করোনার টিকা উৎপাদনে বড় ভূমিকা রাখছে ইন্ডিয়া!
উত্তরদক্ষিণ ২৭ এপ্রিল ২০২০ । ১৭:৩৫
কয়েকদিন আগেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, করোনাভাইরাসের টিকা তৈরির জন্য আমেরিকা ও ইন্ডিয়া এক সাথে কাজ করছে। এ কথায় সবাই যে বিস্মিত হয়েছেন তা নয়। কারণ, গত তিন দশক ধরেই এ দুটি দেশ টিকা তৈরির একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত যৌথ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। ইন্ডিয়ায় এখন ৬টি প্রতিষ্ঠান কোভিড-১৯ ভাইরাস সংক্রমণের টিকা তৈরির জন্য কাজ করছে। এর একটি হলো সিরাম ইন্সটিটিউট অব ইন্ডিয়া। ওই কোম্পানিটি ৫৩ বছরের পুরনো, তারা প্রতি বছর দেড়শ কোটি টিকা বানায়। ইন্ডিয়ার পুনেতে তাদের প্রধান কারখানা। তবে ছোট আরো দুটো প্ল্যান্ট রয়েছে নেদারল্যান্ডস এবং চেক প্রজাতন্ত্রে। খবর বিবিসির।
মার্কিন গণমাধ্যমটির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আমেরিকান কোডাজেনিক্স নামের একটি বায়োটেক কোম্পানির সাথে একসাথে কাজ করার জন্য চুক্তি করেছে এই সিরাম ইন্সটিটিউট। উদ্দেশ্য হলো কোভিড -১৯এর একটি টিকা তৈরি করা। বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া খবরে জানা যায় যে, পৃথিবীর নানা প্রান্তে এখন ৮০টি ল্যাবে করোনাভাইরাসের টিকা তৈরির কাজ চলছে।
কী ধরণের টিকা?
বলা হচ্ছে, মানবদেহে রোগ সৃষ্টি করে যে অণুজীব বা প্যাথোজেন– তার ক্ষতিসাধনের ক্ষমতা কমিয়ে দেবার কৌশল প্রয়োগ করে তৈরি হচ্ছে এই টিকা। এখানে ভাইরাস থেকে ক্ষতিকর উপাদানগুলো তুলে ফেলে দেয়া হয়, কিন্তু এটাকে মেরে ফেলা হয় না।
মানবদেহে এটা প্রয়োগ করা হলে খুব সামান্য উপসর্গ দেখা দেয় বা একেবারেই কোন উপসর্গ দেখা দেয় না। কারণ ল্যাবরেটরির ওই পরিবর্তিত অবস্থায় প্যাথোজেনটি দুর্বল হয়ে পড়ে। ইন্ডিয়ার সিরাম ইন্সটিটিউটের আদার পুনাওয়ালা ফোনে বলেছেন, তারা এখন প্রাণীর দেহের ওপর এ টিকা পরীক্ষার পরিকল্পনা করছেন। আদার পুনাওয়ালা বলেন, আমরা ইঁদুর ও বানরের ওপর পরীক্ষা চালাতে যাচ্ছি এপ্রিল মাসেই। আর সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই আমরা মানুষের ওপর পরীক্ষা শুরু করতে পারবো বলে আশা রাখি।
অক্সফোর্ডের গবেষণা
এই সিরাম ইন্সটিটিউট ব্রিটেনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে কোভিড-১৯এর টিকা তৈরির যে গবেষণা হচ্ছে তার সাথেও যুক্ত হয়েছে, যার মানবদেহের ওপর পরীক্ষা ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে গত বৃহস্পতিবার। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে তারা ১০ লাখ টিকা তৈরি করবেন, এবং এ ক্ষেত্রে অংশীদার হবে সিরাম ইন্সটিটিউট। অক্সফোর্ডের জেনার ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক এ্যাড্রিয়ান হিল বলছেন, এ বছরের শেষ নাগাদই হয়তো এই করোনাভাইরাস মহামারির লকডাউন থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সারা দুনিয়ার কোটি কোটি টিকা দরকার হবে।
ইন্ডিয়ান কোম্পানির বড় ভূমিকা
এটা স্পষ্ট যে, এ টিকা উৎপাদনের ক্ষেত্রে ইন্ডিয়ার একটা বড় ভূমিকা থাকবে। পুনাওয়ালার প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা আছে অন্তত ৪০ থেকে ৫০ কোটি টিকা উৎপাদনের। তাছাড়া ইন্ডিয়া বায়োটেক নামে আরেকটি হায়দ্রাবাদ ভিত্তিক কোম্পানি ঘোষণা করেছে আমেরিকার উইসকনসিন ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয় এবং মার্কিন ফার্ম ফ্লজেন-এর সাথে ৩০ কোটি টিকা তৈরির অংশীদার হবে তারা। ইন্ডিয়া হচ্ছে জেনেরিক ওষুধ এবং টিকা তৈরির ক্ষেত্রে পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ উৎপাদনকারী। পোলিও, মেনিনজাইটিস, নিউমোনিয়া, রোটাভাইরাস, বিসিজি, হাম, মাম্পস, রুবেলা – এরকম অনেক ছোটবড় রোগের টিকার বড় অংশ তৈরি হয় ইন্ডিয়াতে।
অবশ্য বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করেন, খুব শিগগিরই বাজারে করোনাভাইরাসের টিকা চলে আসবে এটা আশা করা ঠিক হবে না। তারা বলছেন, টিকা তৈরির কাজ যে সফল হবে এমন কোন গ্যারান্টি নেই, এবং মানুষকে হয়তো করোনাভাইরাসের হুমকির মধ্যেই অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত বেঁচে থাকতে হবে।

