নির্বাচনে হেরে গিয়েও ক্ষমতা ছাড়তে চান না জাপানের প্রধানমন্ত্রী

নির্বাচনে হেরে গিয়েও ক্ষমতা ছাড়তে চান না জাপানের প্রধানমন্ত্রী

উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ২১ জুলাই, ২০২৫, আপডেট ১২:২৮

জাপানের ক্ষমতাসীন জোট দেশটির পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা বলেছেন, তার এখনই সরে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই।

রবিবার তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে ভোটাররা ভোট দিয়েছেন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক হুমকির ইস্যুর কারণে এই নির্বাচন হয়েছে ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ও এর অংশীদার কোমেইতোর জন্য হতাশাজনক।

ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি ‘এই কঠিন ফল’ আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেছেন, তবে এখন তার দৃষ্টি হলো বাণিজ্য আলোচনা।

এর আগে গত বছর দেশটির শক্তিশালী নিন্মকক্ষেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর এবার উচ্চকক্ষেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালো তার জোট। এটি জোট সরকারের প্রভাব কমাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

দেশটির ২৪৮ সদস্যের উচ্চকক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে ক্ষমতাসীন জোটের ৫০টি আসন দরকার ছিল।

রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম এনএইচকের রিপোর্ট অনুযায়ী, তারা ৪৭টি আসন পেয়েছে। আরও একটি আসনের ফল ঘোষণা বাকি আছে।

উচ্চকক্ষের অর্ধেকের মতো আসনে রোববার ভোটগ্রহণ হয়েছে। এর সদস্যরা ছয় বছর মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হয়ে থাকেন।

কান্দা ইউনিভার্সিটি অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের জাপানিজ স্টাডিজের শিক্ষক জেফরি হল বিবিসি নিউজকে বলেছেন, এলডিপির রক্ষণশীল সমর্থন ভিত্তিকে ভাগ করেছে কয়েকটি ডানপন্থী দল। প্রধানমন্ত্রী ইশিবাকে যথেষ্ট রক্ষণশীল বলে মনে করেন না সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সমর্থকরা। তারা মনে করেন, তার শুধু জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গীই নেই তা নয়, বরং চীনের বিরুদ্ধেও তার শক্ত দৃষ্টিভঙ্গী নেই, যা শিনজো আবের ছিল।

এবারের নির্বাচনের ফলকে ভোটারদের হতাশার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য আলোচনার বিষয়টি এতে ভূমিকা রেখেছে।

বহু মানুষ মূল্যস্ফীতি নিয়ে চরম অসন্তুষ্ট, বিশেষ করে চালের দাম নিয়ে। এর সাথে রয়েছে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এলডিপিকে ঘিরে হওয়া নানা কেলেঙ্কারি।

এলডিপির শেষ তিন প্রধানমন্ত্রীকে উচ্চকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে পদত্যাগ করতে হয়েছিল দুই মাসের মধ্যে এবং বিশ্লেষকরা মনে করেন এবারেও একই বিষয় হতে পারে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading