‘এক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’ ইরানের ‘হাতিয়ার’
আশিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৪, আপডেট ১৬:১০
মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে বড় ভূমিকায় রয়েছে ইরান। দেশটি সাধারণত শক্তি প্রদর্শন করে তাদের সঙ্গে আদর্শগতভাবে মিলে যায় এমন মিত্র ও অরাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গোষ্ঠীর নেটওয়ার্কের মাধ্যমে। এই নেটওয়ার্কটি ‘এক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’ বা ‘প্রতিরোধের অক্ষ’ নামে পরিচিত। এই নেটওয়ার্কের মধ্যে রয়েছে ইয়েমেনের হুতি, প্যালেস্টাইনের হামাস ও লেবাননের হিজবুল্লাহ। এ ছাড়া কাতাইব হিজবুল্লাহ নামে ইরাকের শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীটিও ইরানের মিত্র হিসেবে পরিচিত। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি শুধু ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের হত্যার প্রতিশোধই নিতে চান না, এটাও মনে করেন যে পাল্টা জবাব না দিলে আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে ইরানের গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট হতে পারে। প্রতিরোধের অক্ষের সব পক্ষগুলো তেহরানের সমর্থন পেয়ে আসছে।
ইসরায়েল প্রতিশোধ নিলে ইতোমধ্যে পাল্টা আঘাত হানবে বলে সতর্ক করেছে ইরান। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, এটি আমাদের সক্ষমতার একটি আভাস মাত্র। এই বার্তাটিকে আরও শক্তিশালী করতে আইআরজিসি বলেছে-যদি ইহুদিবাদী শাসক ইরানের কার্যক্রমে প্রতিক্রিয়া দেখায়, তাহলে এটি নিষ্ঠুর আক্রমণের সম্মুখীন হবে। ইরানের হাতে প্রচুর পরিমাণে ব্যালিস্টিক এবং অন্যান্য ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি বিস্ফোরক ভর্তি ড্রোন ও মধ্যপ্রাচ্যের চারপাশে বহু মিত্র স্থানীয় মিলিশিয়া রয়েছে। তাদের পরবর্তী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইসরায়েলের সামরিক ঘাঁটির পরিবর্তে বেসামরিক এলাকাগুলো লক্ষ্য করতে পারে। ২০১৯ সালে সৌদি আরবের তেল স্থাপনার ওপর সালে ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়ার হামলা দেখিয়েছিল যে এর প্রতিবেশীরা আক্রমণের কতটা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
পারস্য উপসাগরে ইরানের আইআরজিসি নৌবাহিনীর ছোট এবং দ্রæত ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সক্ষম বড় নৌবহর প্রস্তুত রয়েছে, যা আমেরিকার পঞ্চম নৌবহরের যুদ্ধজাহাজের প্রতিবক্ষা ব্যবস্থাকে সংঘবদ্ধ আক্রমণে ব্যর্থ করতে সক্ষম। নির্দেশ দেওয়া হলে এগুলো হরমুজ প্রণালীতে মাইন স্থাপন করে বিশ্ব তেলের দৈনিক রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ প্রবাহ ব্যাহত করতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে। এর পাশাপাশি, উপসাগরের আরব দিকের কুয়েত থেকে ওমান পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোও রয়েছে। জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইএইএ’র মাধ্যমে এটি একটি জানা বিষয় যে, বেসামরিক পারমাণবিক শক্তির জন্য প্রয়োজনীয় ২০ শতাংশের চেয়েও বেশি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে ইরান।

আব্বাস আরাগচি
ভয়াবহ পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত তেহরান
জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসকে সতর্ক করেছেন ইরানের শীর্ষ ক‚টনীতিক। এক ফোনালাপে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ইসরায়েলের যেকোনও প্রতিশোধমূলক হামলার জবাবে তেহরান ভয়াবহ পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে। ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে উদ্ধৃত করে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।আরাগচি বলেন, আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় ইরান সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোর পাশাপাশি ইসরায়েলের যেকোনও দুঃসাহসী কর্মকাøের জবাবে একটি ভয়াবহ পাল্টা জবাব দেওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।
এ সময় তিনি জাতিসংঘকে আহ্বান জানান, ইসরায়েলের অপরাধ ও আগ্রাসন বন্ধে ব্যবস্থা নিতে এবং লেবানন ও গাজার জনগণের জন্য মানবিক সহায়তা পাঠাতে। আরাগচি ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাঁ-নোয়েল ব্যারোর সঙ্গে ফোনে আলোচনা করেন। এ আলোচনায় তিনি লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন এবং ইসরায়েলের অবাঞ্ছিত কোনও দুঃসাহসী পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, বাস্তুচ্যুত মানুষের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে ইসরায়েলি বাধা অপসারণ করা উচিত।
ইউডি/এজেএস

