সৌদিতে চাবুক মারার প্রথা বিলুপ্ত হচ্ছে!
উত্তরদক্ষিণ ২৫ এপ্রিল ২০২০ । ১৪:০০
শাস্তি হিসেবে চাবুক মারার ‘প্রথা বিলুপ্ত’ করতে যাচ্ছে সৌদি আরব। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের কাছে আসা আইনি নথিপত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ খবর দিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি। শনিবার (২৫ এপ্রিল) ব্রিটিশ গণমাধ্যমটির খবরে বলা হয়, সৌদি আরবের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনায় বলা হয়, চাবুক মারার বদলে কারাদণ্ড বা জরিমানার মতো শাস্তি দেয়া হবে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের উদ্যোগে দেশটির মানবাধিকার পরিস্থিতি সংস্কারের অংশ হিসেবে এই পরিবর্তন করতে যাচ্ছে তারা।
ভিন্ন মতাবলম্বীদের কারাদণ্ড দেয়া এবং সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যার ঘটনায় গত বছর সৌদি আরবের বর্তমান রাজপরিবার ব্যাপক সমালোচনায় পড়ে। মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা ক্যাম্পেইনারদের মতে, বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ মানবাধিকার পরিস্থিতি যেসব দেশে, সৌদি আরব তাদের মধ্যে একটি। সেখানে সাধারণ মানুষের বাক স্বাধীনতা খুবই সীমিত এবং সরকারের সমালোচকদের ঢালাওভাবে গ্রেফতার করা হয়।
সরকারের নেতিবাচক ভাবমূর্তি
চাবুক মারার শাস্তির বিষয়টি শেষবার বিশ্বব্যাপী আলোচনা তৈরি করেছিল ২০১৫ সালে, যখন ব্লগার রাইফ বাদাউইকে সাইবার অপরাধ এবং ইসলাম অবমাননার দায়ে জনসম্মুখে চাবুক মারার শাস্তি দেয়া হয়। রাইফ বাদাউইকে ১০ বছরের জেল এবং এক হাজার চাবুক মারার শাস্তি দেয়া হয়েছিল।
বাদাউই’র কারাদণ্ড চলাকালীন ওই এক হাজার চাবুক প্রতি সপ্তাহে দফায় দফায় মারার কথা ছিল। ২০১৫’র জানুয়ারিতে তাকে ৫০ বার চাবুক মারাও হয়। কিন্তু ওই ঘটনা প্রকাশিত হওয়ার পর সৌদি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় ওঠে। এরপর রাইফ বাদাউইর চাবুক মারার শাস্তি স্থগিত করা হয়।
বিবিসি’র আরব সম্পর্ক বিষয়ক সম্পাদক সেবাস্টিয়ান আশারে’র মতে, ঐ ঘটনা সৌদি আরব সরকারের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। আর সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই চাবুক মারার প্রথা চিরতরে নিষিদ্ধ করতে চাইছে তারা।

