দাফনের জন্য মাশহাদে নেওয়া হলো খামেনির লাশ
উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই, ২০২৬, আপডেট ১৫:৫৫
ইরাক থেকে ইরানের মাশহাদ শহরে নেয়া হয়েছে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির লাশ। আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) এই শহরেই তাকে দাফন হবে। মেহের নিউজ এজেন্সির বরাতে এ খবর জানিয়েছে আল জাজিরা।
আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধবিরতির অবসরে ইরান গত শুক্রবার (৩ জুলাই) থেকে খামেনির স্মরণে সাতদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও দাফনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করে। এর মধ্যে একটি দিন প্রতিবেশী ইরাকে কর্মসূচির জন্য নির্ধারণ করা হয়।
খামেনির শোকযাত্রার মধ্যেই গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ইরানে হামলা চালায় আমেরিকা। চার ঘণ্টার অভিযানে ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়। মার্কিন বাহিনীর দাবি, হরমুজ প্রণালী অতিক্রমকারী তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার জবাবেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বেশ কয়েকটি মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানায়, বাহরাইন ও কুয়েতে আমেরিকার ৮৫টি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
আমেরিকা ও ইরানের এই হামলা পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। তবে এতেও খামেনির শোকযাত্রা থামেনি। ইরানের পবিত্র শহর কোম-এ বিশাল শোকযাত্রা শেষে মঙ্গলবার রাতেই খামেনির লাশ ইরাকের নাজাফ শহরে নেয়া হয়।
সেখানে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং খামেনির বড় ছেলে মোস্তাফা হোসেইনি খামেনির উপস্থিতিতে ইরাকি কর্মকর্তা ও জ্যেষ্ঠ রাজনীতিকরা কফিন গ্রহণ করেন। গত বুধবার (৮ জুলাই) নাজাফ শহরে শোকযাত্রা হয়।
নাজাফের কর্মসূচি শেষে খামেনির লাশ প্রায় ৬০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত কারবালায় নেওয়া হয়। সেখানে ইমাস হোসেইনের মাজারে এবং আল-আব্বাসের মাজারে আরেকটি শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। শোকযাত্রার মধ্যেই বুধবার রাতে ইরানে ফের হামলা চালায় আমেরিকা। পাল্টা হামলা করে ইরানও।
এর ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার ইরাক থেকে ইরানে নেয়া হয় খামেনির লাশ। আজ মাশহাদে দাফনের মধ্যদিয়ে সাতদিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় দাফন অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে।
ইউডি/রেজা

