খাতুনগঞ্জের আড়তে পচা পেঁয়াজের স্তুপ
উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ১৭ নভেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১১:১২
দেশে পেঁয়াজের মহাসংকট চলছে। ফলে দাম বিশ্ব ইতিহাসে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। ২৫০টাকা কেজি ছাড়ানোর পরও আড়ত্দারদের মন ভরেনি। আরও বাড়লে হয়তো বিক্রির জন্য আলোতে আসতো অন্ধকারে লুকিয়ে রাখা টনে টনে পেঁয়াজ। কিন্তু অসত্ উদ্দেশ্য সব সময় যে কাজে লাগে না, তা প্রমাণ মিলেছে চট্টগ্রামের পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে। সেখানে আড়ত্ থেকে প্রায় ১৫ টন পচা পেঁয়াজ ফেলে দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জের মসলা মার্কেট হিসেবে খ্যাত হামিদুল্লাহ মার্কেট, চাঁন মিয়া বাজার এবং মধ্যম চাক্তাই এলাকায় এসব পচা পেঁয়াজ ফেলে যায় আড়ত্দাররা। তবে নিজেদের অপকর্ম স্বীকার করেননি অসাধু চক্রের সদস্যরা। এই অসাধু আড়ত্দারদের ভাষ্য, ওই পেঁয়াজ মিয়ানমার থেকে আনা। পরিবহনের সময় সেগুলো নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। পরে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ময়লা ফেলার গাড়িতে করে এসব পেঁয়াজ নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি থানার আরেফিন নগর এলাকার আর্বজনা ফেলার স্থানে নিয়ে ফেলে। ৩৫ নম্বর বক্সিরহাট ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্নতা পরিদর্শক আহমদ ছফা বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে হামিদুল্লাহ মার্কেটের ভেতরে ও বাইরে এবং চাঁন মিয়া বাজার ও মধ্যম চাক্তাই এলাকায় পচা পেঁয়াজ ফেলে যায়। ‘ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কাছ থেকে খবর পেয়ে চারটা গাড়িতে করে সেগুলো আরেফিন নগর নিয়ে ফেলে আসি। পচা পেঁয়াজ প্রায় ১৫-১৬টন হবে।’ পেঁয়াজ ফেলে দেওয়ার বিষয়ে হামিদুল্লাহ মার্কেট কাঁচামাল আড়ত্দার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিচ বলেন, ‘এসব খারাপ পেঁয়াজ মিয়ানমার থেকে আসছে। সেখান থেকে আনার সময় যেগুলো বোটের (নৌকা) নিচে পড়ে যেগুলো, সেগুলো পচে যায়। এরকম দুই থেকে তিন ট্রাক হবে। যেগুলো বিক্রি হয়নি, সেগুলো ফেলে দেওয়া হয় রাতে। এরপর আর ফেলা হয়নি।’ তবে এই বক্তব্য মানতে নারাজ ক্রেতারা। তাদের দাবি, পেঁয়াজ মজুদ করে দাম বাড়িয়ে বিক্রির পায়তারা করার ফলেই শেষ পর্যন্ত পচে গেছে। নয়তো নৌকা থেকেই ফেলে দেয়া হতো, আড়তে তো পচা পেঁয়াজ রাখার কথা নয়। অভিযুক্ত আড়ত্দারদের খুঁজে বের করে শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন গ্রাহকরা।

