এমপি লিটন হত্যাকাণ্ড মামলার রায় আজ, খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চান স্বজনরা

এমপি লিটন হত্যাকাণ্ড মামলার রায় আজ, খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চান স্বজনরা

উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ২৮ নভেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১০:৫৪

গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে ক্ষমতাসীন দলের সাবেক এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যা মামলার রায় আজ বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) ঘোষণা করা হবে। আজ ১১টার দিকে গাইবান্ধা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে মামলার রায় পড়া শুরু হবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম শফিক। গত ১৯ নভেম্বর গাইবান্ধা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের যুক্তি খণ্ডন শেষে রায়ের দিন ধার্য করেন বিচারক দিলীপ কুমার ভৌমিক। রায়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের সর্বোচ্চ সাজা হবে বলে আশা করছেন এমপি লিটনের স্বজনরা। ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সুন্দরগঞ্জের বামনডাঙ্গার (মাস্টারপাড়া) গ্রামের নিজবাড়িতে খুন হন এমপি লিটন। দুটি মোটরসাইকেলে করে আসা দুর্বৃত্তরা গুলি করে তাকে হত্যা করে পালিয়ে যায়। সেই হত্যাকাণ্ডের দুই বছর ১১ মাসের মাথায় চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার রায় হতে যাচ্ছে। হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) ডা. আবদুল কাদের খানসহ অভিযুক্ত সাত আসামির সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সুন্দরগঞ্জবাসীও। মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের স্ত্রী খুরশিদ জাহান স্মৃতি বলেন, ‘লিটনকে হত্যায় অভিযুক্ত প্রধান আসামি কাদের খাঁনসহ অন্য আসামিদের ফাঁসির আদেশ চাই। সব সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এ মামলায় ন্যায়বিচারের আশা করছি আদালতের কাছে।’ মামলার বাদী ও এমপি লিটনের বোন ফাহমিদা বুলবুল কাকলী বলেন, ‘এ হত্যা মামলাটি দেশজুড়ে আলোচিত। হত্যাকাণ্ডের প্রায় তিন বছর পর এ মামলার রায় হতে যাচ্ছে। পরিকল্পিত এ হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তরা সবাই তাদের অপরাধ স্বীকার করেছে। আদলত সবার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করেই রায় দেবেন বলে আশা করছি।’ এছাড়া মামলার পলাতক আসামিকে দ্রুত গ্রেফতার করে দেশে ফিরে আনার দাবিও জানান তিনি। গাইবান্ধা জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ড যে পরিকল্পিত ছিল তা মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ, আসামিদের স্বীকারোক্তি ও যুক্তিতর্কে প্রমাণ হয়েছে। তাই এ মামলায় অভিযুক্তদের আদালত সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির আদেশ দেবেন বলে আশা করছি।’ তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আবদুল হামিদ বলেন, ‘লিটনকে যেমন পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে, তেমনি এ মামলায় আসামি কাদের খাঁনকে ফাঁসানো হয়েছে। তবে আদালত বিচার-বিশ্লেষণ করে রায় দিলে আসামিরা খালাস পাবেন বলে আশা করি। অন্যথায় রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবো আমরা।’

২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যাকাণ্ডের পরদিন ১ জানুযারি অজ্ঞাত ৫-৬ জনকে আসামি করে সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েন করেন লিটনের ছোট বোন ফাহমিদা বুলবুল কাকলী। পরে অধিকতর তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ৩০ এপ্রিল ডা. আবদুল কাদের খাঁনসহ আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে পুলিশ। ২০১৮ সালের ৮ এপ্রিল থেকে আদালতে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়, শেষ হয় গত ৩১ অক্টোবর। মামলার বাদী ও নিহতের স্ত্রীসহ ৫৯ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। গত ১৮ ও ১৯ নভেম্বর জেলা জজ আদালতের বিচারক দিলীপ কুমার ভৌমিক রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক গ্রহণ করেন। লিটন হত্যাকাণ্ডের পর ক্লু উদ্ধারে মাঠে নামে আইনকৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। কিন্তু আড়াই মাসেও কোনও কূল-কিনারা করা যাচ্ছিলো না। পরে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহ্নত একটি পিস্তুলের ফেলে যাওয়া ম্যাগজিনের সূত্র ধরেই হত্যার রহস্য উন্মোচন করা হয়। এরপর ২০১৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বগুড়ার বাসা থেকে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী সন্দেহে জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি কর্নেল (অব.) আবদুল কাদের খাঁনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

কাদের খাঁনের দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যায় অংশ নেওয়া কিলারদের শনাক্ত ও তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের পর আসামি কাদের খাঁনসহ ছয় আসামি গাইবান্ধা জেলা কারাগারে রয়েছেন। আসামিরা হলেন, কাদের খাঁনের পিএস শামছুজ্জোহা, গাড়িচালক হান্নান, ভাতিজা মেহেদি, শাহীন ও রানা মিয়া। তবে আসামি কসাই সুবল চন্দ্রের মৃত্যু হয়েছে এবং অপর আসামি চন্দন কুমার ভারতে পালিয়েছে। এছাড়া লিটন হত্যার ঘটনায় অস্ত্র আইন মামলায় চলতি বছরের গত ১১ এপ্রিল আবদুল কাদের খাঁনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading