করোনা সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে ২৯ জেলা

করোনা সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে ২৯ জেলা

উত্তরদক্ষিণ | মঙ্গলবার, ৩০ মার্চ, ২০২১ | আপডেট: ১০:৪৭

করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাড়ছে সারা দেশেই, তার মাধ্যে ২৯টি জেলাকে সংক্রমণের হার বিবেচনায় ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সোমবার (২৯ মার্চ) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে- ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, ফেনী, চাঁদপুর, নীলফামারী, সিলেট, টাঙ্গাইল, গাজীপুর, কুমিল্লা, রাজবাড়ী, শরীয়তপুর, কুড়িগ্রাম, নরসিংদী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, মাদারীপুর, নওগাঁ ও রাজশাহী।

ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস শাখায় ২৪ মার্চ পর্যন্ত আসা তথ্য বিশ্লেষণ করে এসব জেলাকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করার জন্য আমাদের একটা কমিটি করা আছে। সেই কমিটিকে আমরা জানিয়ে দিই কোন কোন জেলায় সংক্রমণের হার তুলনামূলক বেশি। ২৪ তারিখ পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে আমরা ২৯টি জেলায় আমরা সংক্রমণের হার বেশি দেখতে পেয়েছি।”

এবার যারা আক্রান্ত হচ্ছেন, তাদের বেশিরভাগ বয়সে তরুণ জানিয়ে অধ্যাপক ফ্লোরা বলেন, “প্রথম দিকে মানুষ বাইরে কম বের হত। তখন আমরা দেখেছি যারা বাইরে যাচ্ছেন, কাজে যাচ্ছেন, তাদের মধ্যে সংক্রমণের হার বেশি।” “এখন সবাই বাইরে বের হচ্ছে। বিশেষ করে ইয়াংরা এখন অনেক বেশি বের হয়। এ কারণে তাদের মধ্যে সংক্রমণের হার বেশি দেখা যাচ্ছে।”

এ পরিস্থিতিতে সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয়সহ সকল ক্ষেত্রে সব ধরনের জনসমাগম সীমিত করাসহ ১৮ দফা নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। যেসব এলাকা সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে, সেসব জায়গায় আন্তঃজেলা যান চলাচল সীমিত করা, প্রয়োজনে বন্ধ রাখার কথা বলা হযেছে নতুন নির্দেশনায়। বিনোদন ও পর্যটনকেন্দ্রে জনসমাগম সীমিত করার পাশাপাশি মেলা বা সামাজিক অনুষ্ঠানে নিরুৎসাহিত করতে বলা হয়েছে।

স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় এতদিন বন্ধই ছিল, তার সঙ্গে মাদ্রাসাও বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। গণপরিবহন এবং হোটেল-রেস্তোরাঁয় মানুষের সংখ্যা আসন সংখ্যার অর্ধেকের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। আর বিদেশ থেকে আসা সবার ১৪ দিন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “মানুষের অবহেলার কারণে নতুন করে সংক্রমণের এই উচ্চমাত্রা তৈরি হয়েছে। এজন্য মানুষ দায়ী।

“গত এক বছর ধরে আমরা যে চর্চাগুলো করেছি, স্বাস্থ্য সুরক্ষায় যে শিষ্টাচারগুলো আমরা শিখেছি, গত দুই-তিন মাসে আমরা চরম আত্মতুষ্টিতে ভুগেছি। এ কারণেই সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি। কোনো স্ট্রেইনকে দায়ী করে লাভ নেই। আমরা এখনও যদি সতর্ক হই, তাহলে অবশ্যই আমরা একে মোকাবেলা করতে পারি।” টিকাকে করোনাভাইরাস মোকাবেলার ‘বড় হাতিয়ার’ হিসেবে বর্ণনা করে নাজমুল হোসেন বলেন, যারা নিবন্ধন করেছেন, তাদের সবার দ্রুত টিকা নেওয়া উচিৎ। “তবে প্রথম ডোজ নেওয়ার পর ইমিউনিটি সেভাবে তৈরি হয় না। দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পর শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে শুরু করে। এ কারণে টিকা নেওয়ার পরও স্বাস্থ্যবিধি শতভাগ মেনে চলতে হবে।

“এখন পর্যন্ত কোনো ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বলেনি যে তাদের টিকা শতভাগ সুরক্ষা দেয়। কাজেই নিরাপদ রাখার জন্য টিকা নেওয়ার পরও শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।” স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলমও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়ে। গত ৩০ নভেম্বরের পর ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত সংক্রমণ ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে। কিন্তু মার্চের শুরু থেকে দৈনিক শনাক্ত রোগী, মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। গত এক দিনে ৫ হাজার ১৮১ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে, যা মহামারী শুরুর পর থেকে সর্বোচ্চ। তাতে দেশে শনাক্ত মোট রোগীর সংখ্যা ৬ লাখ ছাড়িয়ে গেছে; মৃত্যু হয়েছে মোট ৮ হাজার ৯৪৯ জনের।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading