আমেরিকাসহ সহযোগী দেশগুলোর সায় মেলেনি, তুবও… ইরানের সঙ্গে কী পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে জড়াচ্ছে ইসরায়েল?
আরাফাত রহমান। রবিবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৪, আপডেট ১৫:৪২
ইরানে আক্রমণের ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি ইসরায়েল। গত বৃহস্পতিবার রাতে ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা বৈঠকে বসলেও সেখান থেকে বড় কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা ও ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো এ তথ্য জানিয়েছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তা টাইমস অব ইসরায়েলকে বলেছেন, মন্ত্রীরা কোনো বড় সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতিক্রিয়া কীভাবে দেওয়া হবে, তা নিয়ে মার্কিনিদের সঙ্গে সমন্বয় করার ইচ্ছা ইসরায়েলের আছে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে কৌশলগত আলোচনা অব্যাহত।
ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যম চ্যানেল-১২-এর প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূল মন্ত্রিসভা ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্তকে ইরানের ওপর হামলা চালানোর ব্যাপারে চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেয়নি। এমনকি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও এককভাবে এই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না বলে জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে। চ‚ড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রীদের অনুমোদন দরকার পড়বে। প্রয়োজন হলে টেলিফোনেও সেই অনুমতি নেওয়া যাবে। এর আগে গত ১ অক্টোবর ইরান ইসরায়েলে প্রায় ২০০ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। সেই হামলায় ইসরায়েল কোনো ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার না করলেও ইরান দাবি করেছে, তাদের ৯০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্রই ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। তেহরান সে সময় এ-ও দাবি করেছিল যে, গুপ্তহত্যার শিকার হামাসের প্রয়াত প্রধান ইসমাইল হানিয়া, ইসরায়েলি হামলায় নিহত হিজবুল্লাহর প্রধান হাসান নাসরুল্লাহর মৃত্যুর প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে।
হোয়াইট হাইসের দিকে সবার নজর: আলোচনা শুরু হয় যে ইসরায়েল হয়তো ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালাবে। কিন্তু বিষয়টিতে আমেরিকার সায় নেই। তবে আমেরিকা জানিয়েছে, ইরানকে এই হামলার মারাত্মক পরিণতি ভোগ করতে হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরায়েলি হামলাকে আমেরিকা সমর্থন করে কি না। জবাবে বাইডেন বলেছিলেন, উত্তর হলো, না।’ পাশাপাশি বাইডেন জানিয়েছেন, ইসরায়েল যদি ইরানের তেল স্থাপনায় হামলা চালাতে চায়, সেটাতেও সায় দেবে না আমেরিকা।
এদিকে, আমেরিকার এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যম এক্সিওস জানিয়েছে, ইসরায়েলের মিত্ররা মনে করেন, ইসরায়েল সঠিক পথেই এগিয়ে যাচ্ছে। তবে এই সংবাদমাধ্যমকে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আমেরিকা মনে করে ইসরায়েলের পরিকল্পনা এখনো অনেক আগ্রাসী। এদিকে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর আমেরিকা সফরের কথা ছিল। কিন্তু তার সেই সফর এখনো প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পায়নি। মূলত, ইরান আক্রমণের বিষয়টি আলোচনার জন্য আমেরিকা সফরে যাওয়ার কথা ছিল গ্যালান্তের।
গত সপ্তাহেই ইয়োভ গ্যালান্তের আমেরিকা সফর করার কথা ছিল, ইসরায়েলে ইরানি আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়া জানানোর বিষয়ে আলোচনা করার জন্য। কিন্তু শেষ মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার সফর আটকে দেন। বলেন, এ বিষয়ে তিনিই আগে আমেরিকার সঙ্গে কথা বলবেন। এরই মধ্যে নেতানিয়াহু আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে আলাপ করেছেন টেলিফোনে। কিন্তু তাদের মধ্যে কী কী আলোচনা হয়েছে তা নিয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি তেল আবিব বা ওয়াশিংটন।
ইউডি/এজেএস

