নাগরিকত্ব আইনে ‘মুসলমানদেরও’ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে
উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ২৬ ডিসেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১০:৫৮
ভারতে জাতীয় নাগরিক তালিকার (এনআরসি) বিরোধিতা করার কথা জানিয়েছে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির জোটসঙ্গী শিরোমনি অকালি দল। সম্প্রতি সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনে (সিএএ) মুসলমানদেরও অন্তর্ভুক্ত দেখতে চায় দলটি। গতকাল বুধবার ভারতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে এই অবস্থান জানিয়েছেন দলটির নেতা ও রাজ্যসভার আইনপ্রণেতা নরেশ গুজরাল। বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে পালিয়ে যাওয়া হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ, জৈন, পার্সি ও খ্রিস্টানদের নাগরিকত্ব দিতে সম্প্রতি আইন সংশোধন করেছে ভারত। ক্ষমতাসীন দল বিজেপি’র ওই উদ্যোগ নিলে পার্লামেন্টে এর পক্ষে ভোট দেয় অকালি দল। দলটির ওই অবস্থান ব্যাখ্যা করে নরেশ গুজরাল বলেন, ধর্মীয় কারণে নিপীড়নের শিকার হয়ে আসা শিখদের কথা বলা থাকায় আইনটির পক্ষে ভোট দেয় তারা। তিনি বলেন, ‘আমরা সিএএ’র পক্ষে ভোট দিয়েছি কিন্তু বাদল (সুখবির বাদল, অকালি দলের প্রধান) বলে দিয়েছেন মুসলমানদেরও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। আমাদের জন্য এটা উভয়সংকট ছিল কারণ ৬০ থেকে ৭০ হাজার শিখ আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে তালেবানদের হাতে নিপীড়নের শিকার হয়ে ১০-১২ বছর ধরে ভারতে নাগরিকত্ব ছাড়াই বসবাস করছে। অকালি দল শিখদের প্রতিনিধিত্ব করে…কিন্তু আমরা সহনশীলতায় বিশ্বাস করি। আমাদের ভোট দিতে হয়েছে কিন্তু বাদল পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে এতে অবশ্যই মুসলমানদের যুক্ত করতে হবে’। ভারতের জাতীয় নাগরিক তালিকা (এনআরসি) করার উদ্যোগ নিয়েও অকালি দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন নরেশ গুজরাল। তিনি বলেন, নিশ্চিত করে বলতে পারি আমরা এনআরসি’র বিরোধিতা করছি…কারণ মৌলিকভাবে এটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মনে অনিরাপত্তার বোধ তৈরি করেছে। আশা করছি এনআরসি পুনর্বিবেচনা করবে বিজেপি আর নাগরিকত্ব আইনে পরিবর্তন আনবে… দেশে আমরা সহিংসতা ও মানুষ মরে যাওয়া চলতে দিতে পারি না। এর অবসান হওয়া দরকার।

