‘কালো অধ্যাদেশ’ বাতিলের দাবি ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসায়ীদের

‘কালো অধ্যাদেশ’ বাতিলের দাবি ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসায়ীদের

উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ০৪ জানুয়ারি , ২০২৬, আপডেট ১২:৫০

ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসার স্বার্থবিরোধী ‘ট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ-২০২৬’ বাতিলের জোর দাবি জানিয়েছেন এই খাতের শীর্ষ নেতা ও ব্যবসায়ীরা। তারা এই অধ্যাদেশকে ‘কালো অধ্যাদেশ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

রবিবার (৪ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে ‘আটাব সদস্য কল্যান ঐক্য জোট’ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আটাবের সাবেক সভাপতি মনজুর মোর্শেদ মাহবুব বলেন, নতুন অধ্যাদেশের একাধিক ধারা ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসার পরিপন্থি। এই অধ্যাদেশ কার্যকর হলে দেশে প্রায় পাঁচ হাজার ট্রাভেল এজেন্সি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গত ১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে এই অধ্যাদেশের গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। এতে সংযোজিত কয়েকটি ধারা, উপধারা ও দফা ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসাকে কার্যত অচল করে দেবে।

তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৩ সালের ৬১ নম্বর আইনের ধারা ৪-এর উপধারা (খ)-এর দফা (ঙ) অনুযায়ী হলফনামায় অন্য কোনো ট্রাভেল এজেন্সি থেকে টিকিট ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অথচ বাংলাদেশে নিবন্ধিত প্রায় ৫ হাজার ৮০০ ট্রাভেল এজেন্সির মধ্যে মাত্র ৮০০টি আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা ‘আয়াটা’-এর সদস্য। বাকি প্রায় পাঁচ হাজার এজেন্সির নিজস্বভাবে এয়ারলাইনস টিকিট ইস্যুর সক্ষমতা নেই। অন্য এজেন্সি থেকে টিকিট কিনতে না পারলে তারা যাত্রীসেবা দিতে পারবে না এবং লাইসেন্স নবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বার্ষিক ৫০ লাখ টাকার বিক্রয় বিবরণী দেখাতেও ব্যর্থ হবে।

মনজুর মোর্শেদ মাহবুব বলেন, অধ্যাদেশের ধারা ৪-এর উপধারা (গ)-এর দফা (ছ)-এ অফলাইন ট্রাভেল এজেন্সির জন্য ১০ লাখ টাকা ব্যাংক গ্যারান্টির বিধান রাখা হয়েছে। আর্থিক সামর্থ্যের অভাবে যেসব এজেন্সি আয়াটা সদস্য হতে পারেনি, তাদের পক্ষে ১০ লাখ টাকা জামানত দেওয়া সম্ভব নয়।

এ ছাড়া একই ধারায় ট্রাভেল এজেন্সির ঠিকানায় রিক্রুটিং এজেন্সির ব্যবসা পরিচালনা নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো বিদেশগামী অভিবাসী কর্মীদের সেবা সহজ করতে একই ঠিকানায় ট্রাভেল এজেন্সি পরিচালনা করছে। পৃথক অফিস বাধ্যতামূলক হলে খরচ বাড়বে, যার প্রভাব পড়বে অভিবাসী কর্মীদের ব্যয়ের ওপর।

সংবাদ সম্মেলনে শুনানি ছাড়াই লাইসেন্স স্থগিতের বিধান নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। আটাবের সাবেক সভাপতি বলেন, অধ্যাদেশের ধারা ৯-এর উপধারা (আ)-এর নতুন দফা ৩ অনুযায়ী শুনানি ছাড়াই সরকার সাময়িকভাবে নিবন্ধন সনদ স্থগিত করতে পারবে। এতে এজেন্সিগুলো হয়রানির শিকার হবে। যেকোনো সিদ্ধান্তের আগে তাঁরা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দাবি করেন।

একই সঙ্গে নতুন অধ্যাদেশে শাস্তির মেয়াদ ও জরিমানা বৃদ্ধির বিরোধিতা করে জানানো হয়, ধারা ১১-এর উপধারা ১ অনুযায়ী সাজা ৬ মাসের কারাদণ্ড থেকে বাড়িয়ে ১ বছর এবং জরিমানা ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা আগের মতো ৬ মাসের কারাদণ্ড ও ৩ লাখ টাকা জরিমানার বিধান বহাল রাখার আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আটাব সদস্য কল্যাণ ঐক্যজোটের আহ্বায়ক মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন টিপুসহ অন্যান্য নেতা ও ব্যবসায়ীরা।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading