রমাজানেও কাবায় বিরল শূন্যতা!
উত্তরদক্ষিণ ২৫ এপ্রিল ২০২০ । ১৪:২০
প্রায় সাড়ে ১৪শ বছরের ইতিহাসে এমন বিরল চিত্র বিশ্বের মুসলিমরা আর কখনো দেখেনি। শুধু রমজান বা হজের মৌসুমে নয়। সারাবছরই ২৪ ঘণ্টা বিশ্বের অসংখ্য মুসলিম বায়তুল্লাহ বা কাবা শরীরে উপস্থিত হয়ে মহান স্রষ্টার নৈকট্য লাভের জন্য ইবাদত বন্দেগী করতেন। কিন্তু সেই দৃশ্য এখন আর নেই। এক নির্জন শূন্যতায় ছেয়ে গেছে মুসলিমদের কেবলা। সেই সঙ্গে মসজিদে নববীর চিত্রও একই। করোনাময় পৃথিবীতে এরই মধ্যে পবিত্র মাহে রমজান শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু বায়তুল্লাহ ও মসজিদে নববীর দৃশ্য বদলায়নি। এমন চিত্র সারা দুনিয়ার মসজিদগুলোর। এ যেন এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হলো মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য।
করোনভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে অভূতপূর্ব বিধিনিষেধের মধ্যে শুক্রবার বিরান অবস্থায় ইসলামের দুই পবিত্রতম স্থানে রমজান মাস শুরু হয়েছে। মহামারীর কারণে পথ রোজার দিনে সৌদি আরবের মক্কায় বায়তুল হারাম ও জেরুজালেমে আল-কুদস মসজিদে জুমআর জামাত হয়নি।
রমজানের সময় বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা পরিবারের সঙ্গে সমবেত হয়ে ইমতার করে এবং মসজিদে নামাজ পড়তে যায়। কিন্তু এবার মহামারী সেই চিরাচরিত চর্চা পাল্টে দিয়েছে। সমবেত হয়ে নামাজ বা ইফতারের উপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
ইসলামের হিজরী সন অনুযায়ী ১৪৪১ বছরের ইতিহাসে বিরল ঘটনা হিসাবে মক্কার কাবার শরিফ ও মদিনার মসজিদে নবুবি রোজার সময়ে জনসাধারণের জন্য বন্ধ থাকছে।
বৃহস্পতিবার রমজানের প্রথম রাতের তারাবিতে মক্কার মসজিদের ভেতর ইমাম, নিরাপত্তাকর্মী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা শুধু অংশ নেন, যা টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়।
রমজানের সূচনা উপলক্ষে এক বিবৃতিতে দুটি পবিত্র মসজিদের রক্ষক সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান পবিত্র এই মাসেও মহামারীর কারণে ‘সামাজিক দূরত্ব রক্ষার’ প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তার বরাত সৌদি প্রেস এজেন্সি বলছে, এমন পরিস্থিতিতে রমজানের গৌরবময় মাসকে স্বাগত জানাতে হচ্ছে, যখন মসজিদগুলিতে জামাতে নামাজ পড়া নিষিদ্ধ করতে হয়েছে- এটা আমার জন্য বেদনাদায়ক। রিয়াদের বাসিন্দা দুই সন্তানের জননী সারাহ রয়টার্সকে বলেন, এ বছর বিশেষ কোনো অনুভূতি পাচ্ছি না। আমরা রমজানের কোনো আবহ টের পাচ্ছি না।
জেরুজালেমের প্রায় শূণ্য আল-আকসা মসজিদে একজন ইমাম সামান্য কয়েকজন মুসল্লি নিয়ে প্রথম জুমার নামাজ পড়েন। করোনাভাইরাসের বিধিনিষেধ মেনে মিম্বর থেকে নিরাপদ দূরত্ব রেখে মাস্ক পড়া মুষ্টিমেয় কয়েকজন মুসল্লিকে সিজদা দিতে দেকা যায়।
খুতবায় ইমাম বলেন, আমাদের ও সমস্ত মানবজাতির প্রতি দয়া করার এবং প্রাণঘাতী মহামারী থেকে বাঁচাতে পরমকরুণাময় আল্লাহর কাছে আমরা প্রার্থণা করছি। রমজানে সাধারণত সৌদি আরব ও জেরুজালেমের মসজিদগুলোতে হাজার হাজার মুসলমান সমবেত হয়ে নামাজ পড়েন। কিন্তু এবার মুসল্লিদের জামাতে নামাজের বদলে তা টেলিভিশনে দেখতে হবে। বিডিনিউজ।

