মিয়ানমারে জান্তার বিরুদ্ধে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সাহায্য চাইল ‘রক্তাক্ত বিক্ষোভকারীরা’
উত্তরদক্ষিণ | সোমবার, ২৯ মার্চ, ২০২১ | আপডেট: ১৬:১০
মিয়ানমারে সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে সেনাশাসনবিরোধী লড়াইয়ে দেশটির বিভিন্ন নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর সশস্ত্র অংশের সহযোগিতাও চেয়েছে দেশটির গণতন্ত্রপন্থি বিক্ষোভকারীরা।
ডেমোক্রেটিক ভয়েস অব বার্মা নামের একটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, মিয়ানমারের বাণিজ্যিক রাজধানী ইয়াংগনে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে এক বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে। সোমবারের (২৯ মার্চ) এ ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহতও হয়েছে।
এদিন মধ্যাঞ্চলীয় শহর বাগো, মিনহলা, খিন-ইউ, দক্ষিণাঞ্চলীয় মাওলামাইন, পূর্বের দেমোসেও ছোট ছোট বিক্ষোভ হয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
গত মাসে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে সেনাবাহিনীর ক্ষমতা দখলের পর শনিবারই সবচেয়ে রক্তাক্ত দিন দেখেছে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার এ দেশটি। সেদিন মিয়ানমারজুড়ে অন্তত ১১৪ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে মিয়ানমার নাও।
সোমবার ডিভিবি টিভি আগের রাতে আয়েইয়ারওয়াদি অঞ্চলের পাথেইন শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে একজন নিহত হয়েছে বলে জানায়। বাণিজ্যিক রাজধানী ইয়াংগনের সাউথ ডাগন এলাকায় গুলিতে দেড় বছর বয়সী এক শিশু আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদ মাধ্যম মিজিমা। পুলিশ এবং সামরিক জান্তার এক মুখপাত্রের কাছে এ প্রসঙ্গে জানতে চেয়ে ফোন করা হলেও তারা ধরেননি, জানিয়েছে রয়টার্স।
মিয়ানমারজুড়ে বিক্ষোভের অন্যতম প্রধান আয়োজকগোষ্ঠী জেনারেল স্ট্রাইক কমিটি অব ন্যাশনালিটিস (জিএসসিএন) ফেইসবুকে পোস্ট করা এক খোলা চিঠিতে ‘সেনাশাসনের বিরোধিতাকারী জনগণ, তরুণ, নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের সুরক্ষা’ নিশ্চিতে দেশটিতে ক্রিয়াশীল জাতিগত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সহযোগিতা চেয়েছে।
নিহতদের একজনের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় রবিবার(২৮ মার্চ) নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালিয়েছে বলে জানায় প্রত্যক্ষদর্শীরা। এদিন দেশটির বিভিন্ন জায়গায় সহিংসতা আরও ১৩ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে বলে মিয়ানমারের ঘটনাবলী পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিকাল প্রিজনার্স জানিয়েছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী ১ ফেব্রুয়ারির অভ্যুত্থানের পর শুরু হওয়া আন্দোলনে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৬০ বেসামরিক নিহত হয়েছে।

