পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন হেফাজতের নায়েবে আমির
উত্তরদক্ষিণ | মঙ্গলবার, ৩০ মার্চ, ২০২১ | আপডেট: ২০:৪০
পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির ও নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির আমির মাওলানা আব্দুল আউয়াল। হেফাজতে ইসলামের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতালের একদিন পর সোমবার (২৯ মার্চ) রাতে শবে বরাতের রাতে বয়ান করার সময় তিনি এই ঘোষণা দেন।
মাওলানা আব্দুল আওয়াল বলেন, ‘আমি বিস্তারিত একটি ভিডিও বার্তায় তুলে ধরেছি। সেখান থেকে আপনার সব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন।’
সেই ভিডিও বার্তায় আব্দুল আওয়ালকে বলতে দেখা যায়, ‘অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে হরতালের দিন বিজিবি, র্যাব, পুলিশ আর আর্মি আমাকে মসজিদে নজরবন্দি করে রেখেছিলেন। তারা আমাকে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ওপর থেকে সরাসরি অ্যাকশনে যাওয়ার অর্ডার রয়েছে। তাই আমি মিছিল নিয়ে হরতাল পালন করতে পারিনি। কিন্তু হেফাজতের একদল অতি উৎসাহী লোক আমাকে বুঝতে চাইছে না। অথচ সেদিন যদি আমি প্রশাসনকে উপেক্ষা করে হরতালের সমর্থনে বের হতাম, তাহলে হয়তো মসজিদে নামাজ পড়ার অবস্থা থাকতো না। মসজিদের সামনে কয়েকটা লাশও পড়তে পারতো।’
আব্দুল আওয়ালকে আরও বলতে দেখা যায়, ‘তখন কিন্তু আপনারাই লাশের পক্ষ নিয়ে বলতেন, মায়ের বুক খালি করে তোমাকে কে নেতৃত্ব দিতে বলেছে? তাই আমি এদিকেও যেতে পারিনি, ওদিকেও যেতে পারিনি। এখন আমার একটাই রাস্তা। আমি আমার জিম্মাদারি ছেড়ে দিলাম। আমি হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্বে আর থাকবো না। আমার আমির পদ দরকার নাই। আমার পক্ষ থেকে আর কোনোদিন ঘোষণা আসবে না। তোমরা যারা অতি উৎসাহীওয়ালা আছো, তোমরা বাবা হেফাজতে ইসলাম করো। আমার বয়স হয়েছে, বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারি না, কথা বলতে পারি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘সোমবার দোয়া মাহফিলের কথা ছিল ডিআইটি মসজিদে। কিন্তু তারা আমাকে সাইড করে দিয়ে দেওভোগ মাদ্রাসা মসজিদে দোয়া মাহফিল করতে বলেছেন। তারা বলেছেন, আমার মতো নেতার প্রয়োজন নেই। তারা যেহেতু আমাকে সাইড করে দিয়েছে তাই আমি সাংবাদিক সম্মেলন করে হেফাজতের আমিরের পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দিবো।’
‘আমি মুসল্লিদের সাক্ষী রেখে বলছি, আমি হেফাজতের আমিরের পদে থাকবো না।’
প্রসঙ্গত, গত রবিবার (২৮ মার্চ) হেফাজতের ডাকা হরতালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড থেকে কাঁচপুর সেতু পর্যন্ত এলাকায় ছয়টি কাভার্ড ভ্যান, আটটি ট্রাক, একটি প্রাইভেট কারসহ মোট ১৭টি গাড়ি পোড়ানো হয়েছে। এ সময় ভাঙচুর করা হয়েছে গণমাধ্যমের গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্সসহ শতাধিক যানবাহন। কমপক্ষে ১০ জন সাংবাদিককে পিটিয়ে আহত করা হয়। ছিনিয়ে নেওয়া হয় মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ, ক্যামেরা।

