পৃথিবীতে প্রাণের উৎস সন্ধানে যুগান্তকারী মোড়
উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫, আপডেট ০৯:২০
পৃথিবীর বুকে প্রাণের স্পন্দন ঠিক কবে শুরু হয়েছিল সেই রহস্যের জট খুলতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা এক চমকপ্রদ তথ্য সামনে এনেছেন। এতদিনকার প্রচলিত ধারণা বদলে দিয়ে নতুন এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে যে, পৃথিবীতে প্রাণের আবির্ভাব ঘটেছিল আমাদের ভাবনারও অনেক আগে। বিশালাকায় নীল তিমি থেকে শুরু করে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অণুজীব কিংবা সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ; বর্তমান বিশ্বের সমস্ত প্রাণের মূলে রয়েছে একটিই সাধারণ উৎস। বিবর্তনের আদিমতম এই পূর্বসূরিকে বিজ্ঞানীরা চেনেন ‘লাস্ট ইউনিভার্সাল কমন অ্যানসেস্টর’ বা সংক্ষেপে ‘লুকা’ নামে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, এই আদি প্রাণের জন্ম হয়েছিল পৃথিবী সৃষ্টির মাত্র ৪০ কোটি বছর পরেই, যা আগের হিসাবের চেয়ে অন্তত ২০ কোটি বছর এগিয়ে।
পৃথিবীর বয়স প্রায় ৪৬০ কোটি বছর। বিজ্ঞানীরা আগে ধারণা করেছিলেন, ৪০০ কোটি বছর আগে প্রাণের সঞ্চার হয়েছিল। কিন্তু ব্রিটেনের ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের নেতৃত্বে করা এক অত্যাধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে, আজ থেকে প্রায় ৪২০ কোটি বছর আগেই ‘লুকা’ পৃথিবীতে দাপিয়ে বেড়াত। ‘নেচার ইকোলজি অ্যান্ড ইভোলিউশন’ জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় বিজ্ঞানীরা আণুবীক্ষণিক ফাইলোজেনেটিক্স কৌশল এবং বিবর্তনের এক জটিল গাণিতিক মডেল ব্যবহার করেছেন। কোটি কোটি বছরের পুরনো কোনো জীবাশ্ম না পাওয়া গেলেও বর্তমানের বিভিন্ন প্রাণীর জিনের তুল্যমূল্য বিশ্লেষণ করে তারা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।
এই রহস্যময় ‘লুকা’ আসলে ছিল একটি সরল এককোষী অণুজীব বা প্রোক্যারিওট। তবে সরল গঠন হলেও এর মধ্যে এক আদিম রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা থাকার ইঙ্গিত পেয়েছেন গবেষকরা। আশ্চর্যের বিষয় হলো, সে সময় এই অণুজীব পৃথিবীতে একা ছিল না। বিজ্ঞানীদের অনুমান অনুযায়ী, লুকা’র বর্জ্যের ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকত এমন আরও কিছু অণুজীবও তখন বিদ্যমান ছিল। অর্থাৎ সৃষ্টির ঊষালগ্নেই পৃথিবীতে একটি প্রাথমিক বাস্তুতন্ত্র গড়ে উঠেছিল। ক্যামব্রিয়ান বিস্ফোরণের কয়েকশ কোটি বছর আগেই যে প্রাণ তার ডালপালা মেলতে শুরু করেছিল, এই আবিষ্কার তা আবারও প্রমাণ করল। প্রাণের বিবর্তনের ইতিহাসে এই নতুন সময়কাল বিজ্ঞানের জগতে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।
ইউডি/কেএস

