ডিজিটাল বাংলাদেশ: স্বপ্ন নয়, দিনবদলের গল্প

ডিজিটাল বাংলাদেশ: স্বপ্ন নয়, দিনবদলের গল্প
ডিজিটাল_উত্তরদক্ষিণ

আল-আমিন বিশ্বাস । সোমবার, ০৪ জুলাই ২০২২ । আপডেট ০৯:৩৫

তথ্যপ্রযুক্তির যুগে ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি, পড়াশোনা সবকিছু প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত। সময়ের পরিবর্তনে সবকিছুই প্রযুক্তিনির্ভর। আগে কোনো পণ্য কিনতে হলে বাজারের স্মরণাপন্ন হতে হতো। এখন হয় না। ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের কল্যাণে সে সুযোগ তৈরি হয়েছে। এখন আমরা ঘরে বসেই নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করতে পারি। ডিজিটাল কমিউনিকেশনের ক্ষেত্রে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে পৃথিবী। আমরাও পিছিয়ে নেই। অগ্রগতির পেছনে রয়েছে সরকারি ও তরুণদের নানা উদ্যোগ ও প্রচেষ্টা। দেশে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের ব্যবহার বেড়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষক, মোবাইলে বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে পাচ্ছেন কৃষি সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য। প্রতারণা বা সহিংসতার শিকার হলে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যায় জরুরি সেবা।

জনগণের দোরগোড়ায় তথ্য সেবা পৌঁছে দিতে সরকার বিভিন্ন ধরনের তথ্য ও সেবা ক্ষেত্রে ডিজিটালাইজেশন উদ্যোগ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ৬০০ মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করা হয়েছে। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ নিজেদের প্রয়োজনে এসব মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করছে। তা ছাড়া সরকারের ‘জাতীয় তথ্য বাতায়ন’ ওয়েবসাইট ভিজিট করে যাবতীয় তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয় তথ্যপ্রযুক্তি খাতের অগ্রগতি ডিজিটাল বাংলাদেশের মূল ভিত্তি। দেশে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছয় কোটির বেশি। গড়ে উঠেছে ফেসবুকভিত্তিক ব্যবসা। এর বাইরে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের একটি বড় অংশ ফ্রিল্যান্সার। দেশে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ ফ্রিল্যান্সার রয়েছেন। এর বাইরে রয়েছেন সফটওয়্যার খাতের উদ্যোক্তারা। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বড় অগ্রগতি হয়েছে নারীদের তথ্যপ্রযুক্তিতে যুক্ত করায়। সব মিলিয়ে ডিজিটাল কমিউনিকেশন বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে উদ্যোক্তা তৈরিতে, অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে যা ব্যাপক গুরুত্ব বহন করে। ডিজিটাল বিপণন প্রতিটি স্মার্টফোন শপিং ব্যাগে পরিণত করেছে। ফেসবুক, গুগল, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম মানুষের জীবনকে অনেক সহজ ও আধুনিক করেছে।

‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ একটি প্রত্যয়, একটি স্বপ্ন। আর সেটাই বাস্তবায়ন করেছে আমাদের সরকার এবং জনগণ। বিরাট এক পরিবর্তন ও ক্রান্তিকালের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এখন এগিয়ে চলছে। একুশ শতকে বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করেছিল বর্তমান সরকার এবং সফলও হয়েছে। ২০২১ সালের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালনের বছরে বাংলাদেশকে একটি ডিজিটাল অর্থনীতির দেশে পরিণত করতে সক্ষম হয়েছি আমরা। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি বিনির্মাণই ছিল আওয়ামী লীগের নির্বাচনি ইশতেহারের প্রধান বিষয়। বর্তমানে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল ভোগ করছি এবং উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি দুর্বার গতিতে। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাউন্সিলের (ইকোসক) তথ্যানুযায়ী, একটি দেশের মাথাপিছু আয় হতে হবে কমপক্ষে ১ হাজার ২৩০ মার্কিন ডলার, কিন্তু বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় তার থেকে অনেক বেশি অর্থাৎ ২ হাজার ৫৫৪ মার্কিন ডলার। মানবসম্পদ সূচকে ৬৬ পয়েন্ট প্রয়োজন হলেও বাংলাদেশ অর্জন করেছে ৭২ দশমিক ৯ পয়েন্ট।

সারা দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপনের পাশাপাশি সারা দেশে শেখ কামাল আইটি অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার এবং আইটি পার্ক স্থাপন করা হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রযুক্তি ভিত্তিক বিভিন্ন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে শিক্ষিত জনগোষ্ঠী আত্মনির্ভরশীল হচ্ছে। আগামী ২০২১ সাল নাগাদ তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ২০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল। সরকার ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে উঠছে আমাদের স্বপ্নের ও বহুল প্রত্যাশিত ডিজিটাল বাংলাদেশ। দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করবে আমাদের আগামীর ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ এটিই মূল লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে মানুষের জরুরি সেবাপ্রাপ্তি আজ সহজ হয়েছে এবং এরই মধ্যে তা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে। তাই ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন আর স্বপ্ন নয়, এটি এখন বাস্তবতা। সব মিলিয়ে নিশ্চিতভাবেই বলতে হয়, অনেকদূর এগিয়েছি আমরা। এখন প্রয়োজন সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার। সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারলে আরও অনেকদূর এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।

ইউডি/সুস্মিত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading