মাদক, অস্ত্র আর সন্ত্রাস: সাবেক কর্মকর্তার বয়ানে কিম জং-উনের উত্তর কোরিয়া
উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ১১ অক্টোবর ২০২১ । আপডেট ২২:৩০
সবকিছুতে গোপনীয়তা বজায় রাখা আর অতি সতর্কতার পুরনো অভ্যাসগুলো এখনও ছাড়তে পারেননি কিম কুক-সং।
কী করে পারবেন? ত্রিশটি বছর তিনি কাটিয়েছেন উত্তর কোরিয়া নামের দেশটির অত্যন্ত প্রভাবশালী কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষস্থানীয় পদে।
কিম কুক-সংয়ের ভাষায়, এসব গোয়েন্দা সংস্থা হল উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের ‘চোখ, কান আর মস্তিষ্কের মত’।
সেই কিম কুক-সংয়ের একটি সাক্ষাতকার প্রকাশ করেছে বিবিসি। সেজন্য তাকে রাজি করাতে কয়েক সপ্তাহ ধরে আলাপ চালিয়ে যেতে হয়েছে। তারপরও তার দুশ্চিন্তা কাটেনি।
ক্যামেরার সামনে বসার আগে কালো চশমায় চোখ ঢেকে নেন কিম কুক-সং। সাক্ষাৎকারের জন্য কাজ করা বিবিসির পুরো দলের মধ্যে মাত্র দুজন তখন তার আসল নাম জানতেন।
কিম বলছেন, উত্তর কোরিয়ায় তিনি যতদিন দায়িত্ব পালন করেছেন, গোপন বিষয় গোপনই রেখেছেন। সমালোচকদের হত্যা করতে বিভিন্ন সময় ভাড়াটে খুনি পাঠিয়েছেন। এমনকি বিপ্লবের জন্য তহবিল যোগাতে অবৈধ মাদকের একটি পরীক্ষাগারও তৈরি করেছেন।
তবে শেষ পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ার সাবেক এই কর্নেল সিদ্ধান্ত নেন, বিবিসির কাছে তিনি তার জীবনের গল্প বলবেন। বড় কোনো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে পিয়ংইয়ংয়ের এত উঁচু পর্যায়ের একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তার এটাই প্রথম সাক্ষাৎকার।
সাক্ষাৎকারে কিম বলেছেন, তিনি ছিলেন উত্তর কোরিয়ার ‘লালদের মধ্যে সবচেয়ে লাল’, একজন অনুগত কমিউনিস্ট।
কিন্তু পদবী কিংবা আনুগত্যের কারণে যে উত্তর কোরিয়ায় কারো নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না, সেটা তিনি নিজের জীবনেও উপলব্ধি করেছেন।
২০১৪ সালে নিজের জীবন বাঁচানোর জন্য তিনি পালিয়ে যান দক্ষিণ কোরিয়ায়; তারপর থেকে সিউলেই থাকছেন, কাজ করছেন দক্ষিণ কোরীয় গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে।
তার বর্ণনা অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্য বা আফ্রিকার দেশগুলোতে মাদক কিংবা অস্ত্র বিক্রি থেকে শুরু করে যে কোনো উপায়ে অর্থ উপার্জনের জন্য মরিয়া উত্তর কোরীয় নেতা।
বিবিসির লরা বাইকারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কিম দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে উত্তরের পরিচালিত বিভিন্ন হামলা এবং বিভিন্ন বিষয়ে পিয়ংইয়ং এর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনের কৌশলগুলো নিয়ে কথা বলেছেন।
তার দাবি, উত্তর কোরিয়ার গুপ্তচর ও সাইবার নেটওয়ার্ক পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তে কাজ করতে পারে।
তবে তার এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভয় হয়নি জানিয়ে বিবিসি বলেছে, তারা তার পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পেরেছে এবং যেসব বিষয়ে তিনি কথা বলেছেন, তার মধ্যে কিছু বিষয়ে প্রমাণও যোগাড় করা গেছে।
এসব বিষয়ে লন্ডনে উত্তর কোরিয়া দূতাবাস এবং নিউ ইয়র্ক মিশনে যোগাযোগ করা হলেও সাড়া মেলেনি বলে জানিয়েছে বিবিসি।

