প্রাণীর ভাষা ব্যাখ্যা করবে এআই

প্রাণীর ভাষা ব্যাখ্যা করবে এআই

উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ০৬ জানুয়ারি, ২০২৫, আপডেট ০৮:০০

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির আবির্ভাবে তাবৎ দুনিয়ায় পরিবর্তন এখন দৃশ্যমান। কয়েক বছর আগেও যে কাজ ছিল কষ্টসাধ্য, তা দ্রুতই হয়ে যাচ্ছে। গবেষকরা বিশেষ এআই সিস্টেম তৈরি করছেন, যার মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে প্রাণিজগতের ভাষাগত আন্তঃযোগাযোগ সমস্যা অনেকাংশে দূর হবে।

‘দ্য আর্থ স্পিসিজ প্রজেক্ট’ নামে অলাভজক প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি প্রকাশ্যে এমন এআই সিস্টেমের কথা বর্ণনা করেছে, যার নাম নেচারএলএম। বিশেষ এআই মডেল এমনভাবে তৈরি, যা প্রাণিজগতের যোগাযোগ ডিকোড করতে সক্ষম। ফলে মানুষের সঙ্গে প্রাণিজগতের ভাষাবিনিময় সংকট দূর হবে বলে দাবি করেছে এআই নির্মাতা সংস্থা।

ইতোমধ্যে নেচারএলএম প্রাণিজগতের বেশ কিছু প্রজাতির ‘কথা’ শনাক্ত করার প্রমাণ দিয়েছে। অর্থাৎ কোনো প্রাণী যে শব্দ (আওয়াজ) করছে, তার মাধ্যমে সে বিরক্তি প্রকাশ করছে, না আনন্দ প্রকাশ করছে– তা ধরিয়ে দিয়েছে উল্লিখিত এআই মডেল। মডেলটিকে কয়েকটি ইনপুট দিয়ে প্রশিক্ষিত করা হচ্ছে। কয়েক শ্রেণির প্রাণীর ডাক ও শব্দের পার্থক্যের সঙ্গে মানুষের ভাষাও শেখানো হচ্ছে। প্রাণীর ডাকের সঙ্গে প্রকৃতিতে হওয়া বেশ কিছু শব্দের সঙ্গেও পরিচিত করা হচ্ছে নেচারএলএম পদ্ধতিকে। কয়েকটি প্রাণীর শব্দ শনাক্ত করে সেই ভাব সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করাই হবে নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলের প্রধান উদ্দেশ্য। গবেষকরা দাবি করছেন, ইতোমধ্যে উল্লিখিত এআই মডেল বিশেষ কয়েকটি পাখির ডাক চিনতে শিখেছে। এমনকি ওই সব পাখির ডাকের মধ্যে পার্থক্য উপস্থাপন ও ব্যাখ্যা করেছে। পাখির ডাকের মোবাইল রিংটোন ও সত্যিকারের পাখির ডাকের তফাৎ বুঝতে সামর্থ্য প্রমাণ করেছে নেচারএলএম।

অবশ্য মডেলটি এখনও গবেষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ আছে। প্রাণিজগতের ভাষাগত প্রশিক্ষণের কাজ খুব সহজে হয়ে যাচ্ছে, তা কিন্তু নয়। গবেষকরা বলছেন, এআই মডেলকে প্রশিক্ষণ দিতে বেশ কিছু সমস্যা সামনে আসছে। ঠিক কী ধরনের সমস্যা, তা নিয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন গবেষকরা। মানুষের ভাষায় এআই মাধ্যমকে প্রশিক্ষিত করা তুলনামূলক সহজ।

কারণ মানুষের সঙ্গে যন্ত্রের ভাষাগত সংযোগে মূল মাধ্যম ইংরেজি ভাষা, যা সূত্র ও লক্ষ্য নির্ধারণে বেশ জটিল নয়। বিপরীতে প্রাণিজগতের সব ধরনের ভাষা বা আদবকেতা মানুষের অজানা। এমন বিষয়ে আংশিক যেসব তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তা দিয়েই চলছে প্রাথমিক প্রশিক্ষণের কাজ। আপাতত তাৎক্ষণিক সাফল্য নিয়েই এগোতে চাইছেন গবেষকরা।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading