খেটে খাওয়া মানুষের সেবা করাই কর্মচারীদের বড় দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী
উত্তরদক্ষিণ | বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২০ | আপডেট: ১৫:০৫
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে অর্পিত দায়িত্ব দেশের খেটে খাওয়া, অসহায়, বঞ্চিত এবং গ্রামে-গঞ্জে থাকা মানুষদের সেবা করাই সরকারি কর্মচারীদের সব থেকে বড় কর্তব্য। তিনি বলেন, ‘মনে রাখতে হবে, এই দেশের গরিব মানুষ যারা এখনও তৃণমূলে পড়ে আছেন, তারাই এদেশের মালিক। আর তাদেরই ঘর থেকে সবাই লেখাপড়া শিখে আজকে উঠে এসেছেন। কাজেই সেই দিকে লক্ষ্য রেখেই তাদের সেবা করতে হবে।’
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে ৭০তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে তিনি বলেন, “যারা সার্টিফিকেট পেলেন তাদের আমার আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। আপনাদের জীবন সুন্দর হোক, সফল হোক। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে আপনাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করুন।”
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ভিত্তি তৈরি করে দিয়ে গেছেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “তারই পদাঙ্ক অনুসরণ করে আমরা কিন্তু পদক্ষেপ নিচ্ছি।”
স্বাধীনতার পর জাতির পিতা প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে স্বাধীন দেশ ও সমাজের উপযোগী সিভিল সার্ভিস গঠনের আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছিলেন এবং সেভাবে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন জানিয়ে তার এক ভাষণ উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, “তিনি বলেছিলেন- ‘আপনি চাকরি করেন। আপনার মাইনে দেয় ওই গরিব কৃষক। আপনার মাইনে দেয় ওই গরিব শ্রমিক। আপনার সংসার চলে ওই টাকায়। আমি গাড়ি চড়ি ওই টাকায়। ওদের সম্মান করে কথা বলেন। ওদের ইজ্জত করে কথা বলেন। ওরাই মালিক’।
“আজকে যারা নবীন কর্মচারীরা প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন, তাদের কিন্তু এই কথাটাই মনে রাখতে হবে যে, এই দেশের গরিব মানুষগুলো বা এখনও যারা সেই তৃণমূলে পড়ে আছে, তারা এই দেশের মালিক। আর তাদেরই ঘর থেকে কিন্তু আজকে সবাই লেখাপড়া শিখে উঠে এসেছেন। কাজেই সেইদিকে লক্ষ্য রেখেই তাদের সেবা করাটা হবে সব থেকে বড় দায়িত্ব।”
আওয়ামী লীগ সরকার কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “আমাদের এইটুকু মনে রাখতে হবে যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে কিন্তু সেই ট্রেনিং থেকে শুরু করে সবকিছুই আমাদের নতুনভাবে নিতে হবে। অর্থাৎ বিশ্বের সাথে আমাদের সব সময় তাল মিলিয়ে চলতে হবে। সেই কথা মাথায় রেখেই আমরা ইতিমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছি।”
আওয়ামী লীগ সরকারে থাকা অবস্থায় সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন বৃদ্ধি পেয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “শুধু বেতন বাড়ানো না, অন্যান্য সুযোগ সুবিধাও দিয়েছি। কারণ যারা কাজ করবেন তাদের যদি সংসারে টানাটানিই থাকে তাহলে আবার দেশের জন্য কাজ করবেন কিভাবে, মানুষের জন্য কাজ করবেন কিভাবে। সেই কথাটা বিবেচনায় রেখেই সকলের বেতন-বোনাস যেমন বাড়িয়েছি, পাশাপাশি সকলকে আমরা ব্যাংকের স্বল্পসুদে ঋণ দিচ্ছি যাতে ফ্ল্যাট বা বাড়ি তৈরি করতে পারে অথবা গাড়ি ক্রয় করতে পারে। বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করে দিয়েছি এবং চিকিৎসার জন্য আলাদা হাসপাতাল তৈরি করে দিয়েছি।
“আমরা চাই যে আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী হয়েই আমাদের কর্মচারীরা দেশের সেবা করবে, জনগণের সেবা করবে। সেটাই আমার লক্ষ্য।” মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে মন্তব্য করে বিচার না পাওয়ার কি কষ্টের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।
জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যার পর খুনিদের বাঁচাতে তৎকালীন সরকার ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল উল্লেখ তিনি বলেন, “শুধু আমি কেন..১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট যারা শাহাদৎ বরণ করেছিল তাদের কারও বিচার চাওয়ার অধিকার ছিল না। আমার বাবা, মা, ভাই মারা গেছে, আমি একটা মামলাও করতে পারিনি। আমার সেই অধিকারটাও ছিল না। এই সংস্কৃতি যেন বাংলাদেশে আর না থাকে। মানুষ যেন ন্যয়বিচার পায়।”
পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর জাতির পিতার হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, “এটাই হচ্ছে দুর্ভাগ্যের বিষয়। আমরা চাই কোনো অন্যায়-অবিচার যেন না হয়। মানুষ যেন ন্যায় বিচার পায়। মানুষের জীবন মান যেন উন্নত হয়।”
বাংলাদেশকে ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে দেশের উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন সরকার প্রধান। অনুষ্ঠানে গণভবন প্রান্তে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আর বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রান্তে প্রতিষ্ঠানটির রেক্টর মো. রকিব হোসেনসহ বিভাগীয় কমিশনারদের কার্যালয় প্রান্তে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

