ইমরান খানের চিকিৎসা ও পরিবারের সাক্ষাতের দাবিতে ২১ সাবেক অধিনায়কের চিঠি

ইমরান খানের চিকিৎসা ও পরিবারের সাক্ষাতের দাবিতে ২১ সাবেক অধিনায়কের চিঠি

উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, আপডেট ১২:৫৯

কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য একটি স্বাধীন মেডিকেল বোর্ড গঠনের দাবি জানিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের কাছে চিঠি দিয়েছেন বিশ্বক্রিকেটের ২১জন অধিনায়ক। রবিবার (২৩ আগস্ট) প্রকাশিত এই চিঠিতে একই সঙ্গে তারা সপ্তাহে একবার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ নিশ্চিত করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কোনো চিকিৎসা যেন বিলম্ব ছাড়াই দেওয়া হয়, সেই আহ্বান জানিয়েছেন।

১৯৯২ সালে পাকিস্তানকে তাদের একমাত্র ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতানোর পর ইমরান খান ১৯৯০-এর দশকে রাজনীতিতে নাম লেখান ইমরান খান। তার আগে তিনি ছিলেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অন্যতম সফল অলরাউন্ডার। ১৯৭০-এর দশকের শেষ দিক থেকে ১৯৯২ সালে অবসর নেওয়া পর্যন্ত তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বহু বড় তারকার বিপক্ষে খেলেছেন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ১৪ জন সাবেক অধিনায়ক ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে একটি চিঠি লিখেছিলেন। তার পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, চোখের সমস্যার কারণে তিনি ডান চোখে প্রায় সম্পূর্ণ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন এবং কারাগারে তার যথাযথ চিকিৎসা হচ্ছে না। তবে পাকিস্তান সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, কারাগারেই ইমরানকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এই সপ্তাহে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ আদালত ইমরান খানকে বিশেষজ্ঞ পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য বেসরকারি শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে তাকে সরকারি পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (পিআইএমএস) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সরকার স্থান পরিবর্তনের কারণ হিসেবে ‘নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ’–এর কথা উল্লেখ করেছে। ইমরানের পরিবার ও তার দল সরকারের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগ তুলেছে। সরকার অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

সাবেক অধিনায়কদের লেখা চিঠির একটি কপি আরব নিউজ প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘আমরা আবারও সম্মানের সঙ্গে অনুরোধ করছি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত মেডিকেল বোর্ডকে, যেখানে মি. খানের নিজস্ব চিকিৎসকরাও থাকবেন, তার স্বাস্থ্যের পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন মূল্যায়ন করার সুযোগ দেওয়া হোক। বিশেষ করে তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানোর যে খবর এসেছে, সেটি গুরুত্বের সঙ্গে পরীক্ষা করা প্রয়োজন।’

চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ইন্ডিয়া, শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশের সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক ও ক্রিকেট কিংবদন্তিরা। স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন মাইকেল আথারটন, অ্যালেক্স ব্ল্যাকওয়েল, অ্যালান বর্ডার, মাইকেল ব্রিয়ারলি, গ্রেগ চ্যাপেল, ইয়ান চ্যাপেল, বেলিন্ডা ক্লার্ক, অ্যালিস্টার কুক, মাইকেল গ্যাটিং, সুনীল গাভাস্কার, লি জার্মন, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, ডেভিড গাওয়ার, কিম হিউজ, নাসের হুসেইন, ক্লাইভ লয়েড, কপিল দেব, অর্জুনা রানাতুঙ্গা, অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস, দিলীপ ভেংসরকার, স্টিভ ওয়াহ ও জন রাইট।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট যে সাপ্তাহিক পারিবারিক সাক্ষাৎ পুনর্বহাল করেছে, তা যেন কোনো বাধা বা প্রশাসনিক বিলম্ব ছাড়াই কার্যকর করা হয়।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘চিকিৎসা পরীক্ষার ফলাফল যাই হোক না কেন, সেই পরীক্ষার ভিত্তিতে যে চিকিৎসার সুপারিশ করা হবে, তা যেন কোনো বিলম্ব ছাড়াই প্রদান করা হয়।’

সাবেক অধিনায়কেরা স্পষ্ট করে বলেছেন, তারা রাজনীতিবিদ হিসেবে এই চিঠি লিখছেন না। বরং তারা নিজেদের ‘ক্রিকেট মাঠে গড়ে ওঠা বন্ধন ভাগ করে নেওয়া সাবেক সতীর্থ ও প্রতিদ্বন্দ্বী’ হিসেবে এই আবেদন করছেন। পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া তাদের উদ্দেশ্য নয় বলেও তারা জানান।

ইমরান খান ২০২৩ এর আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার পর থেকে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থেকে শুরু করে ২০২৩ সালের মে মাসে তার সংক্ষিপ্ত গ্রেপ্তারের পর সমর্থকদের সহিংসতার সঙ্গে সম্পর্কিত অভিযোগসহ বহু মামলা হয়েছে। ইমরান সব ধরনের অপরাধ অস্বীকার করে আসছেন এবং মামলাগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করছেন। সরকার অবশ্য তাকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ইমরান ২০১৮ সালের আগস্ট থেকে ২০২২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। পরে পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন।

ইমরানের স্বাস্থ্য বর্তমানে পাকিস্তানের রাজনীতিতে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়। এর আগেও তাকে ডান চোখের সেন্ট্রাল রেটিনাল ভেইন অক্লুশন (সিআরভিও) চিকিৎসার জন্য পিআইএমএস হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। এই রোগের কারণে দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে কারাগারে অবহেলার কারণে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে, পরিবারের এমন অভিযোগ সরকার অস্বীকার করে আসছে।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading