মেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ করতে ছাত্রীদের বিষ প্রয়োগ: ইরানের উপমন্ত্রী
উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ২০:০০
মেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ করতে শত শত ছাত্রীকে কিছু লোক ইচ্ছাকৃতভাবে বিষপ্রয়োগ করছে বলে জানিয়েছেন দেশটির উপ-স্বাস্থ্যমন্ত্রী। গত নভেম্বর থেকে ইরানের কওম শহরে একাধিক ছাত্রীর শরীরে বিষক্রিয়ার প্রমাণ মিলেছে। অনেককে ভর্তি করানো হয়েছে হাসপাতালেও।
রোববার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ইরানের উপস্বাস্থ্যমন্ত্রী ইউনেস পানাহি পরোক্ষভাবে নিশ্চিত করেন, বিষপ্রয়োগের বিষয়টি ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়েছে। পানির সরবরাহের লাইনে ‘রাসায়নিক পদার্থ’ মিশিয়ে বিষপ্রয়োগ করা হয় বলে জানান তিনি।
তিনি আরও জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহে ৫০ জন ছাত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে স্বস্তির কথা হলো, যে রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছিল, তা ভয়াবহ নয়। বিষাক্রান্ত ছাত্রীদের চিকিৎসা শুরু হয়েছে এবং তাদের সকলের অবস্থাই এখন স্থিতিশীল।
এ বিষয়ে আর বিস্তারিত কিছু বলেননি পানাহি। এছাড়া বিষপ্রয়োগের সঙ্গে জড়িত কাউকে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তারের তথ্যও পাওয়া যায়নি। এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে ডয়েচে ভেলে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, অসুস্থ শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা ১৪ ফেব্রুয়ারি শহরটির গভর্নরেটের বাইরে জড়ো হয়েছিলেন। ঘটনার বিষয়ে তারা কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেন। পরদিন ১৫ ফেব্রুয়ারি সরকারের মুখপাত্র আলী বাহাদোরি জাহরোমি বলেন, দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষপ্রয়োগের কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।

এদিকে, গত সপ্তাহে ইরানের প্রসিকিউটর জেনারেল মোহাম্মদ জাফর মনতাজেরি বিষপ্রয়োগের ঘটনাগুলোর বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর ইরানের নীতি পুলিশের হেফাজতে মৃত্যু হয় মাহসা আমিনি নামে এক তরুণীর। এর পর থেকেই দেশজুড়ে শুরু হয় সহিংস বিক্ষোভ। প্রথমে বিক্ষোভ ইরানের কুর্দি অধ্যুষিত উত্তরপশ্চিমাঞ্চলে শুরু হলেও ক্রমে তা দেশটির ৮০টি শহর ও নগরে ছড়িয়ে পড়ে। যা ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে সরকারকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত করেছে।
ইউডি/এ

