বিমান দুর্ঘটনায় নিহত মাইলস্টোনের শিক্ষিকার মরদেহ দাফন
উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) ২০২৫, আপডেট ২২:৫০
রাজধানীর উত্তরায় দিয়াবাড়ি মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত শিক্ষিকা মাসুকা বেগম নিপুর মরদেহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া আশুগঞ্জ উপজেলার সোহাগপুর গ্রামে ভগ্নিপতির বাড়িতে আনা হয়েছে।
স্বজনরা জানান, মাসুকা বেগম নিপু মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বাংলা মিডিয়ামের ইংরেজির শিক্ষক ছিলেন। বিমান দুর্ঘটনার সময় তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছিলেন। পরে তিনি গুরুতর আহত হওয়ার পর তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। পরে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (২১ জুলাই) রাত সোয়া ১২টার দিকে মারা যান। তার মৃত্যুর খবর পেয়ে স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
মাসুকা বেগম নিপুর বোনের মেয়ে ফাহমিদা খানম হৃদি বলেন, খালামণি আমাদের খুবই আদর করতেন। সন্তানের মতো ভালোবাসতেন। তিনি কখনও কখনও শাসনও করতেন। তবে তার মধ্যেও আদর ছিল। আমরা খালামণির মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ হয়েছি। মহান আল্লাহর কাছে এবং দেশবাসীর কাছে খালামণির জন্য দোয়া চাচ্ছি।
নিহতের পিতা সিদ্দিক আহমেদ চৌধুরী বলেন, আমার কন্যার মৃত্যুতে পরিবারের সদস্যরা ভেঙে পড়েছে। আমি আর বেশি কিছু কথা বলতে পারছি না। আমি সবার কাছে দোয়া চাই, আমার মেয়ের জন্য।
নিহতের বোনের স্বামী খলিলুর রহমান বলেন, আমার শ্যালিকা খুব বিনয়ী এবং ভদ্র ছিলেন। আকস্মিক এই মৃত্যু আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। আল্লাহ তাকে বেহেশতে নসিব করুক। দেশবাসীর কাছে তার জন্য দোয়া চাচ্ছি। নিহত সব শিশুর জন্য দোয়া চাচ্ছি। প্রতিটি পরিবারকে যেন এই শোক সহ্য করার তৌফিক দান করেন, মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে এই প্রার্থনা করছি।
নিহত মাসুকা বেগম নিপুর গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার চিলোকুট গ্রামে। তিনি চিলোকুট চৌধুরী বাড়ির সিদ্দিক আহমেদ চৌধুরীর মেয়ে। তবে তার বৃদ্ধ বাবা, বড় মেয়ে পাপিয়া আক্তার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলা সোহাগপুর গ্রামে বসবাস করছেন। যার কারণে ওই শিক্ষিকার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী মঙ্গলবার বাদ আসর আশুগঞ্জ সোহাগপুর ঈদগাহে নামাজে জানাজা শেষে সেখানেই তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
জানাজায় আশুগঞ্জের বিশিষ্টজনরা অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তারা দোয়া কামনা করেন।
ইউডি/এবি

