শীর্ষ ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জের বিনিয়োগ নিচ্ছে ফোর্বস ম্যাগাজিন
উত্তরদক্ষিণ । শুক্রবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২২ । আপডেট ১৯:০৫
ফোর্বস ম্যাগাজিনে ২০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জগুলোর একটি।
বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের তালিকা প্রকাশের জন্য পরিচিত মিডিয়া ব্র্যান্ডটি বলছে, ডিজিটাল সম্পদবিষয়ক তথ্যের শীর্ষ সূত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশে সহযোগিতা করবে বাইন্যান্সের সঙ্গে নতুন চুক্তি। তবে চুক্তিটি নিয়ে পশ্চিমা মিডিয়া সমালোচকরা সন্দিহান বলে জানিয়েছে বিবিসি, স্বার্থের দ্বন্দ্বের আশঙ্কা করছেন তারা।
২০২০ সালেই ফোর্বসের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছিল বাইন্যান্স। পরে তুলে নেওয়া হয় ওই মামলা।
অন্যদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, তারকা ব্যক্তিত্ব আর সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রচারণার বিপরীতে ক্রিপ্টো সম্পদের অবস্থা অনেকটাই নাজুক, তাদের প্রচারণা আর প্রকাশিত সংবাদ থেকে বড় প্রভাব পড়ে ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজারে। এই বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলেছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাজার পর্যবেক্ষকরা।
নতুন বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়ে এক বিবৃতিতে বাইন্যান্স প্রতিষ্ঠাতা চ্যাংপেং ঝাও বলেছেন, মিডিয়াকে তিনি ক্রিপ্টো বাজার এবং উদীয়মান ব্লকচেইন প্রযুক্তি সম্পর্কে “ভোক্তাদের বিষয়গুলোর বিস্তারিত বোঝানোর এবং শেখানোর জরুরী উপাদান” হিসেবে দেখছেন তিনি।
চীনা বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান এই ধনকুবেরের সম্পদের আকার ১০ হাজার কোটি ডলার বলে ধারণা করা হয়। ফোর্বস ছাড়াও মূল ধারার অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও বাইন্যান্স বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজছে বলে সিএনবিসি’কে জানিয়েছেন ঝাও।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাজার পর্যবেক্ষকদের সমালোচনার মুখে পড়েছে বাইন্যান্স। অন্যদিকে, ফোর্বস বলছে, বাণিজ্য প্রকাশনাটিকে প্রযুক্তি পরামর্শ এবং ব্র্যান্ড বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করবে ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জটি। প্রকাশিত সংবাদের উপর নতুন চুক্তির কোনো প্রভাব পড়বে না বলে দাবি করেছে ফোর্বস। তবে, বিদ্যমান ডিজিটাল সম্পদ সংশ্লিষ্ট দল এবং অন্যান্য খাতের সংবাদকর্মীদের সহযোগিতা করবে এটি।
“মালিকানায় যেই থাকুক না কেন, এক শতকেরও বেশি সময় ধরে নিজেদের স্বাধীনতা ধরে রেখেছে ফোর্বস এবং তাতে কোনো পরিবর্বতন আসবে না। আমাদের সাংবাদিকতার সততাই আমাদের ব্র্যান্ডের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ”– বিবিসি’কে বলেছেন ফোর্বস মুখপাত্র বিল হ্যাঙ্কেস।
বার্তাসংস্থাটি বলছে, ক্রিপ্টো শিল্পের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহুর্তে এলো নতুন এই বিনিয়োগের খবর। গেল কয়েক বছরে বিটকয়েনসহ অন্যান্য ক্রিপ্টোকারেন্সির দাম বেড়েছে কয়েকশ গুণ। মূলধারার ব্যবসা খাতের সংশ্লিষ্ট হওয়ার চেষ্টা করছে ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।
“বাইন্যান্সের ফোর্বসের অংশ বিশেষ কেনা ম্যাকডোনাল্ডের ইয়েল্প-এর অংশ বিশেষ কেনা বা ম্যারিয়টের ট্রিপ অ্যডভাইজরের অংশবিশেষ কেনার সমতূল্য”– টুইটারে এই মন্তব্য করেছেন ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজার বিশ্লেষক হেনরি আর্সলানিয়ান। উভয় প্রতিষ্ঠান স্বাধীনভাবে কাজ করার কথা বললেও এই বিনিয়োগ নানা প্রশ্নের জন্ম দেবে বলে বিবিসি’র কাছে মন্তব্য করেছেন তিনি।
“সরাসরি স্বার্থের দ্বন্দ্ব সৃষ্টি না হলেও আমার মনে হয়ে সে দৃষ্টিভঙ্গিটি থেকেই যাবে।”– বিবিসি’কে বলেন তিনি।
ফোর্বসের প্রতিষ্ঠা ১৯১৭ সালে। দীর্ঘসময় পারিবারিক মালিকানায় আন্তর্জাতিক ব্যবসা সংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রকাশের জন্য আলাদা অবস্থান তৈরি করে নিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের মতো প্রিন্ট মাধ্যম থেকে ডিজিটাল মাধ্যমে অবস্থান তৈরির ক্ষেত্রে বিপাকে পড়েছে ফোর্বসও।
২০১৩ সালে হংকং-এর ‘হোয়েল মিডিয়া’র কাছে প্রতিষ্ঠানটি বিক্রি করে দিয়েছিল ফোর্বস পরিবার। গেল বছরের অগাস্টেই নিউ ইয়র্ক স্টক এক্সেচেঞ্জে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে আত্মপ্রকাশের কথা বলেছিল ফোর্বস। এ কাজে ‘ম্যাগনাম ওপাস’-এর সঙ্গে জোট বাঁধার কথা বলেছিল প্রকাশনাটি। ‘ম্যাগনাম ওপাস’-এর প্রতিষ্ঠাই হয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে শেয়ার বাজারে যোগ দিতে সহযোগিতা করার জন্য।
বিবিসি জানিয়েছে, ওই চুক্তির জন্য ফোর্বসের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৩ কোটি মার্কিন ডলার। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে চুক্তির সব কাজ শেষ হয়ে আসার প্রত্যাশা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। চুক্তি সম্পন্ন হলে নতুন বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ৪০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ পাবে ফোর্বস, যার অর্ধেক আসছে বাইন্যান্স থেকে।
এ প্রসঙ্গে ফোর্বসের প্রধান নির্বাহী মাইক ফেডেরলি বলছেন, “ব্লকচেইন প্রযুক্তি এবং সব উদীয়মান ডিজিটাল সম্পদ সম্পর্কে সহযোগিতামূলক তথ্য সরবরাহ এবং এ সংক্রান্ত সকল ‘রহস্য’ সমাধানে ফোর্বস প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।”
“ফোর্বসে বাইন্যান্সের বিনিয়োগের মাধ্যমে এখন আমাদের হাতে বিশ্বের শীর্ষ ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জের অভিজ্ঞতা, নেটওয়ার্ক এবং সম্পদ এবং বিশ্বের সবচেয়ে সফল ব্লকচেইন উদ্ভাবক আছেন। তাদের সাহায্যে এই খাতের শীর্ষ অবস্থানে যেতে পারবে ফোর্বস।”
বিশ্বজুড়ে ফোপর্বসের ১৫ কোটি পাঠক রয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
ইউডি/সুস্মিত

