সাংস্কৃতিক চর্চা থাকলে জাতি ইতিহাস ভুলবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৩ । আপডেট ২০:৩০
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ‘সাংস্কৃতিক চর্চা যদি থাকে, তাহলে সে জাতি কোনও দিন তার ইতিহাস ভুলবে না। আমাদের যে সংস্কৃতি, যে লোকসংগীত, যে সম্পদ হারিয়ে যাচ্ছে, সেগুলো আবারও সংরক্ষন করতে হবে। আমাদের ভাটিয়ালি, উত্তরাঞ্চলের গান গর্বের জিনিস। অনেক দেশের কাছে এগুলো বাংলাদেশের ইতিহাসে বিস্ময়ের জিনিস।’
বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ অডিটরিয়ামে একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘সাংস্কৃতিক স্কোয়াড’র সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পঁচাত্তরে আমরা একটি হোঁচট খেয়েছি। আমরা মুক্তিযোদ্ধারা নিজেদের গায়ে চিমটি কেটে দেখতাম আমরা বেঁচে আছি নাকি মরে গেছি। আমরা রাজাকার-আলবদরের গাড়িতে পতাকা দেখেছি, এটাও আমাদের সহ্য করতে হয়েছে। এটাও দেখেছি ইনডেমনিটি বিলের মাধ্যমে বিচারকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা এলেন এবং এ দেশ ঘুরে দাঁড়ালো। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার তিনি করলেন। বিচারের রায় একের পর এক কার্যকর হচ্ছে। বাকি যে কজন আছে, অবশ্যই তাদের ফিরিয়ে এনে ফাঁসির রায় কার্যকর করা হবে ইনশা আল্লাহ।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যখন হারিয়ে গিয়েছিলাম, অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে গেছিলাম, তখনই একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি আলোর দিশারি হয়ে আমাদের সামনে এসে দাঁড়ালো। এই সংগঠনটি আমাদের একত্র করলো, আমাদের মনের কথাগুলো তারা জানিয়ে দিলো। জাহানারা ইমাম গণ-আদালতের মাধ্যমে গোলাম আজমের ফাঁসির রায় ঘোষণা করলেন, আমাদের প্রাণের কথাটা জানিয়ে দিলেন। তারপর থেকে আমরা পিছিয়ে নেই, আমরা চলছি।’
ঘাতক দলাল নির্মূল কমিটিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের কোথায় যেতে হবে, সে জায়গা আপনারা আলোকিত করে চলবেন। আমরা সে জায়গায় যেতে চাই, বাংলাদেশ সেভাবেই এগিয়ে চলবে ইনশা আল্লাহ। আমরা কোনও উগ্রবাদকে পছন্দ করি না, জঙ্গিবাদকে এ দেশের মানুষ পছন্দ করে না। কোনও সন্ত্রাসবাদকে এ দেশের মানুষ আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয় না। সে জন্যই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।’
এ সময় একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি লেখক, সাংবাদিক শাহরিয়ার কবিরের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, মুনতাসির মামুন, সম্মেলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস, সংগীতশিল্পী ফরিদা পারভীন, চলচ্চিত্র নির্মাতা নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু, শ্যামলী নাসরিন চৌধুরীসহ আরও অনেকে।
ইউডি/এ

