ইরানের মিসাইল হামলার প্রতিক্রিয়ায় যা বললেন ট্রাম্প
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ০৯ জানুয়ারি ২০২০ । আপডেট ১৬:২৪
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরাকে মার্কিন ঘাঁটিতে মিসাইল হামলা চালানোর পর ইরান ‘মনে হচ্ছে ক্ষান্ত দিয়েছে’। হোয়াইট হাউজ থেকে দেয়া টেলিভিশন বক্তৃতায় ট্রাম্প বলেন, বুধবার ভোরে হামলায় কোনো আমেরিকান বা ইরাকীর প্রাণহানী হয়নি। ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে খুবই সামান্য। তবে হামলার বদলা নেওয়ার কোনো হুমকি দেননি ট্রাম্প। বরং মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরান যদি পারমানবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা বাদ দেয় এবং তার ভাষায়, সন্ত্রাসের পথ ত্যাগ করে, তাহলে শান্তি স্থাপনেও তিনি প্রস্তুত।
যদিও এর আগে কাসেম সোলেইমানি হত্যাকাণ্ডের পর ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, ইরান যদি কোনও রকম হামলা চালায়- তাহলে ৫২টি ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাবে আমেরিকা। কিন্তু ইরান প্রতিশোধ নেয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার সুর নরম করেছেন। এদিকে, ইরান যে নতুন কোনো হামলা চালানোর সম্ভাবনা নাকচ করেছে তাকে ‘ইতিবাচক’ বলে বর্ণনা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, তারা যে ক্ষান্ত দিয়েছে সেটা সবার জন্যই মঙ্গল।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে যে ধরণের সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি তিনি দিচ্ছিলেন বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) তার কিছুই ট্রাম্পের কন্ঠে শোনা যায়নি। তবে সাংবাদিকদের সামনে তার সংক্ষিপ্ত বিবৃতির শুরুতেই ট্রাম্প বলেন- তিনি যতদিন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট থাকবেন ইরানকে পারমানবিক অস্ত্র অর্জন করতে তিনি দেবেন না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে তিনি নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের নির্দেশ দেবেন, যা ততদিন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে যতদিন ‘ইরান তার আচরণ না বদলাবে।’ তবে এ ব্যাপারে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি ব্রিফিংয়ে।
ট্রাম্প বলেন, ১৯৭৯ সাল থেকে ইরানের বহু আপত্তিকর কর্মকাণ্ড সহ্য করা হচ্ছে। অনেক হয়েছে, আর নয়। একইসাথে তিনি বলেন, ইরান একটি মহান দেশ হতে পারে, সে যোগ্যতা তাদের রয়েছে… আমাদের সবার এখন উচিৎ ইরানের সাথে নতুন একটি চুক্তির চেষ্টা করা, যাতে করে বিশ্ব নিরাপত্তা বাড়ে।
ইরাক থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের যে দাবি ইরাকের পার্লামেন্ট করেছে, সে ব্যাপারে কোনো কথা বলেননি ট্রাম্প। তবে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের তেলের কোনো প্রয়োজন আমেরিকার নেই। একইসাথে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে অধিকতর ভূমিকা নেওয়ার জন্য নেটো জোটকে বলবেন।
কাসেম সোলায়মানিকে হত্যার পক্ষে আবারো যুক্তি তুলে ধরেন তিনি। নিহত ইরানি জেনারেলকে সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, তার হাত হাজার হাজার ইরানি এবং আমেরিকানের রক্তে রঞ্জিত ছিল। এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলী খামেনি বলেন, ইরাকে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার মাধ্যমে তারা আমেরিকার ‘মুখে চপেটাঘাত’ করেছেন। আমরা তাদের মুখে চড় মেরেছি।
১৯৭৮ সালের কোম বিক্ষোভের স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বুধবার আয়াতোল্লাহ খামেনি এ কথা বলেন। এ সময় সমবেত জনতা ‘আমেরিকার ধ্বংস চাই বলে শ্লোগান’ দেন।
অনুষ্ঠানে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আরো বলেন, যখন সংঘাতের প্রসঙ্গ আসে তখন এ ধরণের সামরিক হামলা যথেষ্ট নয়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, (মধ্যপ্রাচ্যে) আমেরিকার উপস্থিতি শেষ করে দেয়া। ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানিও বলেছেন, আমেরিকাকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিতাড়িত করতে পারলেই কাসেম সোলেইমানির হত্যার প্রতিশোধ নেওযা হবে। যদিও সেই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন ট্রাম্প। এখন দেখার অপেক্ষা ইরান-মার্কিন উত্তেজনা আরও উত্তপ্ত হয় নাকি প্রশমিত হয়। সেদিকেই দৃষ্টি বিশ্বের সচেতন মানুষের।

