করোনাভাইরাস থেকে ‘মুক্ত’ সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়
উত্তরদক্ষিণ | বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২০ | আপডেট: ১৫:১৮
পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় করোনাভাইরাস থেকে সেরে উঠছেন, তার শারীরিক অবস্থারও উন্নতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইন্ডিয়ার গণমাধ্যমগুলো।
আনন্দবাজার জানিয়েছে, এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কলকাতার বেলভিউ নার্সিং হোমে চিকিৎসাধীন সৌমিত্রের নমুনা পরীক্ষায় বুধবার (১৪ অক্টোবর) তার করোনাভাইরাস ‘নেগেটিভ’ এসেছে।
হাসপাতালের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি লিখেছে, এ পর্যন্ত দুই দফা প্লাজমা থেরাপি দেওয়া হয়েছে সৌমিত্রকে। কিডনি, যকৃৎসহ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সচল থাকলেও সোডিয়াম-পটাশিয়ামের তারতম্য নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে চিকিৎসকদের।
বেলভিউ নার্সিং হোমের একজন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে এক প্রতিবেদনে বলা হয়, “এখনই ইনভেসিভ ভেন্টিলেশনে রাখার কথা চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে না। তিনি সঙ্কটমুক্ত নন ঠিকই, তবে চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন।”
সৌমিত্রের প্রস্টেটের পুরনো ক্যান্সার আবার ফিরে এসছে, ছড়িয়েছে ফুসফুস ও মস্তিষ্কেও। মূত্রথলিতেও সংক্রমণ ঘটেছে। তাতে ৮৫ বছর বয়সী অভিনেতার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।
এছাড়া দীর্ঘদিন ধরেই ফুসফুসের জটিল রোগ ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজের (সিওপিডি) সমস্যা রয়েছে সৌমিত্রর। গতবছর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বেশ কয়েকদিন হাসপাতালেও থাকতে হয়েছিল তাকে।
সত্যজিত রায়ের অপু ও ফেলুদা চরিত্রের রূপায়ন করে চলচ্চিত্র সমালোচকদের মনে স্থায়ী আসন নিয়ে আছেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। অনেকে তাকে ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম সেরা অভিনেতা হিসেবে বিবেচনা করেন।
সত্যজিতের ৩৪টি সিনেমার মধ্যে ১৪টিতেই তিনি অভিনয় করেছেন। কাজ করেছেন মৃণাল সেন, অজয় করের মত পরিচালকদের সঙ্গেও।
১৯৫৯ সালে সত্যজিৎ রায়ের হাত ধরে ‘অপুর সংসার’-এ প্রবেশের পর অক্লান্তভাবে অসংখ্য বাংলা চলচ্চিত্রে অভিনয় করে গেছেন সৌমিত্র। পাশাপাশি বহু নাটকেও অভিনয় করেছেন; লিখেছেন গান ও নাটক, এই বয়সেও আবৃত্তি করেন প্রায়ই।
চলচ্চিত্রে ভারতের সর্বোচ্চ সম্মাননা দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার ছাড়াও ফ্রান্স সরকারের ‘লিজিয়ন অব দ্য অনার’ পদকে ভূষিত হয়েছেন এই অভিনেতা। ২০০৪ সালে তাকে ‘পদ্মভূষণ’ খেতাবে ভূষিত করে ভারত সরকার।

