মাধ্যমিক পর্যায়ে শুরু হচ্ছে নতুন ফুটবল টুর্নামেন্ট ‘প্রধানমন্ত্রী গোল্ড কাপ’

মাধ্যমিক পর্যায়ে শুরু হচ্ছে নতুন ফুটবল টুর্নামেন্ট ‘প্রধানমন্ত্রী গোল্ড কাপ’

উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ০৮ জুলাই, ২০২৬, আপডেট ১৭:২৫

প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের সফল সমাপ্তির পর এবার মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ‘প্রধানমন্ত্রী গোল্ড কাপ’ নামে নতুন একটি টুর্নামেন্ট আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী মাস থেকে শুরু হতে যাওয়া এ টুর্নামেন্টে প্রধানমন্ত্রী নিজে পুরস্কার বিতরণ করবেন এবং আয়োজনের বিভিন্ন পর্যায়ে সম্পৃক্ত থাকবেন।

বুধবার (৮ জুলাই) এ তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবই ও পরীক্ষাকেন্দ্রিক শিক্ষার গণ্ডি থেকে বের করে এনে তাদের দক্ষতা, সৃজনশীলতা, নেতৃত্ব ও দলগত কাজের সক্ষমতা বাড়াতে সারা বছর বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক কার্যক্রম আয়োজনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এরই মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে ফুটবল টুর্নামেন্ট এবং মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে উদ্ভাবনী (ইনোভেশন) প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় আগামী মাসে শুরু হবে ‘প্রধানমন্ত্রী গোল্ড কাপ’। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ভিডিও, ডকুমেন্টারি ও অন্যান্য সৃজনশীল প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হবে, যাতে তারাই নিজেদের সাফল্য, উদ্ভাবন ও সম্ভাবনা তুলে ধরতে পারে।

এসময় আরও জানানো হয়, শিক্ষা খাতে সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের পরিবর্তে বিদ্যমান বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষকের দক্ষতা বৃদ্ধি, কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়ন এবং বিদ্যমান শিক্ষাক্রমের বিস্তৃত পরিমার্জনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। নতুন শিক্ষাক্রম প্রণয়নের পরিবর্তে বর্তমান শিক্ষাক্রমে প্রয়োজনীয় সংযোজন, বিয়োজন ও সংশোধনের কাজ চলছে। এ প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় ২০২৮ সালের মধ্যে শিক্ষা সংস্কারের পূর্ণাঙ্গ প্রতিফলন দেখতে চায় সরকার।

সার্বিক বিষয়ে মাহদী আমিন বলেন, আমরা শুধু সনদনির্ভর শিক্ষা চাই না। আমাদের লক্ষ্য এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে শিক্ষার্থীরা দক্ষতা, যোগ্যতা, দলগতভাবে কাজ করার সক্ষমতা এবং সুনাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলবে। কোথাও ভুল হলে আপনারা সেটি তুলে ধরবেন, আমরা তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করব। আবার ভালো উদ্যোগগুলোকেও মানুষের সামনে তুলে ধরবেন, যাতে আরও বেশি শিক্ষার্থী অনুপ্রাণিত হয়।

শিক্ষা সংস্কারকে দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত ১৬–১৭ বছরের বিভিন্ন সমস্যা চার-পাঁচ মাসে পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়। এ কারণে সরকার ধাপে ধাপে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। আপাতত নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের চেয়ে বিদ্যমান অবকাঠামোর উন্নয়ন, শিক্ষকের মানোন্নয়ন, কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়ন এবং বিদ্যমান কারিকুলামের পরিমার্জনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

উপদেষ্টা আরও বলেন, সরকার নতুন কারিকুলাম প্রণয়ন করছে না বরং বিদ্যমান কারিকুলামকে ব্যাপকভাবে পরিমার্জন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে কয়েকটি নতুন বিষয় যুক্ত করা হবে এবং পাঠ্যবইয়ের বিভিন্ন ত্রুটি সংশোধন করা হবে। পর্যাপ্ত সময় নিয়ে ২০২৮ সালের মধ্যে শিক্ষা সংস্কারের পূর্ণ প্রতিফলন দৃশ্যমান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

একই সঙ্গে গণমাধ্যমের প্রতি শিক্ষাব্যবস্থার সমস্যা ও অনিয়ম তুলে ধরার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উঠে আসা শিক্ষার্থীদের সাফল্য ও অনুপ্রেরণার গল্পও গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশের আহ্বান জানান শিক্ষা উপদেষ্টা।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading