বুরকিনায় সংঘর্ষে ৮০ জঙ্গিসহ নিহত ১১৫
উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ২৬ ডিসেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১০:৫৬
বুরকিনা ফাসোর উত্তরাঞ্চলীয় শহরে জঙ্গি হামলায় ৩৫ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। নিহতদের বেশিরভাগ নারী। হামলার পর নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ৮০ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। সব মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা ১১৫ জন বলে আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে। গত মঙ্গলবার পশ্চিম আফ্রিকার দেশটির প্রেসিডেন্ট এই ঘোষণা দিয়েছেন। মার্কিন বার্তা সংস্থা- অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক প্রতিবেদনে একথা জানা গেছে। মালি সীমান্তবর্তী সাহেল অঞ্চলের অরবিন্দ শহরে এই সহিংসতা ঘটেছে। সেনাবাহিনীর বিবৃতি অনুসারে, জঙ্গিদের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ চলে। অভিযানে অংশ নেওয়া নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যের মধ্যে সাতজন নিহত হয়েছে। এলাকাটিতে জঙ্গি হামলার ঘটনা নিয়মিত হলেও মঙ্গলবারের মতো এতো ব্যাপক প্রাণহানি এর আগে ঘটেনি। প্রেসিডেন্ট মার্ক ক্রিশ্চিয়ান কাবোরে বলেন, আমাদের সেনাদের নায়কোচিত পদক্ষেপের কারণে ৮০ জন সন্ত্রাসীকে নিষি্ক্রয় করা সম্ভব হয়েছে। জঙ্গিদের নৃশংস হামলায় ৩৫ জন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের বেশিরভাগ নারী। খবরে বলা হয়েছে, তাত্ক্ষণিকভাবে জানা যায়নি হামলার সময় কেন এতো বেশি সংখ্যক নারী ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং কেনই বা এতোজন নিহত হলেন। হামলাটির দায় কোনও জঙ্গি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়নি। দেশটিতে অনেকগুলো ইসলামি জঙ্গি গোষ্ঠী সক্রিয়। হামলায় বেসামরিক নাগরিকের নিহতের সংখ্যা বেশি হলে কোনও সংগঠনকেই দায় স্বীকার করতে দেখা যায়নি। গত কয়েক বছর ধরে বুরকিনা ফাসোর মালি সীমান্তে ইসলামি জঙ্গিবাদ ছড়িয়ে পড়েছে। ২০১৩ সালে এই এলাকাতেই অভিযান চালায় ফ্রান্সের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। ২০১৬ ও ২০১৭ সালে দেশটির রাজধানীতে বড় দুটি হামলা চালানো হয়। মূলত বিদেশি পর্যটকদের লক্ষ্য করে ওই হামলা চালায় জঙ্গিরা। জাতিসংঘের মতে, ধারাবাহিক হামলার কারণে দেশটির উত্তর ও পূর্বাঞ্চল থেকে ইতোমধ্যে ৫ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। গত মাসে সন্দেহভাজন জঙ্গিরা কানাডীয় খনি কোম্পানি সেমাফোর কর্মীবাহী একটি গাড়ির বহরে হামলা চালালে ৩৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়। ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ পেলেও বুরকিনা ফাসোর সেনাবাহিনী জঙ্গি সহিংসতা দমনে এখন পর্যন্ত ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।

