত্তেজনা বৃদ্ধির পরে ২০১৯ সালের নির্বাচনে মোদীর বড় ধরনের জয় হয়।
আমেরিকার টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক ফাহাদ হুমায়ুন ক্ষমতাসীন দলের আদর্শের কথা উল্লেখ করে বলেন, বিজেপি তার মূল হিন্দুত্ববাদী ভিত্তি গঠনের জন্য পাকিস্তানের ভাবমূর্তির অন্যায়ভাবে ব্যবহার করে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, দুর্বল অবস্থানে মোদীকে চীনের পক্ষ থেকে যে কোনো হুমকির কঠোর জবাব দেওয়ার জন্যও চাপ দেওয়া হতে পারে। বিতর্কিত হিমালয় সীমান্তে ২০২০ সালের প্রাণঘাতী সংঘর্ষের নরম প্রতিক্রিয়ার জন্য সমালোচকদের সমালোচনার মুখে পড়লেও মোদী ইন্ডিয়ার সামরিকভাবে এগিয়ে থাকা প্রতিবেশীর সঙ্গে সংঘাতের ঝুঁকি নিতে রাজি নন বলে মনে হয়েছে। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সরকার দলীয় নেতারা এবং নীতিনির্ধারকরা আগামী মাসগুলিতে এই সমস্যাগুলি কীভাবে বিকশিত হয় তা পর্যবেক্ষণ করবে। ইতিমধ্যে, কিছু পর্যবেক্ষক পরামর্শ দিয়েছেন যে নির্বাচনের ফলাফল মোদীকে উৎসাহিত করতে না পারলেও ইতিমধ্যে ইন্ডিয়ার বিশ্বব্যাপী প্রভাব বিস্তারের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে। কানাডার ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পল বলেন, যদি তিনি (সুপার) সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতেন এবং হিন্দু এজেন্ডা এগিয়ে নিতেন, তাহলে সম্ভবত এটি ইন্ডিয়ার (আন্তর্জাতিক) এজেন্ডাকে ক্ষতিগ্রস্ত করত।
দিল্লি-ওয়াশিংটন সম্পর্ক কেমন হবে: নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আমেরিকার বড় অংশীদার হিসেবে আবির্ভাব হয়েছে ইন্ডিয়া। চীনের হুমকি মোকাবিলায় আমেরিকা, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার যে কোয়াড গঠন করা হয়েছে তারও অন্যতম সদস্যও দেশটি। দিল্লির সঙ্গে ওয়াশিংটনের যে সম্পর্ক রয়েছে মোদীর নতুন মেয়াদে তাতে কোনো ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। মূলত এই সম্পর্কের মাধ্যমেই ক্ষমতার ইস্যুতে ওপরে উঠে এসেছেন মোদী। তার জয়ের পর এক অভিনন্দন বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইন্ডিয়া ও আমেরিকার বন্ধুত্বের প্রশংসা করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই সম্পর্ক শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নিউইয়র্কের এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের দক্ষিণ এশিয়া ইনিশিয়েটিভের পরিচালক ফারওয়া আমের বলেন, দুই দেশের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বিষয়ে একই ধরনের উদ্বেগ রয়েছে এবং ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে কাজ করছে।

তিনি বলেন, আমরা আশা করতে পারি আরও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ইন্ডিয়া ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা প্রসারিত করবে। সা¤প্রতিক সময়ে দিল্লি ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার হয়েছে। যদিও মোদী মার্কিন আধিপত্যের বাইরে গিয়ে বা আমেরিকার স্বার্থবিরোধী কিছু ইস্যুতে কাজ করছেন। যেমন ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা সত্তে¡ও পশ্চিমাদের চপ উপেক্ষা করে মস্কোর সঙ্গে সম্পর্ক রাখছে দিল্লি। এমনকি এ ব্যাপরে সতর্ক করা হলেও পিছু হটেননি মোদী। ইন্ডিয়ায় স¤প্রতি বিরোধীদের ওপর দমনপীড়নের ব্যাপক অভিযোগ ওঠেছে। এ বিষয় আমেরিকারও উদ্বেগ রয়েছে। এখন প্রশ্ন মোদীর তৃতীয় মেয়াদ কীভাবে এসবে ওপর প্রভাব ফেলবে।
ইন্ডিয়ায় মুসলিমদের কোণঠাসা করারও অভিযোগ রয়েছে বিজেপির বিরুদ্ধে। মোদীর আমলে অন্যদেশে পরিচালিত কিছু কর্মকাণ্ডও ইন্ডিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। স¤প্রতি কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রæডো এক শিখ নেতা হত্যায় ইন্ডিয়ার সংশ্লিষ্টতার কথা জানান। এর জেরে ইন্ডিয়াও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায়। এ ঘটনার ঠিক দুই মাস পরে আমেরিকা থেকেও একই ধরনের অভিযোগ আসে। যদিও দিল্লি এ অভিযোগ অস্বীকার করে। আমেরিকা ও কানাডা এ বিষয় তদন্তের কথা জানায়।
চীন-পাকিস্তান ইস্যু; চাপ থাকবে প্রবল: গত এক দশকে মোদীর বিজেপি শুধু অভ্যন্তরীণ ইস্যুতেই ভ‚মিকা পালন করেনি। আঞ্চলিক ক্ষেত্রেও আধিপত্য দেখিয়েছে। বিশেষ করে পাকিস্তান ইস্যুতে। এর আগে সব সিদ্ধান্ত এককভাবে নিতে পারলেও এবার দৃশ্যপট ভিন্ন। এবার কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ইন্ডিয়ার স্বার্থ জোটের কাছে উপস্থাপন করতে হবে বা অনুমতি নিতে হবে। একই সঙ্গে তীব্র বিরোধিতার মুখেও পড়তে হবে। কারণ বিরোধী জোট আগের তুলনায় অনেক বেশি আসন পেয়েছে। ফলে বিজেপির হিন্দু জাতীয়তাবাদী এজেন্ডা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, দুর্বল অবস্থানে থাকার পরেও চীন ও পাকিস্তান ইস্যুতে আগের মতোই প্রতিক্রিয়া দেখানোর জন্য চাপে থাকবেন মোদী। মূলত সামকিরভাবে শক্তিশালী অবস্থানে থাকা প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কোনো দ্ব›েদ্ব জড়াতে চান না মোদী। যদিও ২০২০ সালে চীনা সীমান্তে সংঘর্ষের ঘটনার পর ইন্ডিয়ার পদক্ষেপ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি। সামনের দিনগুলোতে পাকিস্তান ও চীনের ইস্যুতে ইন্ডিয়া কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে, তা নজরে রাখবে বিশ্বের অন্যান্য সরকারপ্রধান ও নীতিনির্ধারকরা।

মমতা ব্যানার্জী
ইন্ডিয়া জোটের রণনীতি; ‘ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ’: বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ই কেন্দ্রে সরকার গড়তে চলেছে। বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার খুব বেশি দিন টিকবে না। দলের জয়ী প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠকের পর এমনটাই জানালেন তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জী। তার মতে, শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রে সরকার গড়বে ‘ইন্ডিয়া’। তার কথায়, ইন্ডিয়াই আগামী দিনে সরকার গড়বে। সেটা শুধু সময়ের অপেক্ষা। এখন আমরা শুধু পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে চলছি।
মমতা জানান, আপাতত তার এবং ‘ইন্ডিয়া’র শরিকদের রণনীতি ‘ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ’। অর্থাৎ পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা এবং সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষা করা। পাঁচ বছর মোদী এই সরকার টেকাতে পারবেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মমতা বলেন, এটা আপনারা কেউ ভাববেন না যে, ‘ইন্ডিয়া’ এখন কিছু করেনি বলে আগামী দিনে করবে না। আমরা অপেক্ষা করছি। কারণ মোদীকে কেউ চায় না। এই দেশ পরিবর্তন চায়।
লোকসভা ভোটের ফলাফল দেখে মোদীর প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দেওয়া উচিত ছিল বলেও জানান মমতা। তার কথায়, এত বড় হারের পর ওর উচিত ছিল পদত্যাগ করা। আমি যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেতাম, পদে থাকতাম না। বিরোধ জোট ‘ইন্ডিয়া’ এবং এনডিএ-র শরিক নেতাদের মধ্যে তুলনাও টেনেছেন মমতা। তিনি বলেন, এনডিএ-তে যারা আছেন, তাদের চাহিদা অনেক বেশি। আমরা কিছু চাই না। আমরা শুধু মানুষের ভালো চাই। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে এবার ২৯টি আসনে জিতেছে তৃণমূল। কিন্তু মমতা দাবি করেছেন, ২৯টি নয়, আসলে তাদের ৩৫টি আসন পাওয়ার কথা ছিল। নির্বাচন কমিশন কারচুপি করে বাকি ছয়টি আসনে তৃণমূলকে হারিয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মমতার অভিযোগ, লোডশেডিং করিয়ে তাদের প্রার্থীদের হারানো হয়েছে। মমতা বলেন, আমরা ২৯টি নয়, ৩৫টি আসনে জিতেছি।

দৈনিক উত্তরদক্ষিণ । ১০ জুন ২০২৪ । প্রথম পৃষ্ঠা
এদিকে, ছত্তীসগড় রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা ভ‚পেশ বাঘেল দাবি করেছেন, এক বছরের মধ্যেই দেশে ফের লোকসভা নির্বাচন হতে চলেছে। ভ‚পেশ বাঘেল দাবি করেন, এক বছরের মধ্যেই ফের লোকসভা নির্বাচন হতে চলেছে। দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা সবাই প্রস্তুত থাকুন। ৬ মাস থেকে ১ বছরের মধ্যেই আবার নির্বাচন হতে চলেছে। বাঘেল বলেন, যোগী আদিত্যনাথের চেয়ার কাঁপছে, ভজন লাল শর্মা কাঁপছে, এমনকী ফড়ণবীসও ইস্তফা দিচ্ছেন।
নরেন্দ্র মোদীকেও আক্রমণ করতে ছাড়েননি ছত্তীসগঢ়ের সাবেক এই মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এবার উট পাহাড়ের নিচে এসেছে। তার ভাষায়, এখন তারা খানা-পিনা বা কী পরছেন, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেন না। জনগণ ওদের উচিত শিক্ষা দিয়েছে। যারা দল ভাঙতে চায়, মুখ্যমন্ত্রীকে জেলে বন্দি করে ভয় দেখাতে চায়, তাদের শিক্ষা দিয়েছে জনগণ।
ইউডি/এজেএস

