আয়াতুল্লাহ খামেনির ভাগনি ফরিদেহ গ্রেপ্তার

আয়াতুল্লাহ খামেনির ভাগনি ফরিদেহ গ্রেপ্তার
ফরিদেহর মন্তব্যের একটি ভিডিও তার ভাই মাহমুদ মোরাদখানি ইউটিউব ও টুইটারে পোস্ট করার পর তা ইরান প্রশাসনের নজরে আসে। তবে কখন এ মন্তব্যের ভিডিও করা হয়েছে তা স্পষ্ট করে জানা যায়নি।

উত্তরদক্ষিণ । মঙ্গলবার, ২৯ নভেম্বর ২০২২ । আপডেট ১১:৩০

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ভাগনি ফরিদেহ মোরাদখানি দেশটিতে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিজের সমর্থন ঘোষণা করেছেন। এরই মধ্যে আয়াতুল্লাহ খামেনির সঙ্গে অ্যাডলফ হিটলার ও বেনিতো মুসোলিনির মতো স্বৈরশাসকদের তুলনা করার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আমেরিকাভিত্তিক সংবাদ সংস্থা ইউনাইটেড প্রেস ইন্টারন্যাশনালের (ইউপিআই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে ফরিদেহ মোরাদখানি বলেছিলেন, ‘পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক স্বৈরশাসকদের নিপীড়ন আমাদের আর কতদিন দেখতে হবে? হিটলার, মুসোলিনি, চশেস্কু, গাদ্দাফি, সাদ্দাম হুসাইন, রুহুল্লাহ খোমেনি ও সর্বশেষ আয়াতুল্লাহ খামেনির সময়ের অভিজ্ঞতা কি যথেষ্ট নয়?’

ফরিদেহ আরও বলেন, ‘হে পৃথিবীর মানুষ, আমাদের পক্ষে থাকুন। আপনাদের সরকারকে বলুন এ খুনি ও শিশু হত্যাকারী শাসকদের সমর্থন বন্ধ করতে। ধর্মীয় নীতি-নৈতিকতার প্রতি খামেনি সরকারের কোনো আনুগত্য নেই। তারা ক্ষমতা ধরে রাখা ও বলপ্রয়োগ ছাড়া কিছুই বোঝে না।’

ফরিদেহর এসব মন্তব্যের একটি ভিডিও তার ভাই মাহমুদ মোরাদখানি ইউটিউব ও টুইটারে পোস্ট করার পর তা ইরান প্রশাসনের নজরে আসে। তবে কখন এ মন্তব্যের ভিডিও করা হয়েছে তা স্পষ্ট করে জানা যায়নি। মাহমুদ মোরাদখানি বলছেন, তার বোনকে গত বুধবার গ্রেপ্তার করে কারাগারে নেওয়া হয়েছে।

ইরানের মানবাধিকারকর্মীদের সংবাদ সংস্থা হারানা জানায়, চলমান বিক্ষোভে উসকানি ও সহায়তার অভিযোগে গত বুধবার ফরিদেহকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি তেহরানের এভিন কারাগারে রয়েছেন। জেলে যাওয়ার আগেই এ ভিডিওটি করেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে ২০২২ সালের শুরুতেও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। অল্প কিছুদিনের কারাদণ্ড শেষে জামিনে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। ২৩ নভেম্বর আদালতে হাজিরা দিতে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু আদালতে পৌঁছানোর আগেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান তার ভাই মাহমুদ মোরাদখানি।

সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ঠিকভাবে হিজাব না পরার অভিযোগে নৈতিক পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হন কুর্দি তরুণী মাসা আমিনি (২২)। পরে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর পরদিন থেকে দেশটিতে শুরু হয় হিজাববিরোধী বিক্ষোভ, যা এখনো চলছে।

ইউডি/এআই

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading