পারমাণবিক শক্তিধর আমেরিকা রাশিয়া চীন: কেন ‘বেলুন যুদ্ধে’ নেমেছে!
উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ১৩:৪০
বর্তমান বিশ্বে ‘বেলুন’ যেন এক আতঙ্কের নাম। সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকার আকাশে চীনা বেলুনের উপস্থিতি নিয়ে উত্তাপ বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন প্লটের জন্ম দিয়েছে। কেননা, এ ঘটনার পর সামনে এসেছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আকাশে ‘বেলুনকাণ্ড’। তালিকায় আছে তাইওয়ান, কানাডা, জাপান, তিব্বত, ইউক্রেনসহ আরও বেশ কিছু দেশের নাম। এই ‘ গোয়েন্দা বেলুন’ কে ‘নতুন অস্ত্র’ বানিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে পারমাণবিক দেশগুলো নেমেছে ‘নয়া যুদ্ধে’। এ নিয়ে আরেফিন বাঁধনের প্রতিবেদন
হঠাৎ শুরু হলো নতুন এক ‘যুদ্ধ’: গত প্রায় দু-সপ্তাহ ধরে বেলুন ইস্যুকে কেন্দ্র করে চীন-আমেরিকার মধ্যে যে ক‚টনৈতিক তিক্ততা শুরু হয়েছে, তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দুই দেশের বিভিন্ন মিত্ররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক স¤প্রদায়ে। গত বৃহস্পতিবার জিনজিয়াং ও তিব্বত অঞ্চলে রহস্যময় বেলুন শনাক্ত করে চীন। এর আগে বেলুন সদৃশ রহস্যজনক বস্তু দেখা গেলে তা ভ‚পাতিত করে চীনা যুদ্ধবিমান। এছাড়া আমেরিকার বিরুদ্ধে ১০ বারের বেশি চীনা আকাশসীমায় অবৈধভাবে বেলুন ওড়ানোর অভিযোগ তুলেছে বেইজিং। অর্থাৎ এমনকাণ্ড আমেরিকাও ঘটিয়েছে। এদিকে গত শুক্রবার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, চীনের নজরদারি বেলুন ভ‚পাতিত করাকে ঘিরে তার কোনো দুঃখ নেই এবং এই কারণে তিনি দেশটির কাছে কখনো ক্ষমা চাইবেন না। তার এই বক্তব্যের এক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা বিবৃতি দেয় চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বলা হয়, ‘প্রতিনিয়ত বিশ্বজুড়ে সংঘাত-সহিংসতা উস্কে দেওয়াই যাদের প্রধান কাজ, তাদের সঙ্গে আলোচনার কোনো প্রশ্নই আসে না।’ বিশ্লেষকরা বলছেন, ওয়াশিংটন ও মস্কোর কর্মকর্তারা এর আগে ক্ষেপণাস্ত্র সংকট তৈরি করেছিল। পারমাণবিকের পরিবর্তে ‘বেলুনকাণ্ড’ ভালো, যা আমেরিকা ও চীনকে একে অপরের বিরুদ্ধে কথা বলতে নতুন প্রেক্ষাপট দিয়েছে।

পরাশক্তিদের গোয়েন্দাগিরি-টানটান উত্তেজনা: চীন-আমেরিকার সম্পর্কের উত্তেজনা ততটা নয় যতটা সোভিয়েত-আমেরিকার সম্পর্কে ছিল। গত জানুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে প্রথমবারের মতো ‘সন্দেহজনক’ একটি বেলুন উড়তে দেখা যায়। বেলুনটি চীন থেকে এসেছে শনাক্ত করে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, আমেরিকার অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য নিতেই এই নজরদারি বেলুন পাঠিয়েছে চীন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেন, চীনের এমন কাজ আমেরিকার সার্বভৌমত্বের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন, আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী কাজ। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অভিযোগের জবাবে বেলুনটির মালিকানা স্বীকার করেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সেই সঙ্গে চীনা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, এটি কোনো গোয়েন্দা নজরদারি বেলুন নয়। আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করতে বেলুনটি ওড়ানো হয়েছিল; পরে বাতাসের গতিবেগে দিক হারিয়ে সেটি আমেরিকার আকাশসীমায় চলে গেছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, সা¤প্রতিক বেলুন ওড়া নিয়ে অযথা বিশ্বের অন্যান্য দেশকে চীনবিরোধী কর্মকাণ্ডের উস্কানি দিয়ে বিশ্বরাজনীতিতে সংকট সৃষ্টি করছে আমেরিকা। তবে নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর আঘাত আসলে তা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে চীন।
বেলুন কাণ্ডের নেপথ্যে সামরিক উচ্চাভিলাষ: গেল কয়েকদিনে আমেরিকাসহ বেশ কয়েকটি দেশের আকাশসীমায় ওড়া বেলুনের সঙ্গে চীনা সামরিক বাহিনীর যোগসাজশ থেকে থাকতে পারে বলে এতোদিন বলে আসলেও সুর পাল্টেছে ওয়াশিংটন। গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউস জানায়, অজ্ঞাত বস্তুগুলোর সঙ্গে চীনা গোয়েন্দা নজরদারির কোনো সম্পর্ক নেই। আমেরিকার নজরদারি বেলুন তথ্য সামনে আসায় এমন সুরে কথা বলছে ওয়াশিংটন বলে ধারণা বিশ্লেষকদের। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জন কিরবি সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে উড়তে থাকা ও পরে যুদ্ধবিমান পাঠিয়ে ধ্বংস করা তিনটি রহস্যময় বস্তুর সঙ্গে চীনা গোয়েন্দাগিরির সম্পর্ক থাকার কোনো ইঙ্গিত আপাতত পাওয়া যায়নি। গবেষণাকাজে কিংবা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে এগুলো ওড়ানো হয়ে থাকতে পারে। গত বৃহস্পতিবার হোয়াইহাউসে বাইডেন বলেন, ‘আমি এই বিষয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শির সঙ্গে আলোচনা আশা করছি এবং আমরা এই বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখব।’ বাইডেন জোর দিয়ে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কোনো স্নায়ুযুদ্ধের সূচনা করতে চায় না।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘আমি সবসময়ই মার্কিন জনগণের স্বার্থ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে কাজ করে যাব।’ প্রত্যুত্তরে, আলোচনায় রাজি নয় বলে জানিয়েছে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ইউডি/এজেএস

