সিরিয়ার ওপর আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলো আমেরিকা

সিরিয়ার ওপর আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলো আমেরিকা

উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, আপডেট ১৫:৪০

সিরিয়ার ওপর থেকে সব ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে আমেরিকা। মার্কিন কংগ্রেসে সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের শাসনামলে আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা স্থায়ীভাবে তুলে নেয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে দামেস্কের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক স্বাভাবিক ও সিরিয়ায় বৈদেশিক বিনিয়োগের পথ সুগম হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট হাফিজ আল আসাদের মৃত্যুর পর ২০০০ সালের জুলাই মাসে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট হন তার ছেলে বাশার আল আসাদ। বাশারের শাসনামলে সিরিয়ার ওপর ডজন ডজন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আমেরিকা। এসব নিষেধাজ্ঞার মধ্যে জ্বালানি তেল বিক্রি এবং বিদেশি বিনিয়োগ বিষয়ক নিষেধাজ্ঞাও ছিল।

সাবেক আল-কায়েদা নেতা আহমেদ আল শারার (মোহাম্মদ জোলানি) নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল শাম ও আরও কয়েকটি গোষ্ঠীর সামরিক অভিযানের মুখে গত বছরের ডিসেম্বরে বাশার আল আসাদের সরকারের পতন ঘটে।

এরপর আহমেদ আল শারার নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। নতুন নেতৃত্ব দেশকে স্থিতিশীল করতে এবং আঞ্চলিক ও পশ্চিমা শক্তির সাথে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা শুরু করে। নতুন সরকারের সঙ্গে দ্রুতই সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ঘোষণা দেয় আমেরিকা ও ইউরোপীয় দেশগুলো।

সৌদি আরব ও তুরস্কের অনুরোধে চলতি বছরের জুলাইয়ে সিরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা অস্থায়ীভাবে স্থগিত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তবে প্রেসিডেন্ট শারা নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহারের দাবি জানান। তিনি বলেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার পুনর্গঠন ও বিনিয়োগে বিদেশি কোম্পানিগুলোকে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে গত সপ্তাহে বার্ষিক প্রতিরক্ষা নীতি বিলের অংশ হিসেবে ‘২০১৯ সিজার সিভিলিয়ান প্রোটেকশন অ্যাক্ট’ বাতিল বিষয়ক বিল মার্কিন পার্লামেন্ট কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে তোলা হয়।

নিম্নকক্ষে পাস হওয়ার পর বিলটি বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) উচ্চকক্ষ সিনেটে উত্থাপন করা হয়। ভোটাভুটিতে বিলটির পক্ষে ভোট দেন ৭৭ জন সিনেটর, বিপক্ষে ভোট পড়ে ২০টি। বিলটি এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি স্বাক্ষর করলেই বিলটি আইনে পরিণত হবে।

ভোটাভুটির পর সিনেটের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির সদস্য জিয়ান্নে শাহীন বলেন, ‘গত কয়েক দশক ধরে সিরিয়ার সাধারণ জনগণ যে অকল্পনীয় ভোগান্তি সহ্য করেছেন। এই পদক্ষেপের ফলে সেই ভোগান্তি থেকে বেরিয়ে দেশকে পুনর্গঠন করার জন্য সত্যিকারের সুযোগ পেলেন তারা।’

এদিকে নিষেধজ্ঞা প্রত্যাহারের খবরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারার সরকার। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল শাইবানি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘সিরিয়ার জনগণের পাশে দাঁড়াতে আমেরিকার সিনেট নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তাকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি।’

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading