চট্টগ্রামের বরখাস্তকৃত এসআই হেলালের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা
উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২০ । আপডেট: ১৯:৩৫
চট্টগ্রামের স্কুলছাত্র সালমান ইসলাম মারুকের ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা ও মা-বোনকে মারধরের পর তার লাশ উদ্ধারের ঘটনায় বরখাস্ত এসআই হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মারুফের মা রুবিনা আক্তারের মামলাটি সোমবার (২৭ জুলাই) চট্টগ্রামের তৃতীয় মহানগর হাকিম শফি উদ্দীনের আদালতে শুনানি শেষে গ্রহণ করা হয়।
আদালত মামলার তদন্তে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে বাদীর আইনজীবী রোখসানা আক্তার জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন ২০১৩ অনুসারে এসআই হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে নির্যাতন এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে। এই ঘটনায় শুধু মারুফই ভিকটিম নয়, তার মা ও বোনও ভিকটিম। মারুফের বোন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় আছে।
আইনজীবী রোখসানা জানান, মামলায় পুলিশের তিন সোর্সকে আসামি করার আবেদন করা হলেও তাদের বিস্তারিত পরিচয় ও ঠিকানা দিতে না পারায় আদালত তা গ্রহণ করেনি। তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের আসামি করা হবে।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (প্রসিকিউশন) মো. কামরুজ্জামান বলেন, এসআই হেলালের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনারকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া অন্য তিন জনকে আসামি তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। মামলার বিষয়ে মারুফের মা রুবিনা আক্তার কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এর আগে চলতি মাসের ১৬ তারিখ রাতে সাদা পোশাকে ডবলমুরিং থানার বাদামতলীর বড় মসজিদ গলিতে অভিযানে যায় পুলিশ সদস্য এসআই হেলাল উদ্দিন। নিহত মারুফের স্বজনদের দাবি, কিছুদিন আগে মারুফের বাসা থেকে সাইকেল ও মোবাইল ফোন চুরি হয়েছিল। সেদিন সন্ধ্যায় দুই লোক গিয়ে মারুফের বাসায় উঁকি দিচ্ছিলেন। এসময় মারুফ তাদের ‘চোর চোর’ বলে ধরে ফেলেন। এরপর এসআই হেলাল পুলিশের লোক পরিচয় দিয়ে মারুফকে মারধর করে এবং থানায় ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা এবং টাকা দাবি করে। মারুফের মা ও বোন পুলিশকে বাধা দেয়। যে দু’জন বাসায় উঁকি দিয়েছেন, তারা নিজেদের পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচয় দেন। আর তাদের সাথে থাকা এসআই হেলাল ছিলেন সাদা পোশাকে।
সেখানে মারধরের পর কিশোর মারুফের বোন আহত হলে মাসহ তাদের হাসপাতালে নেয়া হয়, এরপর বাসা থেকে মারুফের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃত সালমান ইসলাম মারুফ স্থানীয় একটি স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পড়ার খরচ চালাতে স্থানীয় একটি মার্কেটের দোকানে বিক্রয় কর্মী হিসেবেও কাজ করত সে।
স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে সেই রাতে এসআই হেলালকে ক্লোজড করা হয়। সেইসঙ্গে ঘটনার পর চট্টগ্রাম নগর পুলিশের (সিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের উপ-কমিশনার (পশ্চিম) মনজুর মোরশেদকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটি ২০ জুলাই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অগোচরে সাদা পোশাকে আগ্রাবাদের বড় মসজিদ গলিতে গিয়ে মারুফের পরিবারের সদস্যদের মারধর এবং তাকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছিল এসআই হেলাল উদ্দিন। তদন্ত প্রতিবেদনে এসআই হেলালকে বরখাস্তের সুপারিশ করা হলে সেদিনই তাকে বরখাস্ত করা হয়।

