বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর দ্বিতীয় কারণ: ব্যাকটেরিয়া আতঙ্ক

বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর দ্বিতীয় কারণ: ব্যাকটেরিয়া আতঙ্ক

উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ২৩ নভেম্বর ২০২২ । আপডেট ১১:৩৫

ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ। প্রাণঘাতি ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে মৃত্যুর এই অনুমিত হিসাব প্রকাশ করা হয় ল্যানসেট জার্নালে। সেখানে বলা হয়েছে, এটি হার্ট অ্যাটাক ও হৃদরোগের পরে মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ তৈরি করেছে। বিশ্বের ২০৪টি দেশ ও অঞ্চল জুড়ে এই গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়। বিস্তারিত লিখেছেন সাদিত কবির

মহামারি করোনা ভাইরাস পৃথিবীকে বিপর্যস্ত করে দিয়ে গেছে। বিশ্বজুড়ে এর দাপট কমতে থাকলেও এখন আক্রান্ত ও মৃত্যু থামছেই না। বাংলাদেশে গত বেশ ক’মাস ধরে ডেঙ্গু প্রকোপ ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করেছে। ইতোমধ্যেই দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগী আক্রান্ত ও মৃত্যুবরণ করেছে ডেঙ্গুতে। এরই মধ্যে নতুন এক গবেষণা আতঙ্ক বাড়াচ্ছে। ল্যানসেট জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণা বলছে বর্তমান বিশ্বে মানব মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারন হচ্ছে ব্যাকটেরিয়া। করোনার আগে ২০১৯ সালের হিসাবে বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর ঘটনায় প্রতি ৮ জনের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণে। ল্যানসেট জার্নালে প্রকাশিত এই নতুন গবেষণায় ২০৪টি দেশ ও অঞ্চল জুড়ে ৩৩টি সাধারণ ব্যাকটেরিয়া প্যাথোজেন এবং ১১ ধরনের সংক্রমণের কারণে মৃত্যুর এই হিসাব প্রকাশ করা হয়েছে। ৩৩টি ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে মাত্র পাঁচটি ব্যাকটেরিয়া অর্ধেক মৃত্যুর জন্য দায়ী। এ গুলো হলো- স্ট্যাফিলোকক্কাস অরিয়াস, এসচেরিচিয়া কোলি, স্ট্রেপ্টোকক্কাস নিউমোনিয়া, ক্লেবসিয়েলা নিউমোনিয়া এবং সিউডোমোনাস অ্যারুগিনোসা। মাইক্রোঅর্গানিজম এজেন্ট বা প্যাথোজেনগুলোর কারণে কোভিড মহামারি শুরু হওয়ার আগের বছর ২০১৯ সালে ৭.৭ মিলিয়ন লোকের মৃত্যু হয়েছে। যা বিশ্বব্যাপী মোট মৃত্যুর ১৩.৬ শতাংশ।

ল্যানসেট জার্নাল

জনস্বাস্থ্য সচেতনতায় নতুন বার্তা: সমীক্ষাটি গ্লোবাল বার্ডেন অফ ডিজিজের কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হয়েছিল, এই বিশাল গবেষণা কার্যক্রমে বিল এবং মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার গবেষক জড়িত ছিলেন। এস. অরেয়াস একটি ব্যাকটেরিয়া যা মানুষের ত্বক এবং নাকের ছিদ্রে অবস্থান করে যা সাধারণ বিভিন্ন রোগের পিছনে রয়েছে। তবে ই.কোলাই সাধারণত খাদ্যে বিষক্রিয়ার মাধ্যমে সংক্রমিত করে। আমেরিকাভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশনের পরিচালক, গবেষণার সহ-লেখক ক্রিস্টোফার মারে বলেছেন, এই নতুন ডেটা প্রথমবারের মতো ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের কারণে বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জের সম্পূর্ণ মাত্রা প্রকাশ পেয়েছে।

ধনী-গরিব অঞ্চল ভেদে ফলাফল ভিন্ন: গবেষণার ফলাফলগুলিকে বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য উদ্যোগের নজরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যাতে অত্যন্ত মারাত্মক এই রোগজীবাণুগুলো শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহনের মাধ্যমে সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা কমানো যায়। গবেষণাটি দরিদ্র এবং ধনী অঞ্চলের মধ্যে তীব্র পার্থক্য নির্দেশ করে। সাব-সাহারান আফ্রিকায়, ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণে প্রতি এক লাখ জনসংখ্যায় ২৩০ জন মারা গেছে। ধনী দেশগুলোতে এই সংখ্যাটি প্রতি এক লাখ লোকের মধ্যে ৫২-এ নেমে এসেছে, যাকে গবেষণায় ‘উচ্চ আয়ের সুপার-অঞ্চল’ বলা হয়েছে, যার মধ্যে পশ্চিম ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং অস্ট্রেলিয়ার দেশগুলি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সুপারবাগ ইনফেকশন বড় হুমকি: সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যখন কোনো ব্যাকটেরিয়া তার বিরুদ্ধে কার্যকর সব ওষুধ প্রতিরোধে সক্ষম হয়ে ওঠে তখন সেটিকে সুপারবাগ বলা হয়। ল্যানসেট মেডিকেল জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুপারবাগ সংক্রমণে ২০১৯ সালে যে ১২ লাখ ৭০ হাজার মানুষ মারা গেছেন তাদের শরীরে সংক্রমণ রোধে সবচেয়ে কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করা হলেও তা কাজে আসেনি। অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স নামে এই নিরব ঘাতক যে দেশগুলোতে খুব দ্রæত ছড়াচ্ছে তার মধ্যে প্রতিবেশি দেশ ইন্ডিয়া একটি। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা জানায়, দেশটিতে প্রতিবছর অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী সংক্রমণের কারণে প্রায় ৬০ হাজার নবজাতকের মৃত্যু হয়। এক জরিপে দেখা গেছে, পাঁচটি প্রধান ব্যাকটেরিয়াল প্যাথোজেনকে (ব্যাকটেরিয়ার জীবাণু) মোকাবেলায় যেসব অ্যান্টিবায়োটিকের সবচেয়ে বেশি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল সেগুলো খুব কমই কাজ করছে। এসব প্যাথোজেনের মধ্যে রয়েছে কলেরা সংক্রামক ই.কোলাই ব্যাকটেরিয়া, নিউমোনিয়ার ব্যাকটেরিয়া এবং শ্বাসনালী ও ত্বকের সংক্রামক রোগ ছড়ানো স্ট্যাফাইলোকক্কাস ব্যাকটেরিয়া। এসব প্যাথোজেনের বিরুদ্ধে প্রধান যেসব অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়, সেগুলো এসব রোগ নিরাময়ে ১৫ শতাংশেরও কম কার্যকর বলে চিকিৎসকরা প্রমাণ পেয়েছেন। তবে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর হল একাধিক ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম অ্যাসিনেটোব্যাক্টার বাউমানি, যেটি সিসিইউতে লাইফ সাপোর্টে থাকা ফুসফুসের সমস্যার রোগীদের আক্রমণ করে।এক গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কার্বাপেনেম নামের একদল অতি শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ এক বছরে ১০ শতাংশ বেড়ে গেছে। ৩০টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল থেকে সংগ্রহ করা তথ্যে এর প্রমাণ পাওয়া গেছে। ইন্ডিয়ার এই গবেষকণার প্রধান ডা. কামিনী ওয়ালিয়া বলেন, এটা খুবই আশঙ্কাজনক। কারণ, প্রাণঘাতী সেপসিস ও আইসিইউতে থাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের বেলায় শেষ চিকিৎসা হিসেবে এই অ্যান্টিবায়োটিক গ্রæপটি ব্যবহার করা হয়।

ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ হয়ে প্রতিনিয়ত নানান রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা

অ্যান্টিবায়োটিক রেসিস্ট্যান্স এক অশনি সংকেত: বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যখাতে নতুন এক অশনি সংকেত অ্যান্টিবায়োটিক রেসিস্ট্যান্স। অ্যান্টিবায়োটিক ড্রাগ এমন এক ধরণের ওষুধ যা ব্যাকটেরিয়া সংক্রমিত রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করে। এই ওষুধ মানুষ বা পশুর দেহে প্রয়োগ করলে এটি শরীরের ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলে বা এর বংশবিস্তার রোধের মাধ্যমে রোগ নিরাময় করে। মানুষের নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম বড় কারণ ব্যাকটেরিয়া। এসব ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসে বিশ্ববাসীর জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছিল অ্যান্টিবায়োটিকের আবিষ্কার। তবে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মের তোয়াক্কা না করে অ্যান্টিবায়োটিকের অতিরিক্ত-অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার থেকে উদ্ভব হচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী নানা ব্যাকটেরিয়ার। অর্থাৎ এ জাতীয় ওষুধের কার্যকারিতা কমছে, যা কেড়ে নিচ্ছে লাখ লাখ মানুষের প্রাণ। অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্টান্ট হয়ে থাকে, এর মধ্যে প্রধান কয়েকটি হলো-বিনা প্রেসক্রিপশনে ঘনঘন অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করলে। পুরো কোর্স শেষ না করে মাঝপথে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া বন্ধ করলে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না। প্রয়োজনের তুলনায় স্বল্প ডোজের অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া হলে। ভাইরাসজনিত কোন অসুখে, অর্থাৎ যেসব ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সময় পরে এমনি সেরে যেত, সেখানে বিশেষ করে শিশুদের অ্যান্টিবায়োটিক দিলে।তাই ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে অ্যান্টিবায়োটিককে চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক আশীর্বাদ বলা যায়। কিন্তু সেই অ্যান্টিবায়োটিক সঠিক উপায়ে প্রয়োগ না করলে হিতে বিপরীত হতে পারে। যদি কারও শরীরে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণজনিত রোগ হয় এবং সেই রোগ নিরাময়ে কেউ যদি চিকিৎসকের পরামর্শমত সঠিক পরিমাণে এবং পর্যাপ্ত সময় ধরে অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ না করেন তাহলে ব্যাকটেরিয়াগুলো পুরোপুরি ধ্বংস না হয়ে উল্টো আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।তখন এই ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে ওই অ্যান্টিবায়োটিক পরে আর কাজ করে না। বাংলাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে সাধারণ রোগ নিয়ে চিকিৎসা নেয়া অনেক মানুষের মধ্যে এই অ্যান্টিবায়োটিক রেসিস্ট্যান্স দেখা দিয়েছে। এর ফলে রোগীর আগে যে অ্যান্টিবায়োটিকে রোগ সারতো, এখন আর সেটি কাজ করছে না। না হলে অত্যন্ত উচ্চ মাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক দিতে হচ্ছে।

ই.কোলাই সংক্রমণ রূপ পাল্টাচ্ছে : রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) বলেছে, ‘ই-কোলাই’ ব্যাকটেরিয়া প্রায় সব ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে। ‘ইমিপেনেম’ অ্যান্টিবায়োটিকের ক্ষেত্রে ৯০ শতাংশ প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে ‘ই-কোলাই’ ব্যাকটেরিয়া। এই জীবাণু সাধারণত তিনভাবে মানবদেহে সংক্রমণ ঘটিয়ে মানুষের মৃত্যু নিশ্চিতে কাজ করে- মূত্রনালির মাধ্যমে সংক্রমণ ঘটিয়ে, কাটা বা ক্ষতস্থানে সংক্রমণ ঘটিয়ে এবং আইসিইউতে রোগীর শরীরে মারাত্মক সংক্রমণ ঘটিয়ে। এছাড়া ‘ই-কোলাই’ ব্যাকটেরিয়া ‘অ্যামিকাসিন’ অ্যান্টিবায়োটিকের ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ, ‘নাইট্রোফুরানটন’-এর ক্ষেত্রে ৭৭ শতাংশ, ‘জেনটামাইসিন’-এর ক্ষেত্রে ৭০ শতাংশ প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে। চীনের শেনজেন শহরের বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে প্রাথমিক তথ্যে জানিয়েছেন, ই.কোলাই নতুন ধরনের একটি ব্যাকটেরিয়া যেটি অত্যন্ত বিষাক্ত এবং সংক্রামক। এর মধ্যে এমন কিছু জিন আছে যা কয়েক ধরনের এন্টিবায়োটিক প্রতিরোধে সক্ষম। আগে কখনো এর প্রাদুর্ভাব ঘটেনি। ব্যাকটেরিয়াটিতে ই.কোলাই এনটেরোএগ্রেগেটিভ ই.কোলই (ইএইসি) এবং এসনটেরোহেমোরহাজিক ই.কোলাই (ইএইচইসি) এ দুই ভিন্ন জীবাণুর জিন আছে। দুটি ভিন্ন গ্রুপের ওই ই.কোলাই জিনের আদান-প্রদান ঘটেই অচেনা এ ব্যাকটেরিয়ার জš§ হয়েছে। এতে করে দুই ধরনের বিষ সৃষ্টি হয়ে তা মানবদেহের মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনছে বলে ধারণা প্রকাশ করেছেন লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী পল উইগলে। এ জীবাণু সংক্রমণে রোগী ডাইরিয়া আক্রান্ত হয়ে এতে রক্তক্ষয় হওয়াসহ টিস্যু এবং কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

উত্তরদক্ষিণ, ২৩ নভেম্বর ২০২২, প্রথম পৃষ্ঠা

নিউমোনিয়ার বড় ঝুঁকিতে বাংলাদেশ : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী বিশ্বে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রতি বছর ৯৩ লাখ ৫০ হাজার শিশুর মৃত্যু হয়। আর দিনে গড়ে প্রায় ২ হাজার ৫০০ শিশুর মৃত্যু হয়। আর এই নিউমোনিয়ার অন্যতম প্রধান কারন ব্যাকটেয়িা ও ভাইরাস। এই ঝুঁকিতে থাকা দেশের মধ্যে বাংলাদেশ পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। উন্নয়নশীল দেশে ৫৪ শতাংশ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসা হলেও বাংলাদেশে এই সংখ্যা ৩৭ শতাংশ। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রতি বছর গড়ে প্রায় লাখ মানুষ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়, যার মধ্যে পাঁচ বছর বয়সের আগে প্রায় ২০ হাজার শিশুর মৃত্যু ঘটে। আইসিডিডিআর,বির দেয়া তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি হাজারে ৩৬১ শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়। পাঁচ বছরের কম বয়সে মারা যাওয়া শিশুদের প্রতি পাঁচটির মধ্যে একটি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত, যা শতকরা হিসাবে ২০টি। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুই দশক ধরে বাংলাদেশের মতো মধ্যম ও স্বল্প আয়ের দেশে শিশুমৃত্যুর প্রথম কারণ নিউমোনিয়া। শিশুর শ্বাসকষ্ট, জ্বর-কাশি, শ্বাসের সময় বুক ভেতরের দিকে দেবে যাওয়া ইত্যাদি নিউমোনিয়ার লক্ষণ। শীতকালে এ রোগের প্রকোপ দেখা দেয়।বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম গণমাধ্যমকে জানান, এ বছর শিশুদের নিউমোনিয়ায় আক্রান্তের হার বেশি দেখতে পাচ্ছেন। গত বছর ২ হাজার ২২৭ শিশু নিউমোনিয়া নিয়ে ভর্তি হলেও চলতি বছরে ইতোমধ্যেই তা ছাড়িয়ে গেছে। সময়মতো টিকা দিলে এ ঝুঁকি কমে। নিউমোনিয়া থেকে বাঁচতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন জীবনযাপনের পাশাপাশি টিকা গ্রহণের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইউডি/সুপ্ত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading