ইসলামী ব্যাংককে ৮ হাজার কোটি টাকা ধার
উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ০২ জানুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ১৩:১৫
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের তারল্যসংকট আরও প্রকট হয়েছে। বিদায়ী বছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বরে মোট ২৪ দিন বাংলাদেশ ব্যাংকে নগদ অর্থ জমা রাখতে (সিআরআর) ব্যর্থ হয়েছে ব্যাংকটি। এজন্য ইসলামী ব্যাংক জরিমানাও গুনছে।
এমন পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে ও আমানতের বিপরীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চাহিদামতো তারল্য জমা রাখতে আট হাজার কোটি টাকা বিশেষ ধার নিয়েছে ইসলামী ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিরল এই সুবিধা দিয়েছে। ইতোমধ্যে কোনো সুকুক বন্ড জমা ছাড়াই আট হাজার কোটি টাকা দিয়েছে। যার সুদের হার আট দশমিক ৭৫ শতাংশ। সাধারণত সুকুক বন্ড ও বাংলাদেশ সরকার ইসলামিক বিনিয়োগ বন্ড জমা দিয়ে শরিয়াহ ব্যাংকগুলো টাকা ধার নেয়।
তবে ইসলামী ব্যাংকের ব্যবহারযোগ্য বন্ড শেষ হয়ে এসেছে। ফলে বিরল এই ব্যবস্থায় টাকা ধার দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যদিও শরিয়াহ ব্যাংকগুলোকে নির্দিষ্ট সুদে টাকা ধার নেয়ার সুযোগ নেই।
বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডারের ১৬(৪)(ডি) ধারা এবং ১৭(১)(বি) ধারা অনুযায়ী ৯০ দিন মেয়াদে এ অর্থ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকিং পরিভাষায় যা ওভারনাইট বা ওডি সুবিধা হিসেবে বিবেচিত।
সমমূল্যের ‘ডিমান্ড প্রমিসরি নোট’ অর্থাৎ কোনো কারণে ব্যাংকটি বসে গেলে বা দেউলিয়া হলে সম্পদ বিক্রির অর্থ থেকে সর্বপ্রথম কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায় মেটানোর শর্তে এ অর্থ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মেজবাউল হক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আর্থিক সূচকে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ। তবে সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রচারণার কারণে এই ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের আমানত উত্তোলন হয়েছে। আবার ইসলামী ধারার ব্যাংকের জন্য সুকুক ছাড়া কোনো বিনিয়োগ উপকরণ নেই।
‘ফলে এ ধরনের ব্যাংকের বেশিরভাগ বিধিবদ্ধ তারল্য রাখতে হয় নগদে। যে কারণে ইসলামী ব্যাংক সিআরআর ও এসএলআর রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। এ অবস্থায় ব্যাংকটির চাহিদা অনুযায়ী আট হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে’, যোগ করেন তিনি।
ইউডি/এ

