প্রকাশে এলো ট্রামের আরেক ‘নারী কেলেঙ্কারী’

প্রকাশে এলো ট্রামের আরেক ‘নারী কেলেঙ্কারী’

উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৩ । আপডেট ১৫:০০

পর্ন তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলসের করা মানহানির মামলা থেকে মুক্তি মিলেছে সাবেক আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। যার ফলে উল্টো স্টর্মির কাছ থেকে এক লাখ ২২ হাজার ডলার পাবেন ট্রাম্প। এরই মধ্যে সামনে এসেছে আরেক নারীর নাম। সাবেক প্লেবয় মডেল ওই নারীর নাম কারেন ম্যাকডুগাল। পর্ন তারকা ড্যানিয়েলসের মতো ট্রাম্পের সঙ্গে তারও সম্পর্ক ছিল বলে তিনি দাবি করেছেন।

কে এই প্লেবয় মডেল? ট্রাম্পের সঙ্গে কীভাবে তার ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে? আর কতদিনই বা ছিলে সেই সম্পর্ক? এসব বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

বিবিসির প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানা যায়, দীর্ঘ ১০ মাস নিয়মিত সম্পর্ক ছিল ট্রাম্প-ম্যাকডুগালের। ঘরসংসার সামলে বিবাহিত ট্রাম্প সেসময় মাসে অন্তত পাঁচ দিন দেখা করতেন ওই নারীর সঙ্গে।

প্লেবয় এই মডেলের জন্ম দেশটির ইন্ডিয়ানা রাজ্যে। ছোটবেলায় তিনি মিশিগানে চলে যান এবং মাত্র ২০ বছর বয়সে মডেলিং শুরু করেন। ১৯৯৮ সালে তিনি প্লেবয়ে যোগ দেন। প্রখ্যাত পামেলা অ্যান্ডারসনের পরে দ্বিতীয় নারী হিসেবে প্লেমেট অব দ্য ইয়ার অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হন তিনিও। একজন কলামিস্ট ও অ্যাডভোকেট হিসেবেও বেশ পরিচিতি রয়েছে ম্যাকডুগালের।

১৯৯৯ সালে পুরুষদের ফিটনেস ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে প্রথম নারী হিসেবে তাকে দেখা যায়। মডেলিংয়ের পাশাপাশি বিজ্ঞাপন ও টিভিতেও কাজ করেছেন তিনি। তবে অপরূপা এই নারী মডেল হিসেবে যতটা আকাঙ্ক্ষিত হয়ে ওঠেন ততটা অভিনেত্রী হিসেবে এগোতে পারেননি। ২০০০ সালে ফিল্ম চার্লিস অ্যাঞ্জেলেসে একটি ভূমিকাতেও অভিনয় করতে দেখা যায়।

২০০৬ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে নিউ ইয়র্কার ম্যাগাজিনকে ম্যাকডুগাল জানান, তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসের প্লেবয় ম্যানশনে ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। সেখানে দ্য অ্যাপ্রেন্টিসের একটি পর্বের শুটিং ছিল তার। ট্রাম্প প্রথম দেখাতেই মুগ্ধ হন, আর ম্যাকডুগালের রূপের প্রশংসা করতে শুরু করেন। তখন ট্রাম্প বিবাহিত ছিলেন।

সিএনএনের সঙ্গে আলাপে ম্যাকডুগাল দাবি করেন, ট্রাম্পের এই সম্পর্ক ছিল প্রেমময়। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই দাবিকে উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, তেমন কোনো সম্পর্ক তাদের ছিল না।

২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় ম্যাকডুগালকে দেড় লাখ ডলার দেয় ন্যাশনাল এনকোয়ারার নামের একটি ট্যাবলয়েড পত্রিকা। চুক্তি ছিল, ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি খোলামেলাভাবে ফাঁস করবেন এবং সম্পর্কের বিষয়ে প্রকাশ্যে আর কোথাও কিছু বলবেন না। তবে ট্যাবলয়েডটি শেষ পর্যন্ত সেই সাক্ষাৎকারটি আর প্রকাশ করেনি। এই কৌশলে আসলে ম্যাকডুগালকে নীরব রাখা হয়েছিল বলে মনে করেন তিনি।

আমার একমাত্র অপরাধ, আমি দেশকে রক্ষা করেছি: ট্রাম্প

এ ধরনের কৌশল ‘ক্যাচ অ্যান্ড মেল’ অপরাধ নামে পরিচিত। ট্রাম্প তার বিষয়ে নেতিবাচক কথা ধামাচাপা দিতে এই কাজ করেছে বলে পরে তদন্তে জানা গেছে।

২০১৬ সালে নির্বাচনের সময় ম্যাকডুগালকে প্রচারণার জন্য অবৈধভাবে কিছু টাকা প্রদান করা হয়। যার ফলে ন্যাশনাল ইনকোয়ারারকে এক লাখ ৮৮ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়।

২০১৮ সালে ম্যাকডুগাল ট্রাম্পের স্ত্রী মেলানিয়ার কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে বলেন, ‘আমি দুঃখিত। আমি আসলেই দুঃখিত। আমি যা করেছি ঠিক করিনি।’

গ্রেপ্তারের কিছুক্ষণ পর মুক্ত ট্রাম্প

ম্যাকডুগাল বর্তমানে নিজেকে মডেল, কলামিস্ট, অ্যাডভোকেট এবং একজন মুখপাত্র হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। যদিও ট্রাম্প বারবারই ম্যাকডুগালের সঙ্গে সম্পর্কের কথা অস্বীকার করে আসছেন।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে চলমান আলোচিত মামলাটি ২০১৬ সালে পর্ন তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলসকে অবৈধভাবে অর্থ দেয়ার অভিযোগে। তবে ট্রাম্প আরও এক নারীকে অর্থ দিয়েছিলে বলে মঙ্গলবার উল্লেখ করেন প্রসিকিউটর। সেই নারীই ম্যাকডুগাল। বিষয়টি সামনে আসার পর ট্রাম্পকে নিয়ে আলোচনার নদীতে নতুন জোয়ার দেখা দিয়েছে।

ইউডি/এ

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading