ঘূর্ণিঝড়ে কমলেও ক্ষতি বাড়ছে বজ্রপাত-বন্যায়
উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ১১ অক্টোবর ২০২১ । আপডেট ২৩:২০
এক সময় বঙ্গোপসাগর থেকে কোনো ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশের উপকূলে উঠে আসা মানেই ছিল হাজারো মানুষের মৃত্যু; সে পরিস্থিতি এখন বদলেছে। কিন্তু বদলে যাওয়া জলবায়ু নদী বিধৌত এই বদ্বীপে হাজির করছে নতুন বিপদ।
গত এক দশকে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতির পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন ও জরুরি ভিত্তিতে জান-মাল রক্ষার ব্যবস্থাপনায় উন্নতি হয়েছে অনেক। আর আইলার পর বাংলাদেশে আসা ঘূর্ণিঝড়গুলোতে বাতাসের শক্তিও তুলনামূলকভাবে কম ছিল।
তাতে ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমলেও বজ্রপাত ও বন্যার মত দুর্যোগ শঙ্কা বাড়াচ্ছে। চলতি বছর মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর- এই সাত মাসেই বজ্রপাতে মারা গেছেন অন্তত আড়াইশ মানুষ।
ন্যাশনাল ওশেনোগ্রাফিক অ্যান্ড মেরিটাইম ইন্সটিটিউটের (এনওএএমআই) চেয়ারম্যান ড. সমরেন্দ্র কর্মকার বলেন, “আগে স্যাটেলাইটের স্টিল ছবি, অ্যানিমেশনের ভিত্তিতে কাজ করতাম। এখন গাণিতিক মডেল বলে দিচ্ছে, কয়দিন পরে কোন দিকে যাচ্ছে ঘূর্ণিঝড়, কোথায় আঘাত হানবে।”
তিনি বলেন, ১৯৯১ সালের পর তেমন প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের কবলে বাংলাদেশকে আর পড়তে হয়নি। বড় যে দু-তিনটি ঝড় হয়েছে, সেগুলোর গতিবেগ ঘণ্টায় একশ থেকে দেড়শ কিলোমিটারের মত ছিল।
১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ে বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২২৪ কিলোমিটার, ১৯৯১ সালে ২২০ কিলোমিটার, ২০০৭ সালের সিডরে ২২৩ কিলোমিটার।
আর ঘূর্ণিঝড় মোরায় গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৪৬ কিলোমিটার, রোয়ানুতে ১২৮ কিলোমিটার, কোমেনে ৬৫ কিলোমিটার ও মহাসেনে ১০০ কিলোমিটার।

