‘বিএটিবির বোর্ড থেকে সচিবদের দ্রুত বেরিয়ে আসা উচিত’
উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০২২ । আপডেট ১৮:৫৫
তামাক নিয়ন্ত্রণ ও সরকারের নীতিতে যাতে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না হয় সেজন্য ব্রিটিশ অ্যামেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশের (বিএটিবি) বোর্ড থেকে সচিবদের দ্রুত বেরিয়ে আসা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।
বুধবার (৩০ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এনইসি কনফারেন্স রুমে ওয়ার্ক ফর বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট ও ইনিশিয়েটিভ ফর পাবলিক হেলথ রিসার্চ অ্যান্ড কমিউনিকেশন (আইপিএইচআরসি) এ যৌথভাবে আয়োজিত ‘তামাক কোম্পানির সিএসআর : মিথ ও বাস্তবতা’ শীর্ষক এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, তামাক কোম্পানির এসব কার্যক্রম আমাকে বিব্রত করে। যেখানে সরকার প্রধান পরিষ্কারভাবে তামাকমুক্ত করার ঘোষণা করেছেন সেখানে তামাক কোম্পানির প্রচারণা মেনে নেওয়া যায় না। প্রধানমন্ত্রীর কমিটমেন্ট মানে আমাদের সবার কমিটমেন্ট। ফলে যারা তামাক নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন তারা এটা থেকে বেরিয়ে আসার সেফ এক্সিট পয়েন্ট খুঁজে বের করতে সহায়তা করুন। বিএটিবিতে সরকারের একেবারেই সামান্য শেয়ার আছে। আমি এটা প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব।
তিনি আরও বলেন, বিদেশে মানি ট্রান্সফারের বিষয়টি শুধু তামাক খাত নয় অন্যান্য খাতগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। নবম পঞ্চবার্ষিকীতে কীভাবে তামাক নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা যায় সেটা নিয়ে সবাইকে ভেবে দেখতে হবে।
সভায় মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন তামাক নিয়ন্ত্রণ গবেষক সুশান্ত সিনহা। ‘তামাক কোম্পানির সিএসআর, মিথ ও বাস্তবতা : বিএটিবি’র ১০ বছরের আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ’ শীর্ষক গবেষণার ফল উপস্থাপনের সময় তিনি বলেন, বছরে মাত্র ৬ কোটি টাকা সিএসআর ব্যয় করে ফলাও করে প্রচার করে বিএটিবি। সরকার যখন তামাক নিয়ন্ত্রণে কোনো পদক্ষেপ নেয় তখন সিএসআরে ব্যয় বৃদ্ধি করে বিএটিবি। ইতোমধ্যে বিশ্বের ৬২টি দেশ সিএসআর নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু বাংলাদেশে তামাক কোম্পানি নামে বেনামে কৌশলে তাদের সিএসআর কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী (গাইবান্ধা-১) বলেন, আমি যেসব পলিসি নিয়ে কাজ করছি সেগুলো সরকারের জন্য খুবই দরকারি হলেও এসব খাত তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। এনবিআরের কোনো কর্মকর্তা ট্যাক্স নিয়ে কথা শুনতে চায় না। আসলে রাষ্ট্র, সরকার যদি পরিবর্তন হতে না চায় তাহলে সিভিল সমাজ কোনোকিছু নিয়ে এগিয়ে যেতে পারে না। তামাকের বিরুদ্ধের আমাদের যে প্রচেষ্টা সেটা আসলে অসম যুদ্ধ। আমাদের সিদ্ধান্তে আসতে হবে প্রধানমন্ত্রী ২০৪০ সালের মধ্যে দেশকে তামাক মুক্ত করার যে ঘোষণা দিয়েছেন সেটা পূরণ করব নাকি করব না?
বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ডা. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন ভাইটাল স্ট্রাটেজিসের নাসির উদ্দিন শেখ, ঢাকা আহসানিয়া মিশনের প্রকল্প পরিচালক ইকবাল মাসুদসহ তামাক নিয়ন্ত্রণ বিশেষজ্ঞরা।
ইউডি/এআই

